ফ্রেশ ও গ্লোয়িং স্কিন পেতে ডায়েটে রাখুন পুষ্টিকর পানীয়

105


‘কী ব্যাপার! তোমার স্কিন তো অনেক গ্লোয়িং আর ফ্ললেস হচ্ছে!’ এরকম কথা কে না শুনতে চায়। এই ব্যস্ত জীবনে সবাই এখন স্কিন নিয়ে কনসার্ন। স্কিন সুন্দর রাখার জন্য আমাদের কতই না চেষ্টা। তবে স্কিন কেয়ারের পাশাপাশি যদি ডায়েটে পুষ্টিকর পানীয় থাকে, তাহলে কিন্তু ফ্রেশ ও গ্লোয়িং স্কিন পাওয়া সহজ হয়। হোমমেড ড্রিংকস বা স্মুদি পানের সাথে সাথে স্কিনের পরিবর্তনটাও খুব তাড়াতাড়ি নজরে আসে। তবে পুরো সপ্তাহে রিচ ফুড খেয়ে একদিন এসব জুস পান করলে কিন্তু হবে না। নিয়মিত ডায়েটে রাখতে হবে পানীয়। তাহলে চলুন দেরি না করে আমাদের হাতের কাছে থাকা সহজলভ্য কিছু ফল, সবজি দিয়ে বানানো জুস এবং স্মুদির রেসিপি জেনে নেই।

ফ্রেশ ও গ্লোয়িং স্কিন পেতে জুস নাকি স্মুদি?

জুস বা স্মুদি এক মনে হলেও আসলে কিন্তু ভিন্ন। দুটোতেই বেসিক ইনগ্রেডিয়েন্টস হিসেবে ফ্রেশ ফ্রুটস এবং ভেজিটেবলস থাকে। কিন্তু জুসে ফল-সবজির পাল্প থেকে শুধু রস নেওয়া হয় যাতে ফাইবার থাকে না। আর স্মুদিতে পুরো ফ্রুটস ও ভেজিটেবলস ব্লেন্ড করা হয়। এতে পুরো ফাইবারটাই শরীরে প্রবেশ করে। তবে পুষ্টি কিন্তু দুটোতেই আছে। সুতরাং চয়েস অনুযায়ী জুস বা স্মুদি ডায়েটে রাখতে পারেন। এতে ডায়েটে একঘেয়েমিও কমবে।

ডায়েটে যেসব জুস রাখবেন

অ্যালোভেরা জুস

অ্যালোভেরা আমাদের সবার কাছেই বেশ পরিচিত। রূপচর্চার জন্য কমবেশি অনেকের বাসায় এখন এই গাছ দেখা যায়। রূপচর্চার পাশাপাশি অ্যালোভেরার জুসও কিন্তু বেশ উপকারী। কোলাজেন প্রোডাকশন বাড়াতে, স্কিনের ব্লেমিস কমাতে, স্কিনকে হাইড্রেটেড রাখতে, এমনকি একনে প্রন স্কিনে দারুণ কাজ করে এই পানীয়।

যা যা লাগবে

বড় ১টি অ্যালোভেরার পাতা, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, ১ গ্লাস পানি

aloe vera juice

যেভাবে বানাবেন

১। পাতার যে কোনো এক সাইডের অংশ কেটে ভালো করে ধুয়ে জেল বের করে নিন।
২। ব্লেন্ডারে জেল ও লেবুর রস মিশিয়ে ব্লেন্ড করুন, একটু পর পর পানি মিশিয়ে নিন।
৩। ছাঁকনির সাহায্যে ছেঁকে নিন।

সকালের ডায়েটে প্রতিদিন রাখুন অ্যালোভেরার জুস। হেলদি ডায়েটে এটি হতে পারে বেশ স্বাস্থ্যকর একটি পানীয়।

মিন্ট ও করিয়েন্ডার জুস

প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই দুটি উপাদান ব্লাড পিউরিফাই করে। সেই সাথে শরীর থেকে টক্সিন দূর করে। ফলে স্কিন হয় উজ্জ্বল।

যা যা লাগবে

১/২ কাপ করে মিন্ট এবং করিয়েন্ডার/ধনিয়া পাতা, লেবুর রস ১/২ চা চামচ, পরিমাণমত লবণ, ১ কাপ পানি

যেভাবে বানাবেন

সবগুলো উপাদান ভালো করে ব্লেন্ড করে ছেঁকে নিন। বানানোর ১৫ মিনিটের মধ্যে পান করুন। জুসটি পান করার ৩০ মিনিট না হওয়া পর্যন্ত অন্য কিছু খাবেন না।

বীট ও গাজরের জুস

খুব পরিচিত সালাদ আইটেম বীট ও গাজর। এ দুই উপাদান দিয়ে যখন জুস বানানো হয় তখন সেটি আরও কার্যকর হয়। এতে আছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন। স্কিন পিগমেন্টেশন প্রিভেন্ট করে ইভেন টোন, গ্লোয়িং স্কিন দেয় এই জুস। আরেকটু ফ্লেভার যুক্ত করতে চাইলে এতে অল্প পরিমাণ আদা যুক্ত করতে পারেন।

যা যা লাগবে

১/২টি মিডিয়াম সাইজের বীট, ৪টি ছোট সাইজের গাজর, ১/৪ ইঞ্চি আদার টুকরা, ১/২ চা চামচ লেবুর রস, ১/২ কাপ পানি

যেভাবে বানাবেন

ভালো করে ধুয়ে গাজর ও বীট এর খোসা ফেলে ছোট ছোট টুকরা করে নিন। তারপর ব্লেন্ড করে ছেঁকে নিন।

carrot juice

আনারের জুস

অনেকে ফল হিসেবে আনার খেতে না চাইলেও সুন্দর স্কিনের জন্য কিন্তু এই ফলটি খাওয়া জরুরি। সরাসরি ফল না খেলে জুস বানিয়ে নিতে পারেন। এটি স্কিন হাইড্রেটেড রাখে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি প্রোপার্টিজ একনি কমিয়ে ত্বককে করে উজ্জ্বল।

যেভাবে বানাবেন

একটি বড় আনার নিয়ে খোসা ছাড়িয়ে ব্লেন্ড করে নিন। পানি অল্প মেশাতে হবে কনসেনট্রেশন বুঝে। পরে ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে পান করুন।

আঙুরের জুস

আঙুর ফলকে স্কিনের জন্য মিরাকল বলা হয়। স্কিনের দাগ দূর করা, ইভেন টোন স্কিন, অ্যান্টি এজিং, সান প্রটেকশন, সফট ও ক্লিয়ার স্কিনের জন্য আঙুরের উপকারিতার শেষ নেই। এতে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, নিউট্রিয়েন্টস থাকার কারণে এটিকে সুপার ফুড হিসেবে গণ্য করা হয়।

যেভাবে বানাবেন

আঙুরের সাথে অল্প পানি মিশিয়ে ব্লেন্ড করে ছেঁকে নিয়ে পান করুন।

grapes juice

স্পিনাচ ও আপেল জুস

উপাদানের নাম শুনে কিছুটা অবাক হলেও বিভিন্ন দেশে কিন্তু এই জুসটি বেশ পরিচিত। কারণ এর স্বাস্থ্য উপকারিতাও অনেক। বয়সের সাথে সাথে স্কিনের তারুণ্য হারিয়ে রিংকেলস, ডার্ক প্যাচ এগুলো দেখা যায়। এ ধরনের সমস্যা কমাতে এই জুসটি বেস্ট। স্কিনের ব্রাইটনেস বাড়াতে আপেলের জুড়ি নেই। শুধু তাই না, কোলাজেন বাড়িয়ে স্কিনকে ইয়ুথফুলও রাখে এই জুসটি।

যা যা লাগবে

২ কাপ কুচানো পালংশাক, ১টি আপেল, ৩/৪ কাপ পানি, ১টি সেলেরি (অপশনাল)

যেভাবে বানাবেন

সব উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে ব্লেন্ড করে ছেঁকে নিয়ে পান করুন। যদি পালংশাক যুক্ত করতে না চান তাহলে শুধু আপেলের সাথে একটু দারুচিনি গুড়া মিশিয়ে জুস বানিয়ে নিতে পারেন।

ডায়েটে যেসব স্মুদি রাখবেন

ওটমিল-বানানা স্মুদি

এই স্মুদিটি বানানো বেশ সহজ। দুটি উপাদানই প্রচুর ফাইবার এবং ভিটামিন মিনারেলস সমৃদ্ধ। ওটমিল স্কিনের এক্সেস অয়েল প্রোডাকশন কমায় এবং ইম্যুনিটি সিস্টেম ডেভেলপ করে। এনার্জি বুস্টার হিসেবে এটি ব্রেকফাস্টে রাখতে পারেন।

oatmeal banana juice

যা যা লাগবে

১/৪ কাপ ব্লেন্ড করা ওটমিল, ১/৪ কাপ দুধ, ১টা পাকা কলা, ১চা চামচ দারুচিনি গুড়া

যেভাবে বানাবেন

সব উপকরণ মিশিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিলেই আপনার স্মুদি তৈরি।

ফ্রুট উইথ ইয়োগার্ট স্মুদি

সকালে নাস্তার পরে ১১টার দিকে এনার্জি বুস্ট আপ করতে তাজা ফল আর সাথে টকদই/ইয়োগার্ট দিয়ে বানানো স্মুদি বেশ উপকারী। এক্ষেত্রে আপনি জিপলক ব্যাগে আলাদা আলাদা করে স্ট্রবেরি, বানানা, আপেল, পিয়ারস, ড্রাগনফ্রুট, আনারস এগুলো ছোট ছোট পিস করে ফ্রোজেন করে রাখতে পারেন।

যা যা লাগবে

পছন্দমত যে কোনো ফলের সাথে ১ কাপ টক দই, ২ টেবিল চামচ দুধ (অপশনাল), ১চা চামচ মধু (অপশনাল) মিশিয়ে ব্লেন্ড করে নিন।

প্রতিদিন ডায়েটে থাকা এই উপাদানটি ড্রাই স্কিন ময়েশ্চারাইজ করে। এর ল্যাকটিক অ্যাসিড স্কিনে এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করে ডেড সেল রিমুভ করে। আর অ্যান্টি এজিং প্রোপার্টিজ তো আছেই।

যদি স্কিন ভালো রাখতে চান তাহলে অবশ্যই ফ্রেশ ফ্রুটস খাবেন। সেটা স্মুদি কিংবা জুস হিসাবেই হোক না কেন ডায়েটে রাখতে ভুলবেন না কিন্তু। আর হ্যাঁ যেটাই বানানো হোক, বানানোর সাথে সাথে পান করবেন।

ছবি: সাজগোজ, সাটারস্টক





Source link