পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা ইরানের

0
252

২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি না মানার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। স্থানীয় সময় রোববার তেহরানে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকের পর এই ঘোষণা দেয় দেশটি।

এদিন এক বিবৃতিতে ইরান বলেছে, পরমাণু উপকরণ সমৃদ্ধকরণ, মজুদ, গবেষণা ও উন্নয়নের কাজে আর কোনো সীমাবদ্ধতা তারা রাখবে না।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ইরান ২০১৫ সালের চুক্তির আলোকে পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার প্রতি আর কোনো শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে না। ওই চুক্তির আলোকে ইরান স্পর্শকাতর পরমাণু কার্যক্রম সীমিত করতে সম্মত হয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছিল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে এ চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ান এবং বলেন যে তিনি পরমাণু কর্মসূচি কমিয়ে আনা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি স্থগিত করতে ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে বাধ্য করবেন।

ইরান তার এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে এবং ধীরে ধীরে পরমাণু চুক্তি বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে থাকে। দেশটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইরান তার পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই।’

তবে বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়নি, তারা চুক্তি থেকে নিজেদের পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিলো কি না। কারণ, এই বিবৃতিতেই বলা হয়েছে, তারা জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থাকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

গত শুক্রবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রোববার সন্ধ্যায় ইরাকের মার্কিন দূতাবাস এলাকায় চারটি রকেট হামলার ঘটনাও ঘটেছে। যদিও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।

ইরান বলছে, তারা চুক্তির সুফল পেলেই কেবল আবার প্রতিশ্রুতি পালনের দিকে ফিরে যেতে প্রস্তুত। তবে সুফল বলতে আসলে তেল বিক্রির সুযোগ, যার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার বিনিময়ে পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করতে একমত হয়েছিল দেশটি। এর ফলে দেশটির ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিতে বিধিনিষেধ আসে।

২০১৫ সালের আগে ইরানের এ ধরনের ইউরেনিয়ামের ভালো মজুদ ছিল, যা দিয়ে অন্তত আট থেকে দশটি বোমা বানানো যেতো বলে দাবি করেছিল হোয়াইট হাউজ।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত ইউরেনিয়াম থাকলে পরমাণু বোমা বানাতে ইরানের দু থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে। তবে সমৃদ্ধকরণ মাত্রা কুড়ি শতাংশের বেশি হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যেও তারা এ ধরনের বোমা বানাতে পারবে।

গত ৩ জানুয়ারি ভোরে বাগদাদ বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানিসহ তার ১০ সহযোগীকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার পর শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইরাক জুড়ে ব্যাপক মার্কিনবিরোধী মনোভাব তৈরি হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে