ফখরুলকে সরকার পতনের স্বপ্ন থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান নানকের

83


সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ক্ষমতাসীন সরকারের পতন ঘটানোর স্বপ্নের নেশা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক।

বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশ্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, `তিনি (ফখরুল) আজকে বলেছেন এই সরকার জনবিচ্ছিন্ন সরকার, এই সরকার দমন-নিপীড়ন করছেন? মির্জা ফখরুল সাহেবকে অনুরোধ করব, এই স্বপ্ন থেকে, স্বপ্নের নেশা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এই সরকারের ৪২ দিনের মাথায় বিডিআর বিদ্রোহের মতো ষড়যন্ত্র করে সরকারকে উৎখাত করা যায় নাই। এই সরকারকে শাপলা চত্বরে উগ্রবাদী-মৌলবাদীদের জমায়েত করে ভেবেছিলেন পরের দিন সকাল বেলা শেখ হাসিনার সরকার আর এই দেশে থাকবে না, কিন্তু সরকার উৎখাত করা যায় নাই।‘

তিনি বলেন, আপনারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন বলেই জনগণের উপর জিঘাংসার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য দেশ করোনায় আক্রান্ত হলেও আপনারা একটি বার এক ছটাক চাল নিয়েও মানুষের দরজায় গেলেন না। একটি রাজনৈতিক দল হিসাবে কী দায়িত্ব পালন করেছেন?

`ষড়যন্ত্র আছে ষড়যন্ত্র থাকবে। সেই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার একমাত্র শক্তিই হল সংগঠন। তাই আমাদের যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারি তেমন মানসিকতা নিয়ে আদর্শবাদী দল হিসাবে, আদর্শিক চিন্তার কর্মী হিসাবে দল করতে হবে।‘-বলেন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী।

১৫ আগস্ট জাতির পিতার হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেদিন যারা পাকিস্তানের সাথে কনফেডারেশন তৈরি করতে চেয়েছিল। যারা মুক্তিযুদ্ধকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল। যারা মুক্তিযুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করেছিল। সেই আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা খুনী মোশতাক এবং পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্ট জেনারেল জিয়ার মতো মানুষেরা।

স্বাধীনতা পরবর্তীতে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। নানক বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য সাড়ে তিন বছরে বঙ্গবন্ধুকে একদিনের জন্যও শান্তিতে থাকতে দেয়নি। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা যখন বাঙ্কারে যুদ্ধ করছি, সেই যুদ্ধকে যারা দুই কুকুরের লড়াই হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছিলেন, সেই তারা।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা যখন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজে ব্যস্ত, তখন সেই মুক্তিযুদ্ধের শক্তির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করা হয় বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের নামে সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের চিন্তাচেতনাকে বিভক্ত করা হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বিভক্তি করে গণবাহিনী সৃষ্টি করা হয়। ইতিহাসের এই দায় এড়ানোর জন্য জাসদের নেতাদের কোনো যুক্তি ধোপে টিকবে না।

আইইবি’র প্রেসিডেন্ট মো. নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান, আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও আইইবি’র সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. আবদুস সবুর। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, আইইবি’র সম্মানী সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদৎ হোসেন (শীবলু), আইইবি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. নূরুজ্জামান, ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান মোল্লা মোহাম্মদ আবুল হোসেন এবং ইআরসি ঢাকার নির্বাহী ভাইস-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইইবি’র সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক মো. রনক আহসান।

সারাবাংলা/এনআর/এএম





Source link