বর্জ্য মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এসডো-র জিরো ওয়েস্ট পদক্ষেপ

0
87

ডেস্ক রিপোর্ট :: বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলো মোকাবেলা করতে জিরো ওয়েস্ট জীবন যাপনের কোনো বিকল্প নেই।সম্পূর্ণ নতুন প্রকল্প হিসেবে বাংলাদেশের কমিউনিটিগুলোতে জিরো ওয়েস্টের ধারণা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, জনসচেতনতা এবং কমিউনিটির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও এই মূহুর্তে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিশেষজ্ঞ, নীতি নির্ধারক এবং সাংবাদিকরাও এটিকে এই মূহুর্তে প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

বর্জ্য মুক্ত কমিউনিটি গঠনের অংশ হিসেবে কমিউনিটির লোকজন, সাংবাদিক, নীতি নির্ধারক এবং অন্যান্য অংশীদারদের জিরো ওয়েস্ট ধারণার সাথে পরিচিত করতে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন – এসডো ধারাবাহিকভাবে বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এসডো দুটি কমিউনিটি কনসালটেশনের আয়জন করেছে। যার একটি গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রংপুর সিটি কর্পোরেশনের আর সি সি আই পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে এবং অপরটি গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি উচ্চবিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এই কনসালটেশনের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বর্জ্য মুক্ত কমিউনিটি গঠনে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় এসডো ১৬ ফেব্রুয়ারি রংপুর জেলার আর ডি আর এস ভবনে সাংবাদিকদের নিয়ে একটি মিডিয়া ওরিয়েন্টেশনের আয়োজন করে যেখানে তাদেরকে পুরো প্রকল্পটি নিয়ে একটি ধারণা দেওয়া হয়।

আর সি সি আই পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত কমিউনিটি কনসালটেশনে মো: নজরুল ইসলাম, নগর পরিকল্পনাবিদ, রংপুর সিটি কর্পোরেশন বলেন, এসডো যদি ২৫ নং ওয়ার্ডে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে তাহলে রংপুর সিটি কর্পোরশন অনন্যা ওয়ার্ডগুলোতেও এই বর্জ্য বাবস্থাপনা পদ্ধতি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

রংপুর সিটি কর্পোরশনের ২৫ নং ওয়ার্ডের বিশিষ্ট প্রবীণ নাগরিক শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমাদের উচিত কিছু মানুষকে একত্র করে জৈব বর্জ্য পৃথকীকরণ সম্পর্কে জানানো এবং তাদেরকে জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্টারের মাধ্যমে জৈবসার তৈরির ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেওয়া ।”

১৪ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত কমিউনিটি কনসালটেশনের সম্মানি অতিথি, বেতগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি মো: এনামুল হক বলেন “জৈবসার তৈরী করতে হলে আমাদের জৈব বর্জ্যগুলো রাখতে হবে আর অপচনশীল বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে দিতে হবে। পরিবেশ রক্ষার্থে এটা খুব দরকার। এছাড়া সার হলে আমাদের আর্থিক উন্নয়ন হবে।”

“আমাদের আনাচে কানাচে ফেলে দেয়া বর্জ্যের মাঝেই লুকিয়ে আছে আমাদের সম্পদ” বলে মন্তব্য করেন বেতগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো: কামরুজ্জামান প্রামানিক। তাছাড়া তিনি এসডোর এই কার্যক্রমের সাথে সরাসরি যুক্ত হবার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।”

এসডোর মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন এই দুই কনসালটেশনের উন্মুক্ত আলোচনা পর্বের সঞ্চালনা করেন এবং অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নের উত্তর দেন। অনুষ্ঠানের অংশগ্রহণকারী সকলে এসডোর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং এই প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও কিছু পরামর্শ প্রদান করেন। তিনি বলেন “সব বর্জ্য একসাথে ফেললে তা ময়লা, কিন্তু আলাদা করে রাখলে তা সম্পদে পরিণত করা সম্ভব ।”

মিডিয়া ওরিয়েন্টেশন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির কর্মশালায় সাংবাদিকদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিলো উল্লেখযোগ্য। তারা সকলেই অনুষ্ঠানের সকল কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ সাংবাদিক সদরুল আলম দুলু বলেন “এসডো কর্তৃক আয়োজিত এ সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রকল্প সাংবাদিকদের উদ্বুদ্ধ করবে সকল প্রকার গৃহস্থালি বর্জ্য যে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পদে পরিণত করা যায় সে তথ্য সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে।”

মিডিয়া ওরিয়েন্টেশনের সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলার জেলা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জনাব মো: গোলাম রব্বানী । তিনি অংশগ্রহণকারী সকলের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন।

এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা বলেন “বর্জ্যকে সম্পদের পরিণত করতে পারলে আমরা আমদের অনেক সমস্যারই সমাধান করতে পারবো। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে বর্জ্য হতে জৈবসার তৈরির এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সুফল বয়ে আনবে। সুচিন্তিত লেখনীর মাধ্যমে জনগণের কাছে বর্জ্য মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় প্রতিষ্ঠা করতে সাংবাদিকদের অনেক বড় ভূমিকা পালন করতে হবে।“

এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এসডোকে সহযোগিতা করছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, রংপুর সিটি কর্পোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, গায়া এবং পিএসএফ।

Print Friendly, PDF & Email

Source link