প্রেস রিলিজ নির্ভরতা ছাড়তে জয়-লেখককে মির্জা আজমের অনুরোধ

61


সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সম্মেলন ছাড়াই প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম।

শুক্রবার (২০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের আলোচনা সভায় তিনি ছাত্র সংগঠনটির শীর্ষ দুই নেতার প্রতি এ অনুরোধ জানান।

ছাত্রলীগের একজন সাবেক কর্মী হিসেবে তিনি অনুরোধ করছেন উল্লেখ করে মীর্জা আজম বলেন, ‘ছাত্রলীগ তার ঐতিহ্য থেকে, তার কৃষ্টি থেকে যখন একটু পাশ ফিরে চলে যায় তখন মনে হয় এটা সঠিক হচ্ছে না, কষ্ট লাগে’।

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ আমার চেতনা। আমি ১৯৭৭ সালে প্রথম ছাত্রলীগের সদস্য হয়ে রাজনীতি শুরু করে আজকে মির্জা আজম হয়েছি’।

এসময় সম্মেলন ছাড়াই বিভিন্ন জেলা কমিটি গঠন করার আগে পদ প্রত্যাশীদের কাছে সিভি আহ্বানের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে প্রেস রিলিজে কমিটি অনুমোদনের সমালোচনা করেন মির্জা আজম।

তিনি বলেন, ‘কিছুদিন যাবত সম্মেলন ছাড়াই কমিটি গঠন হচ্ছে। সিভি নেওয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন জেলা কমিটি তারা প্রদান করে আসছে। আসলে ছাত্রলীগ একটি ঐতিহ্য, ছাত্রলীগ একটি কৃষ্টি। ছাত্রলীগ যদি কোনো জায়গায় ভুল করে তাহলে সবাই কিন্তু এই ভুলটা করবে। অতএব ছাত্রলীগে সম্মেলনের মাধ্যমে যাতে কমিটিগুলো করা হয়। কারণ জেলায় যখন সম্মেলন হয়, তখন ছাত্রলীগের ওই জেলার ওয়ার্ড, ইউনিয়ন থানা সকল স্তরের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা থাকে— হয়ত আমাদের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি আসবে। একটি জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ যখন নির্ধারণ হয় তখন পুরো জেলাব্যাপী আনন্দ উল্লাস উৎসব নেতাকর্মীদের মাঝে সৃষ্টি হয়’।

এসব বিষয় উল্লেখ করে আগামীতে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে কমিটি গঠন না করার অনুরোধ জানান মির্জা আজম। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য ছাত্রলীগের সভাপতি-সেক্রেটারির কাছে অনুরোধ করছি। আমি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে এ কথা বলছি না। কারণ ছাত্রলীগকে যেকোনো নির্দেশনা দেবেন নেত্রী (শেখ হাসিনা)। কিন্তু আমি ছাত্রলীগের সাবেক একজন কর্মী হিসেবে অনুভূতিটা প্রকাশ করলাম’।

সম্মেলনের মাধ্যমে কাউন্সিল থেকে সঠিক জনপ্রিয় ছাত্রনেতাদের নাম উঠে আসে এবং জনপ্রিয় ছাত্রনেতারাই কমিটিতে আসে বলেও তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর্জা আজম।

এসময় ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন করতে সরকারকে অনতিবিলম্বে কমিশন গঠনের অনুরোধ জানিয়ে মির্জা আজম বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে কুশীলব ছিলেন জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রক্ষা করতে পার্লামেন্টে ইনডেমনিটি আইন পাস করেছিলেন জিয়াউর রহমান। খুনিদের বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তাদের বিভিন্ন দূতাবাসের চাকরিতে পদোন্নতি দিয়েছেন। যতদিন ক্ষমতায় ছিলেন ততদিন জয় বাংলা স্লোগান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম জাতীয় প্রচার মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন জিয়াউর রহমান’।

মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক আবু আহমদ মন্নাফী ও হুমায়ুন কবির, ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যসহ মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা। সভা সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ।

সারাবাংলা/এনআর/আইই





Source link