‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়ার বক্তব্যের প্রত্যক্ষ সাক্ষী আমি’

0
3995

ডেস্ক রিপোর্ট : :   বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তৎকালীন উপ-সেনা প্রধান জিয়াউর রহমান কী বলেছিলেন তার প্রত্যক্ষ সাক্ষী তিনি বলে দাবি করেছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দলের চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন মেজর হাফিজ।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান একজন রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য যাকে বীরউত্তম খেতাব দেয়া হয়েছে। তাকে বঙ্গবন্ধুর খুনি হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

মেজর হাফিজ এ সময় বলেন, ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে আমি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলাম। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার খবর যখন আমরা পেলাম, ৩২ নম্বরে হামলা হয়েছে। তখন সকাল সাড়ে ছয়টা বাজে, তখনও আমাদের গাড়ি আসেনি তাই আমি এবং আমার কমান্ডিং অফিসার কর্নেল সাফায়াত জামিল হেঁটেই অফিসের দিকে রওনা দেই। পথেই পড়ে জিয়াউর রহমানের বাড়ি, তিনি তখন সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান ছিলেন। আমরা দুজনই তখন আলাপ করলাম, আমরা দুজনই মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়ার ‘জেড ফোর্সে’ ছিলাম। তাই জিয়াকে বিষয়টি জানিয়ে যাই। সিদ্ধান্ত মোতাবেক জিয়ার বাসায় ঢুকলাম, কলিংবেল বজালাম, তিনি বেরিয়ে এলেন, পায়জামা ও গেঞ্জি পরা, গলায় টাওয়েল ঝুলানো, মুখে সাবান লাগানো। তিনি এসে বললেন, ‘হোয়াট হ্যাপেন’। কর্নেল সাফায়াত উত্তর দেন ‘স্যার, প্রেসিডেন্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হ্যাজ বিন কিল্ড।’

মেজর হাফিজ বলেন, জিয়াউর রহমানকে কী অভিযুক্ত করা হয়, আর তিনি কী জবাব দিয়েছিলেন তার সাক্ষী তো আমি (হাফিজ)। জিয়া উত্তর দিয়েছিলেন, ‘উই আর সোলজার, আমরা সংবিধানকে সমুন্নত রাখবো, লেট হ্যাজ আপ এ হোল্ড দ্যা কনস্টিটিউশন, গো অন গেট ইউর ট্রুপ্স রেডি।’ এমন একজন সৈনিক, এমন একটা লোমহর্ষক ঘটনার সময় সংবিধান সমুন্নত রাখার কথা বলছেন। সেই ধরনের ব্যক্তিকে বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে জড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার তো বিচার হয়েছে, কেউ তো বলেননি জিয়াউর রহমান হত্যার সঙ্গে জড়িত। মূলত সরকার দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে। জাতিকে দেবার কিছুই নেই, আন্তর্জাতিক ভাবে তাদের কেলেঙ্কারি প্রতিদিন ফাঁস হচ্ছে। জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করছে সরকার, উল্লেখ করেন মেজর হাফিজ।

অনেক ঘটনা দেখেছি কিন্তু এ ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হবো তা কখনও ভাবিনি মন্তব্য করে হাফিজ বলেন, জিয়ার ‘বীরউত্তম’ খেতাব কেড়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হচ্ছে। স্বাধীনতার ঘোষণাকে বর্তমান সরকার অপরাধ হিসেবে দেখে বলেই এত ক্ষোভ।

হাফিজ অবাক হয়ে প্রশ্ন করে বলেন, কোনো রাজনৈতিক নেতার যে ঘোষণা দেয়ার কথা তা তিনি (জিয়া) দিয়েছেন, এটাই তার অপরাধ?

এ সময় তিনি দাবি করেন, কে মন্ত্রী ছিল আর কে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী ছিলেন তা কেউ মনে রাখবে না, জিয়ার নাম মনে রাখবে ইতিহাস।

বর্তমান সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে জিয়াকে জড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন। জিয়া কোন ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলেও দাবি তার।

ক্ষোভ নিয়ে মেজর হাফিজ বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল-জামুকা’র তো এগুলো কাজ না, তারা দেখবে কোন মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাবে, কে পাবে না। স্বাধীনতার খেতাব বীর উত্তম, বীর বিক্রম কে পাবেন কে পাবেন না, রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান কি পদক পেলেন বা পদক কেড়ে নেবেন এ কথা বলার এখতিয়ার তারা রাখেন?

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তুলে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, কোথায় জিয়াউর রহমান আর কোথায় এগুলো!

Print Friendly, PDF & Email

Source link