বাংলাদেশ ইসকনের ১০ জনের বিরুদ্ধে করা মামলা খারিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক|ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) চেয়ারম্যান শ্রীমৎ ভবিচারু স্বামীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে করা পিটিশন মামলা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৪ জুলাই) ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সাঈদের আদালতে এই পিটিশন মামলাটি করেন মারকাযুত তাকওয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকার পরিচালক মুফতি হাবিবুর রহমান মিছবাহ। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে মামলাটি খারিজ করে দেন।

যাদের বিরুদ্ধে মামলার করা হয় তারা হলেন- ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনসাসনেস সংঘ (ইসকন), ইসকনের চেয়ারম্যান শ্রীমৎ ভক্তিচারু স্বামী, সম্পাদক চারুচন্দ্র দাস চারী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জগৎ গুরু গৌরাঙ্গ চন্দ্র ব্রহ্মচারী, চট্টগ্রাম ইসকনের শ্রী কৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রী পাদ লিলারাজ গৌরদাস ব্রহ্মচারী, বিভাগীয় রিজিওনাল সেক্রেটারি শ্রী পাদ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী, সাধারণ সম্পাদক শ্রী পাদ দারুব্রহ্ম জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী, চট্টগ্রাম ইসকনের ফুড ফর লাইফের পরিচালক পাণ্ডপ গোবিন্দ দাস ব্রহ্মচারী, পরমেশ্বর পরমাত্মা দাস ও দারু ব্রহ্ম জগন্নাথ দাস।

!-- Composite Start -->
Loading...

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ৮ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই স্কুল চলাকালীন চট্রগ্রামে ৩০ স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে রাম কৃষ্ণ দেবতার নামে উৎসর্গকৃত খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে খাওয়ার সময়ে তাদের ‘হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, হরে রাম রাম রাম হরে হরে’-এই মন্ত্র পাঠে বাধ্য করানো হয়। সেখানে কোমলমতি শিশুদের অধিকাংশই ছিল মুসলমান।

আসামিরা জেনেশুনে ও বুঝে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এক আল্লাহর পরিবর্তে তাদের দেবতার নামে উৎসর্গকৃত খাদ্য ভক্ষণ করায়। দেব-দেবীর নাম উচ্চারণে ‘হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে হরে রাম রাম রাম হরে হরে’ শ্লোক পাঠে বাধ্য করানো হয়।

আসামিদের এসব কর্মকাণ্ড ‘পায়ে পারা দিয়ে ঝগড়া করার মতো’ উস্কানিমূলক। বাদীসহ কোটি কোটি মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে গুরুতর আঘাত। ফলে বাদী বাধ্য হয়ে আদালতের দারস্থ হয়ে ন্যায়বিচার প্রার্থনায় মামলা দায়ের করতে বাধ্য হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট শওকত আলী হাওলাদার বলেন, আমরা আদলতে ফাইল পিটিশন করার পর আবেদন আদালত গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দেবেন বলে আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু রাষ্ট্রীয় আইনের বিধান মোতাবেক বিজ্ঞ আদালত যা সঠিক মনে করেছেন তা করেছেন। রাষ্ট্রীয় অনুমতি না থাকায় শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞ আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে। তবে আদালত চাইলে মামলাটি আমলে নিতে পারতেন।

মামলার বাদী মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ বলেন, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের দেশ। এদেশে শত বছর থেকে সব ধর্মের মানুষ সহাবস্থান করে আসছে। কিন্তু ইসকন নামের সংগঠন কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্কুলে মুসলিম কোমলমতি শিশুদের প্রসাদ খাইয়ে (যাহা মুসলমানদের জন্য হারাম) এবং জোর করে তাদের দেবদেবীর নামে মন্ত্র পাঠ করিয়ে দেশের সম্প্রীতি নষ্ট করেছে।

তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষ সহাবস্থানে থেকে নিজ নিজ ধর্ম কর্ম করবে এটাই আমরা চাই। ইসকন সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে যে কাজটি করেছে আমি মনে করি এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্যে করেছে। তাই বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং সমাধানের জন্য বিচার বিভাগের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। তবে বিজ্ঞ আদালত উপযুক্ত মনে করেনি বলে মামলাটি গ্রহণ করেনি। আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে চাই।

উল্লেখ্য, ইসকন কর্তৃক শ্রীকৃষ্ণ মন্দির এর ফুড ফর লাইফ এর উদ্যোগে গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের প্রায় ৩০টি স্কুলে কৃষ্ণ প্রসাদ বিতরণ কর্মসূচি পালিত হয়। প্রসাদ বিতরণের সময় মুসলিম শিশু কিশোরদের দেব-দেবীর নামে তৈরিকৃত খাবার খাওয়ানো এবং হিন্দু ধর্মের মন্ত্র পড়াতেও বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনার ভিডিও প্রকাশ হলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.