পুলিশের ব্যাপক সচেতনতামূলক মিশন, তবু কাটছে না ‘কল্লাকাটা’ ও ‘ছেলেধরা’ আতঙ্ক!

আনোয়ার হোসেন আনু, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি॥ পদ্মা সেতু নির্মাণে মাথা লাগবে এমন গুজবে সাগর পাড়ের জনপদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কমে গেছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। সচেতন অবিভাবকদের অনেকেই আবার তাদের সন্তাদের পাহারা দিয়ে স্কুলে আনা নেবার কাজটুকু করছেন। সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া ভিত্তিহীন খবরে পরিবারের সদস্যরা দরজা জানালা বন্ধ রেখে দিনরাত পার করছে। স্বাভাবিক চলাচলেও বিগ্নঘটাচ্ছে এমন গুজব। এদিকে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ এমন গুজবে কান না দিতে সচেতনতামুলক মাইকিং,লিফলেট, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ধারাবাহিক মতবিনিমিয় সভা করছেন।

মহিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ পরিদর্শক সোহেল আহম্মেদ জানিয়েছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণে মাথা লাগবে এমন গুজব এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মাঝে ডালপালা গজিয়েছে। পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা ও দেশের বৃহৎ মৎস্য বন্দর হিসেবে আলীপুর-মহিপুর অঞ্চলের অপরিচিত মানুষের আনাগোনা বেশী। সেকারণে কোন প্রকার গুজবে কান না দেবার জন্য গত সোমবার থেকে জেলা পুলিশের উদ্যোগে মাইকিং, সচেতনতামুলক লিফলেট এবং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মশালা করছেন তারা।

!-- Composite Start -->
Loading...

পৌর শহরের পাঞ্জুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার বলেন, ব্যবসায়িক কাজ সেরে একটু রাত করে বাড়িতে ফিরলেই পরিবারের লোকজন থাকে দুশ্চিন্তায়। ৩নং ওয়ার্ডের আলামিনের স্ত্রী তানিয়া আক্তার শুনেছেন, রাতে বিদ্যুৎ বন্ধ রেখেই মাথা কেটে নেবে। গত তিন দিন ধরে রাতে কুয়াকাটায় বিদুৎ সাময়িক বন্ধ থাকলে ওই পরিবার নির্ঘূম রাত কাটিয়েছেন। শুধু তানিয়ার পরিবারই নয় এখানাকার প্রতিটি ঘরে এমন গুজব প্রকট আকার রুপ নিয়েছে। ৬০ লতাচাপলী মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সহিদুল ইসলাম বলেন, গুজবে অভিভাবকরা স্বভাবতই উদ্বিগ্ন হয়ে পরেছেন। তবে গত কয়েকদিনে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমলেও অভিভাবকদের সংখ্যা বেড়েছে বলেও শিক্ষকরা উল্লেখ করেন। লতাচাপলী ইউনিয়নের আমজেদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সত্তার ফরাজী জানান, গুজবটি এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। সবার মধ্যেই বিরাজ করছে আতঙ্ক।

গত কয়েকদিন ধরে কুয়াকাটা খানাবাদ কলেজের একাদশ শ্রেণীর বানিজ্য বিভাগের রাখাইন শিক্ষার্থী এশে, মেমেনাচ, হেমী ও সুমী কলেজে অনুপস্থিত রয়েছে। শিক্ষকরা কলেজে না আসার কারন জানতে চাইলে অভিভাকরা জানিয়েছেন, তাদের সন্তানদের ঘরে বাইরে পাঠানো নিরাপদ মনে করছেন না। মহিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সোহেল আহম্মেদ বলেন, বিছিন্ন ঘটনা ঘটছে যার কোন ভিত্তি নেই। তবে গুজব বন্ধে সচেতনতা মুলক প্রচারণা চলছে।

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.