বাংলাদেশ ডিজিটাল পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তর লাভ করেছে: টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

0
124

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ আজ রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তর লাভ করেছে। আমরা ইতোমধ্যেই অতীতের শতশত বছরের পশ্চাদপদতা অতিক্রম করে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে শিল্পোন্নত বিশ্বের সমান্তরালে চলার সক্ষমতা অর্জন করেছি।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বের ৮০টি দেশে বাংলাদেশ সফটওয়্যার রপ্তানি করছে। নাইজেরিয়া ও নেপালে কম্পিউটার, যুক্তরাষ্ট্রে মোবাইল রপ্তানি করছি। সৌদি আরবে আইওটি ডিভাইস রপ্তানি হচ্ছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত মোবাইল থেকে দেশের শতকরা ৮২ভাগ মোবাইলের চাহিদা পূরণ হচ্ছে।৫জি মোবাইল উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মন্ত্রী আজ ঢাকায় ওয়েবিনারে মার্চেন্ট বে লিমিটেডে এর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ডিজিটাল প্রযুক্তি নির্ভর তরুণ উদ্যোক্তারা বাংলাদেশকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমাদের নতুন প্রজম্মের ছেলে-মেয়েরা পৃথিবীকে জয় করার মেধা রাখে। দেশের শতকরা ৬৫ভাগ তরুণ জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের বড় সম্পদ।অপরদিকে জার্মান ও জাপানসহ পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশের পপুলেশন ডিভিডেন্ট এর দিকে থেকে বিপরীত চিত্র বিদ্যমান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস, ব্লকচেইন, বিগডাটা ইত্যাদি ডিজিটাল প্রযুক্তির সাথে মানুষের দক্ষতার সমন্বয় ঘটিয়েই আমাদেরকে শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।উন্নত দেশের সাথে ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রয়োগ ও ব্যবহারের ভাবনার সাথে আমাদের চিন্তাভাবনাও এক হবে না। মন্ত্রী গত এগারো বছরে ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশের অগ্রগতি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, গত জানুয়ারির পর ইন্টারনেট যোগাযোগ দ্বিগুনের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। জানুয়ারিতে দেশে একহাজার জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ ব্যবহৃত হতো, তা বেড়ে এখন ২১শত জিবিপিএসে উন্নীত হয়েছে। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে দেশে মাত্র ৮ জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ ব্যবহৃত হতো আর ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিলো মাত্র ৪০ লাখ যা ২০২০ সালে সাড়ে দশকোটিতে উন্নীত হয়েছে। ইন্টারনেট সুবিধা দেশের প্রত্যন্ত গ্রামে পেঁৗছে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের তিন হাজার আটশত ইউনিয়নে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড সংযুক্তি ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছে। দুর্গম চর, হাওর ও দ্বীপসহ অবশিষ্ট প্রায় ৭শত ৩৮টি ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ডে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ এর মাধ্যমে কিছুকিছু দুর্গম এলাকায় আমরা নেটওয়ার্ক পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছি। ৫জির জন্যও আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে আমারা পা দিয়েছি বর্তমান অবস্থা আরো বদলাবে।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক, সায়েম গ্রুপের কর্ণধার মনির হোসেন বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মার্চেন্ট বে‘র প্রতিষ্ঠাতা তুরুণ উদ্যোক্তা সায়েম আহমেদ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা, ডিজিটার প্লাটফর্ম এর মাধ্যমে সরাসরি ভুক্তাদের সাথে সংযোগ স্থাপন বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য একটি মাইল ফলক। ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি সেই সুযোগ আমাদের তৈরি করে দিয়েছে।এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতি থামানো যাবে না।

Source link