বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের ফাঁসি কার্যকর

0
369

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। ঢাকার জেলার মাহবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আবদুল মাজেদের ফাঁসিই এই কারাগারের প্রথম ফাঁসি।

এর আগে রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে কারাগারে প্রবেশ করেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা। এছাড়া কারাগারে প্রবেশ করেন কারারক্ষী, জেলার, সিনিয়র জেল সুপার, ডেপুটি জেলার, সিভিল সার্জন। কারাগারের বাইরে তিনটি অ্যাম্বুলেন্সও রাখা হয়েছে।

কারাসূত্রে জানা যায়, জল্লাদ শাহজাহান, সহকারী মনির, সিরাজসহ ১০ জনের একটি দল আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করেন। জল্লাদ শাহজাহান বঙ্গবন্ধুর অন্য পাঁচ খুনির ফাঁসিও কার্যকর করেন।

এর আগে গত বুধবার রাতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে পাঠানো প্রাণভিক্ষা খারিজের চিঠি পৌঁছায় কারাগারে। তখনই ফাঁসি কার্যকরের ব্যবস্থা নিতে শুরু করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ।

পরদিন বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আবদুল মাজেদের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। প্রাণভিক্ষার আবেদন বাতিল হয়ে যাওয়ায় ফাঁসির আদেশ কার্যকরে আর কোনো বাধা থাকল না। এখন পরবর্তী প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তার ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হবে।’

সবশেষ গতকাল শুক্রবার কারাগারে আবদুল মাজেদের সঙ্গে তার স্ত্রী সালেহা বেগম, স্ত্রীর বোন ও ভগ্নিপতি, ভাতিজা ও একজন চাচাশ্বশুরসহ মোট পাঁচজন দেখা করে আসেন।

প্রায় দুই দশক ধরে ভারতে পালিয়ে থাকার পর দেশে ফিরে গত ৭ এপ্রিল ভোরে গাবতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ। পরে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এরপর মাজেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে