ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর নাস্তার খরচ বিতর্কে পুলিশের তদন্ত

93


আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সান্না মারিন ও তার পরিবারের সদস্যদের সকালের নাস্তার জন্য ভর্তুকির উৎস সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির পুলিশ। শুক্রবার (২৮ মে) ফিনল্যান্ড পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর সকালের নাস্তার খরচের জন্য ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। এ ভর্তুকি করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে কি না তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ফিনল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ফরেনারের খবর।

এর আগে গত মঙ্গলবার ফিনল্যান্ডের ইলতালেহতি নামক ট্যাবলয়েডে প্রধানমন্ত্রীর নাস্তার খরচ সংক্রান্ত এক খবর প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী সান্না মারিন সরকারি বাসভবনে থাকাকালীন তার ও তার পরিবারের সদস্যদের সকালের নাস্তার জন্য মাসে ৩০০ ইউরো খরচ করে থাকেন। এ পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে তার পরিবারের সকালের নাস্তার জন্য বাজার করা হয়। মাসে ৩০০ ইউরোর এ খরচ সরকার বহন করে থাকে’।

মঙ্গলবার ওই প্রতিবেদনের পর ফিনল্যান্ডের রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় উঠে। দেশটিতে সামাজিক মাধ্যম টুইটারে ব্রেকফাস্টগেট কেলেঙ্কারি হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ডিংয়ের শীর্ষে উঠে এসেছে।  উল্লেখ্য যে, এ সমালোচনা এমন সময় শুরু হলো যখন দেশটিতে পৌরসভা নির্বাচনের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। ওই নির্বাচনে সান্না মারিনের দল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রতিপক্ষ ডানপন্থী ন্যাশনাল কোয়ালিশন পার্টির চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। ঠিক এ সময় এমন বিতর্ক সান্না মারিনের দলকে আরও বেকায়দায় ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অবশ্য ওই প্রতিবেদনের তথ্য স্বীকার করে নিয়েছে। তবে তাদের দাবি, সরকারি কার্যালয় বা বাসভবনে থাকাকালীন এমন সুবিধা পেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এটি ফিনল্যান্ডে মন্ত্রীদের বেতন-ভাতা বিষয়ক অ্যাক্টের ৬ ও ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বৈধ।

এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী সান্না মারিন আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি এমন সুবিধা চাইনি, নাস্তার টাকা পাওয়ার সিদ্ধান্তটিও আমি নেইনি’।

এদিকে গণমাধ্যমগুলোতে আইনি পরামর্শের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবীরা অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দেওয়া ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর সকালের নাস্তার জন্য করদাতাদের অর্থ খরচ করার বিষয়টি ফিনল্যান্ডের আইনের লংঘন।

এমন বিতর্কে চলাকালীন দেশটির পুলিশ শুক্রবার তাদের এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটির তদন্ত করবে তারা। পুলিশ জানায়, সরকারি অফিসে সম্ভাব্য অনিয়মের ব্যাপারে একটি অভিযোগ পাওয়ার পর এ নিয়ে তদন্ত নেমেছে তারা।

পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রীর খাবারের জন্য সরকারি অর্থ প্রদান করা হয়েছে, যদিও এটি মন্ত্রীদের পারিশ্রমিক সংক্রান্ত আইনে সমর্থন করে না’।

২০১৯ সালে মাত্র ৩৪ বছর বয়েসে ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেন সান্না মারিন। ফিনল্যান্ডের সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃত্বাধীন একটি জোট দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তৎকালীন পরিবহণমন্ত্রী সান্না মারিনকে বেছে নিয়েছিল। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব লাভ করেন।

সারাবাংলা/আইই





Source link