প্রিন্সিপ্যাল অঞ্জন কুমার নন্দীর নির্দেশে চট্টগ্রাম মহসীন কলেজে পরীক্ষার্থীদের নিকাব টেনে খুলে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ

রাজিব শর্মা, চট্টগ্রাম অফিস॥ গত ২ জুলাই চট্টগ্রাম মহসীন কলেজে ডিগ্রী সেকেন্ড ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষার সময় মেয়ে পরীক্ষার্থীদের হিজাব এবং নিকাব টেনে খুলে ফেলা হয়েছে। আর হিজাব, নিকাব আলাদা করে কোনো মহিলা টিচার কে দিয়ে খুলানো হয়নি। এই মহা দায়িত্বের কাজখান পুরুষ শিক্ষকরা সুনিপুনভাবে নিজের হাতে সম্পাদন করিয়াছেন। যে সকল মেয়েরা খুলতে চায়নি তাদের দেহ থেকে পুরুষ শিক্ষকরাই নিজ হাতে টান মেরে মেরে হিজাব নিকাব খুলে নিয়েছেন।

তারা প্রথমে যুক্তি হিসাবে বলেছিলেন নিকাব থাকলে নাকি এডমিট কার্ডের সাথে ছবি মিলানো যায় না। এর পরে হিজাব খুলার সময় বলেছিলেন কেউ কানে হেডফোন লাগিয়ে কারো সাহায্য নিয়ে পরীক্ষা দিতে পারে। তাই হিজাব ও খুলা বাধ্যতামূলক। এই কথা বলে পুরুষ শিক্ষকরা মেয়েদের কাপড় ধরে এক টান দিয়ে হিজাব এবং নিকাব খুলে ফেলেন।

এক মেয়ের নিকাব খুলার সময় মেয়ে বাধা দিয়ে বলে আমি ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী পর্দা করি। আমি নিকাব খুলতে পারবো না। পরক্ষণে সেই পুরুষ শিক্ষক মেয়েকে পালটা যুক্তি দিয়ে বলেন, “তুমি ছবি যখন তুলছিলা তখন নিকাব খুলে ছবি তুলো নাই”?

মেয়েটি বলল, হ্যা! খুলে ছবি তুলেছি। এর পরে শিক্ষকটি আবার বলে ছবি ওয়াশ করার সময় তোমার চেহারা অন্য কেউ দেখে নাই? মেয়েটি বললো দেখছে। তারপর শিক্ষকটি বললো তাহলে এইখানে খুললেও সমস্যা হবে না। এই বলে নিজে হাতে টান দিয়ে নিকাব খুলে ফেলে এবং মেয়েটিকে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে অপমান করছেন।

ভাবতে অবাকই লাগে! এইটা নাকি সোনার বাংলাদেশ। ফান্সে পুলিশরা নিরাপত্তা জনিত কারণে বোরখা টেনে টেনে খুলে ফেললে এই সোনার বাংলাদেশের দামাল ছেলেরাই আবার এটার প্রতিবাদ করে। যা বুঝার সেটা হলো আমাদের দেশ এখন ফ্রান্স হয়ে গেছে। আর হিজাব ও নিকাব পড়ে আসা যাবে না এই ব্যাপারে উক্ত কলেজের অধ্যক্ষ কোন নোটিশ দেননি বলে একাধিক শিক্ষার্থীরা জানান।

একটি ভিডিওতে প্রকাশ হয়, হিজাব নিকাব নিয়ে মহামান্য আদালত কি জারি করেছেন, ঢাকার রাজারবাগের দৈনিক আল ইহসান পত্রিকার সম্পাদকের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে তা স্পষ্ট প্রমাণিত যে মুসলিমরা স্কুল কলেজে হিজাব, নিকাব পরিধান করতে পারবেন।

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.