বরিশালে ইউএনও’র বিরুদ্ধে মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ – Corporate Sangbad

74


কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক : বরিশাল সদরের ইউএনও মু‌নিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত করে এক মাসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

জেলার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মাসুম বিল্লাহ মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন।

এর আগে রোববার বেলা ১১টার দিকে দুই মামলার আবেদন করেন বরিশালের প্যানেল মেয়র-২ রফিকুল ইসলাম খোকন ও সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা বাবুল হালদার।

গত সপ্তাহের বুধবার (১৮ আগস্ট) রাতে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দল, আনসার ও পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক। ওই ঘটনায় ইউএনও মুনিবুর রহমান গুলিবর্ষণ করেন বলে অভিযোগ আছে।

ঘটনার পর ইউএনও নিজে এবং কোতোয়ালী থানার এসআই শাহজালাল মল্লিক বাদী হয়ে বিসিসি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহকে প্রধান আসামি করে ৬০২ জনের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা করেন। এ দুই মামলায় এরই মধ্যে এক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতাসহ ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ রোববার গ্রেফতারকৃত আসামিদের জামিন আবেদন করা হলেও তা নামঞ্জুর করেন আদালত।

মামলা দুটির বিবরণে বলা হয়েছে, বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য শহরের বিভিন্ন অলিতে-গলিতে টানানো ব্যানার, ফেস্টুন নামিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ শুরু করে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। গত বুধবার (১৮ আগস্ট) রাতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নগরের ২৩নং ওয়ার্ডস্থ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের বিভিন্ন ব্যানার-ফ্যাস্টুন অপসারণকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে আনসার সদস্যরা তাতে বাধা দেয়। বিষয়টি সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাসের কাছ থেকে মোবাইলে জানতে পারেন সিটি মেয়র। পরে তিনি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হন। এ সময় মেয়র নিজের পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান উত্তেজিত হন এবং ষড়যন্ত্রমূলকভাবে পরিকল্পনা অনুযায়ী মেয়রসহ তার সঙ্গে থাকা সকলের ওপর গুলিবর্ষণ করেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হুকুমে আনসার সদস্যরা মেয়রকে খুন করার উদ্দেশ্যে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি শর্টগান দিয়ে গুলি করতে থাকে।

পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিতিরা মানবপ্রাচীর তৈরি করে মেয়রকে রক্ষা করে গাড়িতে উঠিয়ে দেন। সেই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সিটি করপোরেশনের স্টাফ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হন। তখনও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনসার সদস্যদের তাদের ওপরও গুলি করার নির্দেশ দেন। এরপর পুলিশ এসে আওয়ামীলীগ নেতাদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

গুলিবর্ষণ ও পুলিশের লাঠিচার্জে ৫০ জন আহত, আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের মোটরসাইকেল ভাংচুর ও একশত গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করেছেন বলে মামলায় দাবি করা হয়।

এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমানের বাসায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হামলা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় করা দুটি মামলায় বরিশালে গ্রেপ্তারকৃত ২১ জনের জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আদালত।

বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক মাসুম বিল্লাহ তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত বুধবার (১৮ আগস্ট) রাতে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে সাঁটানো ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ ও ইউএনও মুনিবুর রহমান বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন। ওই মামলায় ৬০২ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বরিশালের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে। মামলা দায়েরের পর থেকে আওয়ামী লীগের বেশকিছু নেতাকর্মী আত্মগোপনে আছেন।



Source link