বাংলাদেশ ও পাকিস্থানের হিন্দু অনুপ্রবেশকারী ও হিন্দু নাগরিকত্বে অনড় সরকার:‌ স্পষ্ট কোবিন্দ

রাজীব চক্রবর্তী,দিল্লি: নাগরিকপঞ্জি অনুযায়ী অনুপ্রবেশ্রকারীদের চিহ্নিত করা এবং হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যেই রয়েছে। সংসদের যৌথ অধিবেশনে ‌বৃহস্পতিবার তাঁর ভাষণে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বেশ স্পষ্ট করেই এ কথা বুঝিয়ে দিলেন। তার পাশাপাশি তিনি সওয়াল করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আকাঙ্ক্ষিত ‘‌এক দেশ এক ভোট’‌–‌এর পক্ষে। পরে তৃণমূলের তরফে নাগরিকপঞ্জি, রাজ্যকে ‘‌অ্যাডভাইসরি’‌ পাঠানো, এক দেশ এক ভোট, ইভিএম, কৃষক আত্মহত্যা–‌সহ অন্তত ১২–‌১৪টি বিষয়ে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সংশোধনী চেয়ে লোকসভায় নোটিস জমা দিয়েছেন সৌগত রায়। আগামী সোম ও মঙ্গলবার সংসদের দুই কক্ষে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে আলোচনা চলবে।
বৃহস্পতিবার সেন্ট্রাল হলে সংসদের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। মোদি সরকারের আগামী ৫ বছরের পরিকল্পনা এবং তার রূপরেখা উল্লেখ করেছেন তিনি। বিগত এবং আগামী ৫ বছরের কাজকর্মের সুদীর্ঘ তালিকায় স্বভাবতই বহু বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। এবারের ভাষণে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে সন্ত্রাসবাদ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং মোদি সরকারের যাবতীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা। কিন্তু কৃষকের দুর্দশা, বেকারত্ব বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বেহাল দশা নিয়ে কোনও বাক্য ব্যয় করলেন না কোবিন্দ।
কোবিন্দ তাঁর ভাষণে বলেছেন, ‘‌জাতীয় নিরাপত্তায় বিশেষ প্রাধান্য দিয়েছে সরকার।’‌ বলেছেন, ‘‌দেশের অগ্রগতিতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অন্যতম বিষয়। দেশের কিছু অংশে অনুপ্রবেশ সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। যা বড় সমস্যা। এক্ষেত্রে নাগরিকপঞ্জি সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ।’‌ জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ও পুলওয়ামায় হামলার পর এয়ার স্ট্রাইকের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেছেন, ‘‌আমার সরকার অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করছে। সেইসঙ্গে ধর্মীয় কারণে যাঁরা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চাইছে। এক্ষেত্রে ভাষা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক পরিচিতি অক্ষুণ্ণ রেখে নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করা হবে।’‌ অর্থাৎ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে যেমন কড়া মনোভাব নিয়ে চলবে সরকার, তেমনই নাগরিকত্ব আইনের সংশোধন করে প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে পালিয়ে–আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈনদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।
‘এক দেশ এক ভোট’ পদ্ধতি চালু করার লক্ষ্যে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার কয়েক ঘণ্টা পর সেন্ট্রাল হলে ‘এক দেশ এক ভোট’–‌এর পক্ষে সওয়াল করলেন রাষ্ট্রপতিও। তাঁর কথায়, ‘‌সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের গতি অটুট রাখতে এই নীতি কার্যকর করা প্রয়োজন।’‌ তাঁর বক্তব্য, প্রতি বছর দেশের কোনও না কোনও প্রান্তে নির্বাচন হয়। ফলে একদিকে যেমন বিপুল অর্থ ব্যয় হয়, তেমনই উন্নয়নমূলক কাজ বাধা পায়। তাঁর ভাষণে গুরুত্ব পেয়েছে ‘‌তিন তালাক’‌ বা ‘‌নিকাহ হালালা’‌ প্রথার বিলোপ। কয়েক মাস আগেই মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবে ঘোষণা করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ। সেই প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন কোবিন্দ। তুলে ধরেছেন আগামিকাল আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদ্‌যাপনের বিষয়টিও।
রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ২০২২ সালে স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তিতে ‘‌নতুন ভারত’‌ উদয় হবে। কৃষকের আয় দ্বিগুণ হবে। সরলীকরণ হবে পণ্য ও পরিষেবা করের কাঠামো। বলেছেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের অর্থনীতি ৫ লক্ষ কোটি ডলারে পৌঁছে যাবে এবং ভারত পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে যাবে। বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াবে ভারত। আরও বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ ও মাওবাদী আক্রমণ বন্ধ করতে অনগ্রসর অঞ্চলে উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে। সম্ভাবনাময় ১১২টি জেলার উন্নয়ন করা হবে। এছাড়াও এবার শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। ‌‌‌

রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। ফাইল ছবি

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.