বন্দরের সচিব সেজে ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ধরা

90


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ‍পুলিশ জানিয়েছে, বন্দরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ওই প্রতারকসহ তিনজনের একটি সিন্ডিকেট কয়েকজনের কাছ থেকে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা পুলিশের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর চান্দগাঁও থেকে সেকান্দর আলী (৫৫) নামে ওই প্রতারককে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। তার বাসা নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায়।

নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারের মুরগীহাটা লেনের চা-দোকানি আবুল কাশেমের অভিযোগ- সেকান্দর, নুর মোহাম্মদ এবং আরও একজন প্রতিদিন তার দোকানে চা খেতে যান। নুর মোহাম্মদ সেকান্দরকে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব হিসেবে পরিচয় করে দেন। এভাবে ঘনিষ্ঠতার এক পর্যায়ে আবুল কাশেম তার ছেলেকে বন্দরে একটি চাকরি দেওয়ার আবদার করেন। দুই তিন দিন পর তারা আবার দোকানে চা খেতে গিয়ে জানায়, ১৫ লাখ টাকা দিলে কাশেমের ছেলের বন্দরে চাকরি হবে।

তাদের কথায় বিশ্বাস করে ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর রিয়াজউদ্দিন বাজারের মদিনা হোটেলে বসে কাশেম তাদের হাতে সাড়ে তিন লাখ টাকা দেন। ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি একইস্থানে বসে আরও সাড়ে ১১ লাখ টাকা দেন। কিন্তু এরপর মোবাইল বন্ধ করে তিনজন উধাও হয়ে যান। বিভিন্নভাবে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে বুধবার রাতে তিনি কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন সারাবাংলাকে বলেন, ‘আবুল কাশেম বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপর তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, প্রতারক চক্র একইভাবে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আরও কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আমরা তথ্য পেয়েছি, সেকান্দর চক্র জনৈক শুভ্র সাহা ও সুমা বণিকের কাছ থেকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা করে ১৩ লাখ এবং গৌরব সূত্রধরের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকাসহ মোট ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।’

আবুল কাশেমের মামলার সূত্র ধরে সেকান্দরকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওসি নেজাম বলেন, ‘সেকান্দরকে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সাজিয়ে গত পাঁচ-সাত বছর ধরে তারা প্রতারণা করে আসছে। চাকরি দেওয়ার নামে অগ্রিম টাকা নেয়। ইন্টারনেট থেকে ভুয়া নিয়োগপত্র প্রিন্ট করে সেটি দেয়। আবার ভুয়া পুলিশ ভেরিফিকেশনের চাহিদাপত্র ডাকযোগে থানায় পাঠায়। পুলিশও এই প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে বর্ণিত ঠিকানায় ভেরিফিকেশনের জন্য গেছে, এমন ঘটনাও আছে। তারা শুধু চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করে না, বন্দরের নিলামযোগ্য মালামাল নিলামে পাইয়ে দেওয়ার নামেও মানুষের কাছ থেকে টাকাপয়সা হাতিয়ে নেয়।’

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম





Source link