প্রধানমন্ত্রীর বিশেষজ্ঞ কমিটিও লকডাউন শিথিলের বিপক্ষে, দাবি রিজভীর

0
330

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষজ্ঞ কারিগরি কমিটিও লকডাউন শিথিল করার বিপক্ষে মতামত দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এই অবস্থায় কেবল বড় ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সরকার লকডাউন শিথিল করছে।

আজ শুক্রবার গাজীপুর মহানগর যুবদলের উদ্যোগে টঙ্গীবাজারে দুস্থদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের এক কর্মসূচির উদ্বোধনকালে রিজভী এই অভিযোগ করেন।

বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন বলেন, ‘যখন সংক্রমণের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে বাংলাদেশে, গ্রামে-গঞ্জে-শহরে গুচ্ছ গুচ্ছ আকারে সংক্রমিত হচ্ছে। তখন সরকার লকডাউন বা শাটডাউন খুলে দিলেন। কেন? উনার (সরকার) কাছে নাকি অর্থনীতি আগে, বড় বড় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ আগে।’

রিজভী বলেন, ‘আর মানুষের জীবন চলে যাচ্ছে ওইটা বড় কথা নয়, মানুষ যে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছে রাস্তা-ঘাট নদীতে। আজকে এখানে টেস্ট করার উপায় নেই, এখানে পর্যাপ্ত মেডিকেল সহায়তা নেই, সেটা না থাকার কারণে আজকে কত লোক যে করোনায় রাস্তার ধারে পড়ে মরে যাচ্ছে-এটা সরকার খেয়াল করছে না, এটা সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না। মানুষের জীবন তাদের কাছে বড় কিছু নয়, তাদের কাছে টাকা অনেক বড় কথা।’

বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অধ্যাপক আবদুল্লাহ, তিনিও বলেছেন যে, এটা (লকডাউন-শাটডাউন) করা ঠিক হচ্ছে না। করোনা প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী যে বিশেষজ্ঞ কারিগরি কমিটি করেছেন তারাও বলেছেন, আপনি (প্রধানমন্ত্রী) পূণঃবিবেচনা করুন। এখন লকডাউন খুলতে যাবেন না। কারণ সারা পৃথিবীর মধ্যে এই যে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, নেপাল এর মধ্যে সবচাইতে করোনা ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশ। এটা বিশেষজ্ঞরা বলছেন। কিন্তু এই সরকারের ভ্রুক্ষেপ নাই, প্রধানমন্ত্রীর ভ্রুক্ষেপ নাই। আজকে রাস্ত-ঘাটের গাড়ি চলাচল করছে, বিভিন্ন গার্মেন্টস খুলে দেওয়া হয়েছে, শত-শত, হাজার-হাজার লোক যাচ্ছে সেখানে। কত লোক যে করোনায় আক্রান্ত হবে, তাদের না থাকবে চিকিৎসা, না থাকবে বেঁচে থাকার কোনো নিশ্চয়তা। আজকে মৃত্যুর দিকে এভাবে মানুষদেরকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার।’

রিজভী আরও বলেন, ‘আমাদের যে খাদ্য সামগ্রী আছে, তা দিয়ে আমরা কী দুই-তিন মাস এই গরিব মানুষদের চালাতে পারতাম না? তাদের বাড়িতে বাড়িতে খাদ্য পৌঁছে দিতে পারতাম না? নিশ্চয়ই পারতাম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আমাদের সেনাবাহিনীকে দিয়ে আজকে গরিব মানুষ যারা গার্মেন্টসে কাজ করে, যারা দিন আনে দিন খায়, যারা রিকশাচালক-তাদের সবাইকে দিতে পারতাম। কিন্তু সরকার ওইদিকে যায়নি। সরকারের কথা হচ্ছে, মানুষ মরুক আমার যায় আসে না। আমার হাতে টাকা থাকলেই সেটাই হচ্ছে বড় বিষয়।’

ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বাড়িতে ত্রাণ-সামগ্রী মজুদ ও আত্মাসাৎ করছেন বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে