প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন

0
94

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা । ছবি : সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা , বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর)। ১৯৪৭ সালের আজকের দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম হয় তার। তিনি বঙ্গবন্ধু ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব দম্পতির প্রথম সন্তান । শেখ হাসিনা রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে ছাত্রজীবন থেকে প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন ।

শেখ হাসিনা সবচেয়ে বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে এ দেশে তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। পুরো রাজনৈতিক জীবনে শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবন শুরু টুঙ্গিপাড়ায়। পরে ১৯৫৪ সালের পর ঢাকায় টিকাটুলীর নারী শিক্ষা মন্দিরে (বর্তমানে শেরেবাংলা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ) ভর্তি হন তিনি। শেখ হাসিনা ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বর্তমানে বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। ওই কলেজে পড়ার সময় তিনি ছাত্রসংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। কলেজ জীবন শেষ করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ১৯৬৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন শেখ হাসিনা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বিপথগামী একদল সেনা সদস্য যখন বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেন তখন শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা জার্মানিতে ছিলেন ড. ওয়াজেদ মিয়ার বাসায়। পিতা, মাতা ও ভাইদের হারানোর শোকগ্রস্ত শেখ হাসিনা আশ্রয় নেন ভারতে। তিনি ছয় বছর ভারতে থাকার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন। এর আগেই আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে তাঁকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ৩৪ বছর বয়সে আওয়ামী লীগের মতো একটি পুরনো ও বৃহৎ দলের সভাপতির দায়িত্ব নেন। তৎকালীন আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা, দলের অভ্যন্তরে অনেক জ্যেষ্ঠ নেতার বিরোধিতাসহ নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দিয়ে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেন। বঙ্গবন্ধুকে হারিয়ে দিশেহারা আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপরে দাঁড় করান। ফলে ১৯৯৬ সালে আবারও রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। তবে ২০০১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয় আওয়ামী লীগ। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনে আবারও ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। সেই থেকে এখন পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী আছেন শেখ হাসিনা। এ সময়ে শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক অর্জন হলো একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, ভারতের সঙ্গে সমুদ্র সীমানা বিরোধে জয়, ছিটমহল সমস্যার সমাধান। তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশে তথ্য-প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটেছে। বর্তমানে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার।

১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে আসার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৯ বার হত্যার চেষ্টা চালানো হয় শেখ হাসিনাকে। তিনি প্রথম হামলার শিকার হন স্বৈরশাসক এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি। ওই দিন চট্টগ্রামে আট দলীয় জোটের মিছিলে থাকা অবস্থায় গুলিবর্ষণ করে পুলিশ ও বিডিআর। এতে সাতজন নিহত ও অর্ধশতাধিক লোক গুরুতর আহত হয়। ২০০০ সালের ২০ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জনসভাস্থলের কাছে ও হ্যালিপ্যাডের কাছে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখা হয়। ২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটে শেখ হাসিনার জনসভাস্থল থেকে ৫০০ গজ দূরে একটি বাড়িতে বোমা বিস্ফোরিত হলে ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যায় এবং অনেকে আহত হয়। শেখ হাসিনাকে হত্যা করার লক্ষ্যে সবচেয়ে বর্বরোচিত হামলাটি হয় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। ওই দিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা ও গুলি চালানো হয়। দলের নেতাকর্মীরা সেদিন মানবঢাল তৈরি করে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করলেও মারা যান ১৯ জন। চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে। তিনি এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৩০টির বেশি পুরস্কার ও পদক অর্জন করেছেন। বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের জন্য চলতি মাসেই শেখ হাসিনাকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মাননায় ভূষিত করেছে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই)। নানা সময়ে শেখ হাসিনাকে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন পদক ও পুরস্কার দেওয়া হয়।

জন্মদিনের কর্মসূচি : শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বিশেষ মোনাজাত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুসহ কেন্দ্রীয় বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে এক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, তানভিন সুইটি, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা প্রমুখ অংশ নেন। আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় খামারবাড়ি কৃষিবিদ মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের আয়োজনে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহার (মেরুল বাড্ডা) ও সকাল ৯টায় খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (সিএবি) মিরপুর ব্যাপ্টিস চার্চ (৭/৩/এ, সেনপাড়া, পর্বতা, মিরপুর-১০) এবং সকাল ১১টায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। একই দিন ঢাকাসহ সারা দেশে সব সহযোগী সংগঠন শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।

 

Print Friendly, PDF & Email

Source link