পাকিস্তানের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ করা হয়েছে— সংসদে হারুন

68


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেছেন, পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে আমন্ত্রণ জানিয়ে দেশটির প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, পাকিস্তান ক্রিকেট টিম বাংলাদেশের সঙ্গে খেলছে। বাংলাদেশ যাই খেলুক না কেন, পাকিস্তানের সমর্থকরা তাদের পতাকা উড়াচ্ছে। এটাকে কেন্দ্র করে একটা বিব্রতকর অবস্থা তৈরি হয়েছে। মনে রাখতে হবে, তারা কিন্তু আমাদের দেশে মেহমান, অতিথি।

শনিবার (২৭ নভেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদের ১৫তম অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি এই কথা বলার পর পরই সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে হৈ চৈ শুরু করেন। এক পর্যায় এমপি হারুনের মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ বলেন, ‘পাকিস্তান টিমের তো আসার দরকার ছিল না। পাকিস্তানি টিমকে কেন খেলতে দিয়েছেন? খেলতে দিতেন না, দরকারই ছিল না। আপনিতো তাদের অনুমতি দিয়েছেন। তারা এখানে এসেছে। একটি দেশের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ ঠিক নয়। এটি আমাদের জন্য সম্মানের নয়, গৌরবের নয়।’

হারুন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, অতীত থেকে মুখ ফিরিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গেও নতুন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছি। অতীতের তিক্ততা দূর করতে কোনো প্রচেষ্টা থেকে নিবৃত্ত হইনি। ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে ক্ষমা প্রদর্শন করে উপমহাদেশে শান্তিসহযোগিতার নতুন ইতিহাস রচনা করেছি।’

এ সময় সরকারি দলের সদস্যরা হৈ চৈ শুরু করলে সাংসদ হারুন স্পিকারের কাছে ‘প্রোটেকশন’ চেয়ে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিয়ে কথা বললাম, এখানেও যদি বাধা দেন তাহলে আর কী বলব মাননীয় স্পিকার। আমি এমন কিছু বলিনি, আমি উনার ভাষণ পড়ে শুনিয়েছি। এরপর হারুন যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মোমিন তালুকদারের প্রসঙ্গ টানেন।’

হারুন বলেন, ‘সাক্ষী আলামত ছাড়া কাউকে হত্যা করা একেবারে গুনাহর কাজ। ১৯৭১ সালে অষ্টম সংসদের সদস্য আব্দুল মোমিন তালুকদারের বয়স ছিল ১৮ বছর। উনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ২০১১ সালে জাতিসংঘের কনভেনশনেও গিয়েছেন।’ এ সময় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘মাননীয় সদস্য, আপনি এখানে বিচারের বিষয়ে কথা বলতে পারেন না। আপনি বসুন।’ পরে তার মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সরকারি দল ও শরিকদের অনেকেই হারুনের বক্তব্যের জবাব দিতে ফ্লোর চাইলে স্পিকার মাইক দেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীকে। তিনি সংসদে বলেন, ‘বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ যেভাবে পাকিস্তানের পক্ষে অবলম্বন করে সংসদে কথা বললেন, এতে তার প্রকৃত চরিত্র বেরিয়ে এসেছে। তারা যে রাজাকার, আলবদর, আল শামসের পক্ষে কথা বলছে এবং রাজনীতি করছে; তারা যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেন না, সেটা প্রমাণিত হয়েছে।’

খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘জাতির পিতাকে হত্যার পরে জিয়াউর রহমান হত্যাকারীদের শুধু লালন-পালনই করেনিন, পাকিস্তানি ধারা বাংলাদেশে প্রবর্তন করার জন্য সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করেছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চরিত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। একই ধারাই তারা এখনও রাজনীতি করে যাচ্ছে। তার প্রমাণ আজকে হারুনুর রশীদ সংসদে উপস্থাপন করলেন।’

নৌ-প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তান অপরাধ করেছে। বঙ্গবন্ধু শান্তিকামী মানুষের নেতা ছিলেন, তার সেই অহিংস ও শান্তিকে বিকৃত করে সংসদে উপস্থাপন করার চেষ্টা হচ্ছে। তারা মনে করেছিল, যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হবে না। এই বিচার হওয়ায় তাদের সেই মনোকষ্ট ফুটে উঠছে।’

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আছে। তাদের সঙ্গে অনেক অমীমাংসিত বিষয়ে সুরাহা হয়নি। তার মানে এই নয় যে, সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশ সরে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশকে অন্ধকারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের গর্ব ও অহংকারের জায়গায় ফিরে গেছে বাংলাদেশ। আর এটাই হচ্ছে বিএনপি ও হারুনুর রশীদদের কষ্ট। আমরা তাদের কষ্ট ও দুঃখ বুঝি। কিন্তু সেই জায়গায় বাংলাদেশ আর কখনো ফিরে যাবে না।’

সারাবাংলা/এএইচএইচ/পিটিএম





Source link