প্রয়োজনে চট্টগ্রামেও চিরুণী অভিযান চলবেঃ তথ্যমন্ত্রী

রাজিব শর্মা, চট্টগ্রাম অফিসঃ
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নানা কর্মসুচি বাস্তবায়ন করছেন। যারা অনিয়ম করে তারা দেশকে পিছিয়ে দেয়। সুতরাং সমস্ত অনিয়ম ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে চট্টগ্রাম শহরেও অভিযান চালানো হবে।
তিনি বলেন, এখন মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। ঢাকা শহরে অভিযান চলছে। যেখানে অন্যায়, অনিয়ম সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কে কোন দলের কোন মতের সেটা দেখা হচ্ছে না। এবং এটি অব্যাহত থাকবে। বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশকে একটি সুন্দর দেশে রূপান্তরিত করতে চায়।

গতকাল শুক্রবার বিকাল চারটায় থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি) মিলনায়তনে আন্তঃস্কুল জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতা উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্র দেশের ৪৮টি বিদ্যালয়ের বিতর্ক দল নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের আয়োজনে আন্ত:স্কুল জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতা ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ১০টি চট্টগ্রামের। বাকি দলগুলো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অংশ নিচ্ছে।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক এস এম হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা খাঁন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আজহারুল হক, অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার) নুরুল করিম বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জিএম নিতাই কুমার ভট্টাচার্য্য।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা যুক্তিভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থায় বিশ্বাস করি। যুক্তি এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্টা করতে হলে যুক্তি-তর্কের ভিত্তিতে সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে বিতর্ক ছাড়া সেটি সম্ভব নয়। স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রচণ্ড সহায়ক হয়।

তিনি বলেন, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগীতা বন্ধ ছিল। জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগীতা বাংলাদেশে এক সময় অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বিতর্ক প্রতিযোগিতা ছিল। এই প্রতিযোগিতা যখন অনুষ্ঠিত হতো দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাই উন্মুখ হয়ে বসে থাকতো বিতর্কে কি হচ্ছে না হচ্ছে সেটি দেখার জন্যে। এটিএন বাংলা ছাড়া দেশের অন্যান্য টেলিভিশন কেন্দ্র গুলো সেভাবে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে না। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে বিটিভিতে বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
শিক্ষার্থীদের প্রতি তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা স্বপ্ন দেখবে। তবে স্বপ্ন শুধু নিজের জন্য দেখবে না, সবার জন্য দেখবে, দেশের জন্য দেখবে। আমরা একটি উন্নত দেশ গড়তে চাই। মেধাসম্পন্ন নাগরিক ছাড়া উন্নত দেশ গড়া সম্ভব নয়। স্কুলে যারা পড়ে তাদের যেভাবে গড়ে তোলা সম্ভব, যারা কলেজে চলে গেছে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে গেলে তাদেরকে সেভাবে গড়ে তোলা সম্ভব না। আমি স্কুলে যেটি শিখেছি বা স্কুলে পড়ার সময় শিক্ষকরা যেটি আমাকে শিখিয়েছেন সেটি আমার জীবন চলার পথে বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রচণ্ড সহায়ক হচ্ছে।’

তিনি বলেন, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি আমি অনুরোধ জানাবো, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মূল্যবোধ, দেশাত্মবোধ, মমত্ববোধকে জাগ্রত করতে। ছোটবেলায় এসব মনের গভীরে গ্রোথিত করতে হবে। তাহলে ভবিষ্যতে চলার পথে যদি তারা ন্যায় থেকে বিচ্যুতিও হয় তখন এই মূল্যবোধ তাকে বাধা দেবে।
স্মৃতিচারণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বয়স যখন সাড়ে ৭ বছর, তখন একদিন আমার বাবা বাসায় এসে আমাকে বললেন, একটা ওয়াদা কর। আমি বললাম, বাবা বলুন। তিনি বললেন, ওয়াদা কর জীবনে কোনদিন সিগারেট খাবে না। আমি কিন্তু জীবনে একটি সিগারেটও খাইনি। আমার বন্ধুরা অনেক চেষ্টা করেছে, সিগারেটে একটি টান দেওয়ানোর জন্য। বলে, শুধু এক টান দে। আমি কিন্তু দেইনি। একটা দিলে দ্বিতীয়টাও দিতে হতো। বাবার কাছে যে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম সেটা আমাকে বারবার যখনই বন্ধুরা আমাকে প্ররোচিত করার চেষ্টা করতো, তখনই বাবার কথা মনে পড়তো। আরো কয়েকটি ওয়াদা বাবা করিয়েছিলেন। সেগুলোও আমি পালন করেছি।’

শিক্ষার্থীদের প্রতি তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরাও আজকে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করবে, কখনো সিগারেট খাবে না, মাদকের স্পর্শে আসবে না। তোমাদের আরও একটি অনুরোধ জানাবো, তোমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি আসক্ত হবে না। শুধু যে মাদকে যে আসক্তি তা নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সারাক্ষণ নিবিষ্ট হয়ে থাকা, এটাও একটি আসক্তি।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা খাঁন বলেন, ‘বিতর্ক প্রতিযোগিতায় যারা অংশগ্রহণ করছেন, আপনারা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে যুক্তির প্রয়োজন আছে। যারা যুক্তিবাদী তারা বিকৃত ইতিহাস বিশ্বাস করে না। যারা যুক্তিবাদী তারা সাম্প্রদায়িক হয় না, জঙ্গিবাদ থেকে দূরে থাকে। দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি যুক্তিবাদীদের ভালোবাসা থাকে।’

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.