প্রিয়া সাহা অবশেষে ‘প্রধানমন্ত্রীকে’ জড়ানোর ধৃষ্টতা কোথায় পেলেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে ইসলামী মৌলবাদীদের নিপীড়নের শিকার হয়ে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়েছেন বলে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেছেন প্রিয়া সাহা। এই অভিযোগের পর সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তার বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভও করেছেন অনেকে। আবার দেশের বেশকিছু জায়গায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার প্রস্তুতিও চলছে। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলা কথার ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্ট্রান ঐক্য পরিষদের এই নারী সাংগঠনিক সম্পাদক।
বাংলাদেশের দলিত সম্প্রদায় নিয়ে করা এনজিও ‘শারি’র পরিচালক প্রিয়া সাহা ‘শারি বাংলাদেশ’ এর ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্পের সঙ্গে বলা কথার ব্যাখ্যা দেন।
বক্তব্যের শুরুতে প্রিয়া সাহাকে খুবই উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘আমি ভালো নেই। পরিবার সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। বাসার সামনে কাল মিছিল হয়েছে। তালা ভাঙ্গার চেষ্টা হয়েছে। পত্রিকায় আমার পরিবারের ছবি ছাপিয়ে তাদের জীবন বিপন্ন করা হয়েছে।‘
দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন প্রিয়া সাহা।
তিনি বলেন, ২০০১ সালে নির্বাচনের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলতে, তাদের সুরক্ষার জন্য তৎকালীন বিরোধী নেত্রী এবং বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন বহু দেশে ঘুরেছিলেন। বিভিন্ন সভা সেমিনারে সংখ্যালঘুদের অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। সেখান থেকেই তিনি সাহস সঞ্চার করেছিলেন।‘
তিনি আরও বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েই এসব কথা বলেছি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে কোনো জায়গায় কথা বলা যায় – আমি তার কাছ থেকে শিখেছি।‘
তার কথা পর্যবেক্ষণ করলেই বুঝা যায় তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তথা ২০০১-০২ সালের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন। কিন্তু শেখ হাসিনা তৎকালীন বিএনপি সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনী, জামাত-শিবিরদের দ্বারা নির্যাতিত সংখ্যালঘু মানুষের কথা বলেছিলেন। যাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল, যাদের ঘরে রাতের অন্ধকারে আগুন দেয়া হয়েছিল, যাদের নিপীড়ন করেছিল জামাত-শিবিরের ক্যাডার বাহিনীর সদস্যরা। যেই তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ক্ষমতায় না থেকেও মানুষের মঙ্গলের জন্য বিশ্ববাসীর দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন সেই শেখ হাসিনার আমলেই প্রিয়া সাহা কীভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে এরকম বক্তব্য উপস্থাপন করলেন? রাষ্ট্রদ্রোহের মত কাজ করে সেই বক্তব্যের ব্যাখ্যায় শেখ হাসিনাকে জড়ানোর দৃষ্টতা কীভাবে দেখালেন?

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.