বাঁশখালী বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ৫ জন নিহত

0
69

মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন, আনোয়ারা প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনায় এস আলম কোম্পানির নির্মাণধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষে ৫ শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছে অন্তত শতাধিক শ্রমিক।

নিহতরা হলেন, বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নের পূর্ব বড়ঘোনা ৮ নং ওয়ার্ডের মরহুম মাওলানা আবু ছিদ্দিক এর পুত্র হাফেজ মাহমুদ রেজা খান (১৮), কিশোরগঞ্জ জেলার মিতামঈন থানার শাহেদ নগর এলাকার মুহাম্মদ ফারুক মিয়ার পুত্র হাফেজ মুহাম্মদ রাহাতুল ইসলাম (২২), চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবন নগরের অলিউল্লাহ’র পুত্র মুহাম্মদ রনি (২৩), কুমিল্লা জেলার চাঁদপুর থানার মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের পুত্র মুহাম্মদ শুভ (২৬), নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলার আদর্শ গ্রামের আব্দুল মতিনের পুত্র মুহাম্মদ রায়হান(২৫)।
আহতরা হলেন, মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ (২১), মোঃ রাহাত(৩০), মিজান (২২), মুহাম্মদ মুরাদ (২৫), মুহাম্মদ শাকিল(২৩), মুহাম্মদ কামরুল (২৬), মাসুম আহমদ (২৪), আমিনুল হক (২৫), মুহাম্মদ দিদার (২৩), মুহাম্মদ ওমর (২০),ও মোঃ অভি(২২) রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১১ জন আহত শ্রমিকের নাম জানা গেছে।

তাছাড়া এসময় গণ্ডামারা ফাঁড়ির ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, মুহাম্মদ ইয়াসির (২৪), আব্দুল কবির (২৬), ও আসাদুজ্জামান (২৩)।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ১০ টার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রজেক্ট কর্তৃপক্ষ শ্রমিক মাসিক বেতন দুই তিন মাস পর্যন্ত বন্ধ করে রাখা, পবিত্র মাহে রমজানে তারাবীহ ‘র নামাজ আদায় করতে বাঁধা ও ইফতারের সময় রোজাদারদের হাত থেকে ইফতারি ও পানি কেঁড়ে নেওয়া অভিযোগ করে শ্রমিকরা বলেন, আমরা রমজান মাসে সারাদিন রোজা রেখে একটু ইফতারের জন্যে পানি পান করতে গেলে আমাদের হাত চায়়়নারা পানি কেড়ে নেয়, এবং তারাবীহ’র নামাজ পড়়ার জন্যে সময় চেয়েছি তাও দেয়নি,,এমনকি আমাদের কয়েকজনকে নামাজ পড়াবস্থায়় পিছনে লাথি মেরে চায়নারা ফেলে দিয়েছে বলেও শ্রমিকদের অনেকেই অভিযোগ করেন। আজকে পুলিশরা প্রজেক্ট এলাকার বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরিয়ে দিয়়ে হঠাৎ শ্রমিকদের উপর এলোপাথাড়ি গুলি বর্ষণ করে এতে পাঁচ শ্রমিক নিহত হয়।

আরো অন্তত শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছে বলেও শ্রমিক ও প্রত্যক্যদর্শীরা জানান। এ ব্যাপারে বাঁশখালী থানার ওসি (তদন্ত) আজিজুল ইসলাম বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে পুলিশের দাবি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতর বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা আগুন ধরিয়ে দেন বলে জানান।

আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।৪টি মরদেহ বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.মো.শফিউর রহমান মজুমদার।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শীলব্রত বড়ুয়া বলেন, বাঁশখালী গণ্ডামারা-পশ্চিম বড়ঘোনা কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পুলিশ- শ্রমিকদের সংঘর্ষে আহতদের কয়েকজনকে চমেক হাসপাতালে আনা হয়েছে, এদের মধ্যে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার আদর্শ গ্রামের আব্দুল মতিনের পুত্র মুহাম্মদ রায়হান (২৫) নিহত হয়েছে।এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে বাঁশখালী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল কবির এর সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বেশি ব্যস্ত আছেন বলে জানান।