বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামী সকলকে স্বীকৃতি দেয়া উচিত : মোস্তফা

0
315

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃতি করে এক শ্রেনীর তোষামদকারী ও বিকৃত বুদ্ধিজীবী লাখো শহীদের আত্মদানকে অমর্যাদা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।

তিনি বলেন, যতদিন স্বাধীনতা সংগ্রাম আর সশস্র মুক্তিযুদ্ধের সকল ঘটনাগুলোকে সঠিকভাবে উপস্থাপন না করা হবে ততদিন জাতি হিসাবে আমরা মাথা উচু করে দাড়াতে পারবো না। একদিনে বা একটি ঘোষনার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ স্বাধীন হয় নাই। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পূর্বে স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতা আন্দোলন-মুক্তযুদ্ধ সকল ঘটনার বাকে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়া উচিত। ইতহাসকে আপন গতিতে চলতে দেয়া উচিত। ইতিহাসের গতিরোধ করার চেষ্টা কখনো শুভ নয়।

শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) তোপখানার নির্মল সেন মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তিন বীর সেনানী শেখ ফজলুল হক মনি, আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুল কুদ্দুস মাখন এবং বিজয় দিবসের স্মরণে বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ একদিনে শুরু হয়নি। বাংলার জনগনকে মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়ে মুক্তিযুদ্ধের দিকে ধাবিত করতে ইতিহাসের বাকে অনেকরই অবদান রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ ছিল এশটি দীর্ঘ অথচ ধারাবাহিক আন্দোলনের ফসল। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীসহ সকলের অবদানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসকে বিশেষ ব্যক্তি, গোষ্টি বা দলের একক অবদান দাবী করে প্রকারান্তরে ইতহাসকে বিকৃতি করা হচ্ছে। এভাবে শাসকগোষ্টি গত ৪৮ বছরে ইতিহাসের স্বাভাবিক গতিপথকে বাঁধাগ্রস্থ করেছে। ফলে আজ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্ত চলছে। যে যার অবস্থান থেকে ইতিহাস নির্মানের চেষ্টা করছে যা জাতি হিসাবে আমাদের লজ্জিত করছে।

ন্যাপ মহাসচিব বলেন, স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতা এবং চ’ড়ান্ত লাড়াই সশস্র মুক্তিযুদ্ধ এই দীর্ঘ পরিক্রমায় সকলের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে ব্যর্থ হলে আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। মনে রাখতে হবে ক্ষমতা প্রয়োগ করে অপচেষ্টা কখনো শুভ ফল বয়ে আনবে না। ইতিহাসকে আপন গতিতে চলতে দিতে হবে অন্যতায় ইতিহাসের কাঠগড়ায়ই একদিন আমাদের বিচার হবে।

তিনি আরো বলেন, জাতি হিসাবে আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। আর শ্রেষ্ঠ অর্জনকে যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যর্থ হলে ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না। অগ্নিঝরা মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস নির্মান সকলের দায়িত্ব। নির্মোহভাবে ইতিহাস নির্মানে ব্যর্থ হলে ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না। স্বাধীনত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় যার যতটুকু অবদান তাঁকে তার স্বীকৃতি দেযা আজ সময়ের দাবী।

জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সভাপতি এম.এ জলিলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বুদ্জিীবী ও সাবেক রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক। আলোচনায় অংশগ্রহন করেন বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদের সভাপতি লায়ন মো. গনি মিয়া বাবুল, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ নেতা আ.স.ম মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ জাসদ নেতা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগর সভাপতি মো. শহীদুননবী ডাবলু, আওয়ামী প্রজন্ম লীগের সাধারণ সম্পাদক রোকনউদ্দিন পাঠান, নারীনেত্রী লিজা রহমান, সংগঠনের সহ সভাপতি জাহানারা বেগম, সাধারণ সম্পাদক সমীর রঞ্জন দাস, দপ্তর সম্পাদক কামাল হোসেন প্রমুখ।

সভাপতির ভাষণে এম.এ জলিল বলেন, একজন ডাক্তার ভুল করলে একজন রুগী মারা যায়। আর একজন নেতৃস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ভুল করলে জাতি বিপথগামী হয়। তাই আমি বলবো অতীত ভুল-ভ্রান্তি ভুলে গিয়ে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে তাদেরকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর মত ৬৯, ৭০, ৭১ সনে যেভাবে ঐক্য করেছিল সেই একইভাবে আবার ঐক্য করার মাধ্যমে জাতি পাবে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত উন্নত পরিবেশের বাংলাদেশ।

মতামত

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে