পর্যটক কমছে কক্সবাজারে

0
342

বিশ্বজুড়ে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় করোনা ভাইরাস। চীনে প্রথম ধরা পড়লেও রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দেশ থেকে দেশে। সব মহাদেশেই বিস্তার ঘটেছে এ ভাইরাসটির। আর এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ব বাণিজ্যে। বাংলাদেশেও পড়েছে এর প্রভাব। মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। এর ফলে ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের পর্যটনশিল্প। অন্যতম পর্যটন নগরী কক্সবাজারে কমে গেছে পর্যটক সংখ্যা, বাতিল হচ্ছে অগ্রিম বুকিং। তবে করোনা মোকাবিলায় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নেওয়া হচ্ছে নানা প্রস্তুতি। খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।

গত এক সপ্তাহ ধরে কমতে শুরু করেছে কক্সবাজারে আগত পর্যটকের সংখ্যা। হোটেল, মোটেল, গেস্ট হউস ও রেস্টুরেন্টসহ পর্যটনশিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সমুদ্র সৈকত, হিমছড়ি, ইনানি, টেকনাফের মাথিনের কূপ, দুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দিরসহ জনপ্রিয় স্পটগুলোতে কমে গেছে পর্যটকদের আনাগোনা।

পর্যটন ব্যবসায়ী বেলাল আবেদীন ভুট্টো বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে কক্সবাজারে পর্যটকদের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এসএম কিবরিয়া বলেন, আমাদের অনেকগুলো বুকিং বাতিল হয়ে গেছে। হোটেল বুকিং বাতিল হওয়ায় আমারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ব। আমরা খুব হতাশার মধ্যে আছি।

হোটেল দ্য কক্সটুডের মহাব্যবস্থাপক মো. শাহেদ আলম বলেন, পুরো মার্চ মাসের যেসব বুকিং ছিল সব বাতিল করেছেন পর্যটকরা। কোনো কর্পোরেট গ্রুপই আসছে না। মূলত করোনার প্রভাবেই এ অবস্থা।

হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি শাহ আলম চৌধুরী বলেন, পর্যটনশিল্পে ধস নেমেছে করোনার কারণে। অথচ বাংলাদেশে যে হারে গরম পড়ছে, তাতে এ ভাইরাস এখানে খুব বেশি দেখা দেওয়ার কথা না। তারপরও নানাভাবে এর প্রভাবের কথা ছড়িয়ে পড়ায় পর্যটকরা কক্সবাজারে আসছেন না। এর ফলে আমরা খুবই ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। কক্সবাজারের সাড়ে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল মালিককে এখন থেকে লোকসান গুনতে হবে।

হোটেল সিগাল এর এজিএম হারুন-অর-রশীদ বলেন, আমাদের অনেকগুলো বুকিং বাতিল হয়ে গেছে। শুক্রবারে তাও কিছু রুমে ক্লাইন্ট ছিলেন। কিন্তু শনিবার ও রবিবার আর কোনো রুম ভাড়া হয়নি। ২৬ মার্চ বড় একটি গ্রুপের বুকিং ছিল। সেটিও বাতিল হয়ে গেছে।

হোটেল ওশান প্যারাডাইসের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, করোনার কারণে আমাদের ব্যবসার অনেক ক্ষতি হচ্ছে। অনেকগুলো গ্রুপ বুকিং বাতিল করে দিয়েছে।

এদিকে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, করোনা মোকাবিলায় সারাদেশের মতো কক্সবাজারেও নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বেশকিছু মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, আমরা চেষ্টা করছি এ করোনার প্রভাব যেন কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পে না পড়ে। এই জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কক্সবাজার বিমান বন্দর ও টেকনাফ স্থলবন্দরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করতে থার্মাল স্ক্যানার বসানো হয়েছে। কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাদের রাখার জন্য রামু ও চকরিয়ায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১শ শয্যার আইসোলেশন ইউনিট। খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।

তবে গতকাল রবিবার দুপুরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে গিয়ে অল্পসংখ্যক পর্যটকের দেখা মিলেছে। খুলনা থেকে আসা আব্দুল কাদের বলেন, করোনার কথা শুনেছি। তবে আমাদের আগে থেকে প্রোগ্রাম থাকায় পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে ঘুরতে এসেছি।

চট্টগ্রাম থেকে ঘুরতে আসা ছাত্র আরিফ, ফারহান, মিশু বলেন এখন যে গরম পডছে, তাতে করোনার আর কোনো প্রভাব এখানে পড়বে বলে মনে হয় না। তাই আমরা বন্ধুরা মিলে কক্সবাজার সৈকতে ঘুরতে এসেছি। আমরা ভালোই মজা করছি।

বগুড়া থেকে পরিবার নিয়ে আসা ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা পরিবারের ১০জন ঘুরতে এসেছি দুই দিন আগে। করোনার কোনো প্রভাব আমাদের মধ্যে নেই। আর আমরা এগুলো বিশ্বাস করি না। আমরা ভালোভাবে সময় কাটাচ্ছি এখানে।

কক্সবাজার রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সহসভাপতি কাসেম আলী বলেন, করোনার প্রভাব পড়ার কারণে আমাদের হোটেলগুলোতে বেচাবিক্রি আগের চেয়ে কমে গেছে।

সৈকতের চিত্রগ্রাাহক গোলাপ বলেন, এখনো কিছু পর্যটক আছেন, তবে তাদের মধ্যে বেশির ভাগই স্থানীয়। ছবি তুলতে না পারায় আমাদেরও দুর্দিন শুরু হয়ে গেছে।

সৈকতে চলা ওয়াটার বাইক এর মালিক ফরিদুল আলম বলেন, শনিবার থেকে পর্যটকের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে আমাদের ব্যবসাও এখন মন্দা।

সুগন্ধা পয়েন্ট দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুর রহমান বলেন, শনিবার থেকে আমাদের দোকানগুলোতে বিক্রি কমে গেছে। এখন যেসব লোকজন সৈকতে ঘুরতে আসেন তাদের বেশিরভাগই স্থানীয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে