পুঁজিবাজার: সরকার নিয়ন্ত্রিত দুই কোম্পানি টপ লুজার তালিকার শীর্ষে – Corporate Sangbad

114


হেলাল সাজওয়াল : গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পাশাপাশি অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও বড় দরপতন হয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম।

সরকারি নিয়ন্ত্রনাধীন তালিকাভুক্ত কোম্পানি জিলবাংলা সুগার মিলস গেলো সপ্তাহে টপ টেন লুজার বা দরপতনের তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ কমে টপটেন লুজার তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে। জেড ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটির ৫১ ভাগ শেয়ারের মালিক সরকার ৩৭ দশমিক ৩৮ ভাগ শেয়ার পাবলিক এবং ১১ দশমিক ৬২ ভাগ শেয়ার বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৬০ কোটি টাকা। কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দিয়েছে বলে ডিএসইতে তথ্য পাওয়া যায়নি।

৩০ জুন, ২০২১ তারিখে সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিট সম্পদ মূল্য মাইনাসই রয়েছে, এর আগের বছর ২০২০ সালে ছিলে-৭০১.৪৬ টাকা ইপিএস ছিলো -৯৩.৬৯ টাকা। কোম্পানিটির বিগত কয়েক বছরের আর্থিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে কোম্পানিটি কয়েক বছর ধরে মুনাফা করতে সক্ষম হয়নি। পর্যবেক্ষণ থেকে এটাও মনে হয়েছে যে কোম্পানিটি সরকারি সহায়তা ছাড়া তার কার্যক্রম চালাতে সক্ষম হবে না।

এদিকে গেলো সপ্তাহে শ্যামপুর সুগার মিলস লিমিটেডের প্রতিটি শেয়ারের দর ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমে টপ টেন লুজারের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। এই কোম্পানিটিও সরকারি নিয়ন্ত্রনাধীন। কোম্পানির ৫১ ভাগ শেয়ারের মালিক সরকার বাকী ৪৭ দশমিক ৫৪ ভাগ শেয়ারের মালিক পাবলিক এবং ১ দশমিক ৪৬ ভাগ শেয়ার রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক। খাদ্য উৎপাদনকারী এই কোম্পানিটিরও ডিভিডেন্ড অথবা স্টক বা রাইট ইস্যুর কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। ডিএসইতে ১৯৯৬ সালে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানিটি জেড ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে এবং কোম্পানির অনুমোদিত মুলধন ৫০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মুলধন ৫০ কোটি টাকা। এই কোম্পানিটিও ৩০ জুন, ২০২১-এ শেষ হওয়া বছরের জন্য কোনো লভ্যাংশ দিতে ব্যার্থ হয়েছে। আগামি ২৫.১২.২০২১ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য এজিএম উপলক্ষ্যে কোম্পানিটির ইপিএস -১২৫.১৪ শেয়ার প্রতি এনএভি -১,১১৪.৫২ টাকা যা ২০২০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরে ছিলো যথাক্রমে -১২১.৩৮, টাকা এবং ৯৮৯.৩৭ এবং টাকা।

সাপ্তাহিক টপটেন লুজার তালিকায় অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ মনোস্পুল পেপার ম্যানুফ্যাকচারিং কোং লিমিটেড, এসএস স্টিল লিমিটেড, দি পেনিনসুলা চিটাগং লিমিটেড, ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেড, নাভানা সিএনজি লিমিটেড, শাইন পুকুর সিরামিক লিমিটেড, শেফার্ড ইন্ডষ্ট্রিজ লিমিটেড, বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টিক লিমিটেড
তবে এই পতনের বাজারে সপ্তাহজুড়ে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে নতুন তালিকাভুক্ত একমি পেস্টিসাইড। দাম বাড়ার শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স। গেল সপ্তাহজুড়ে এই কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৫৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এর পরের স্থানটিতে রয়েছে ওয়ান ব্যাংক। সপ্তাহজুড়ে এ কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এছাড়া দাম বাড়ার শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় থাকা সুহৃদ ইন্ডাষ্ট্রিজের ১৪ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, আমান ফিডের ১৪ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ, দেশ গার্মেন্টেসের ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ, প্যাসিফিক ডেনিমসের ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং ইউনিক হোটেলের ৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ দাম বেড়েছে।



Source link