নোয়াখালীতে কাদের মির্জার ডাকে হরতাল চলছে, পুলিশের লাঠিচার্জ

0
67

নোয়াখালী, ২০ ফেব্রুয়ারি – নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসিকে প্রত্যাহারের দাবিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জার ডাকে কোম্পানীগঞ্জে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে।

শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ছয়টায় শুরু হওয়া হরতালের সমর্থনে রাস্তায় পিকেটিং করছেন কাদের মির্জার সমর্থকেরা। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে কাদের মির্জার কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তবে থেমে থেমে তাদের মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া বসুরহাট পৌরসভা এলাকায় কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। অধিকাংশ দোকানপাটও বন্ধ রয়েছে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় বসুরহাট পৌরসভার মিলনায়তন থেকে ফেসবুক লাইভে এসে এ হরতালের ডাক দিয়েছেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

নোয়াখালী ও ফেনীর দুই সাংসদের অপরাজনীতি বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নোয়াখালীর ডিসি, এসপি, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি ও পরিদর্শক তদন্তকে প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবিতে আবদুল কাদের মির্জার ডাকে গত বৃহস্পতিবার হরতাল পালিত হয়।

এর আগে শুক্রবার বিকালে চাপরাশিরহাট বাজারে কাদের মির্জা ও মিজানুর রহমান বাদল অনুসারী আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৫০-৬০ জন নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের কাদের মির্জা নিজের অনুসারী দাবি করে এবং তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে এ হরতালের কর্মসূচি দেয়া হয়।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনাস্থল থেকে আসার সময় চরকাঁকড়া টেকেরবাজার নামক স্থানে বাদল গ্রুপের সদস্য হিসেবে পরিচিত ফখরুল ইসলাম সবুজের নেতৃত্বে রাস্তায় ব্যারিকেড দিলে আবদুল কাদের মির্জা গাড়িবহরসহ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। কয়েক ঘণ্টা পর কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ, অতিরিক্ত রিজার্ভ পুলিশ ও র‌্যাবের কয়েকটি গাড়ি গিয়ে সড়ক অবরোধ তুলে দিয়ে মেয়র কাদের মির্জাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

আরও পড়ুন : সংঘর্ষের পর সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক কাদের মির্জার

বসুরহাট পৌরসভা মিলনায়তনে নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের কাদের মির্জা জানান, এমপি একরাম চৌধুরীর বাড়িতে শুক্রবার দুপুরে বৈঠক শেষে সন্ত্রাসীদের দুই ভাগে বিভক্ত করে আমার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছ। এর মধ্যে বাদলের নেতৃত্বে চাপরাশিরহাট ও সবুজের নেতৃত্বে টেকেরবাজারে হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় মিজানুর রহমান বাদল, চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক, নজরুল ইসলাম শাহীন, হাসিবুস শাহীদ আলোক, ফখরুল ইসলাম সবুজ, ভাগিনা ফখরুল ইসলাম রাহাত, মাহবুবুর রশীদ মঞ্জু, মাহবুবুর রহমান আরিফ অস্ত্র নিয়ে গুলি করেছে।

কাদের মির্জা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এ আক্রমণ সম্ভব নয়। এজন্য আমি এ ঘটনার মামলায় নোয়াখালীর ডিসি, এসপি, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি ও পরিদর্শককে (তদন্ত) আসামি করব।

এছাড়া ফেনীর নিজাম হাজারী এমপি, নোয়াখালীর একরামুল করিম চৌধুরী এমপি, ফেনী পৌরসভার মেয়র স্বপন মিয়াজী, দাগনভুঞা উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন, সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপন, নোয়াখালী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন জেহান, সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব বেলায়েত হোসেন, সেতুমন্ত্রীর এপিএস মহিতুল, পিএ আবদুল মতিন ও পিআরও নাছেরকেও এ মামলায় আসামি করা হবে।

অন্যদিকে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল এ ঘটনার জন্য মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও তার সমর্থকদের দায়ী করেছেন।

তিনি তার ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, গত দুই মাস যাবত আবদুল কাদের মির্জা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ দলের অনেক সিনিয়র নেতাদের কটাক্ষ করে বক্তব্য দিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি করে আসছেন।

এর প্রতিবাদে একটি সংবাদ সম্মেলন করার জন্য শুক্রবার বিকালে তার এলাকা চরফকিরা ইউনিয়নের সব ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে একটি প্রস্তুতিমূলক বৈঠকের ডাক দেয়া হয়। এতে কাদের মির্জার নেতৃত্বে শত শত অস্ত্রধারী সেখানে হামলা চালায়। এতে তার বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

প্রসঙ্গত, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চাপরাশিরহাট বাজারে শুক্রবার বিকালে কাদের মির্জা ও মিজানুর রহমান বাদল সমর্থিত আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় এক সংবাদকর্মীসহ উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন।

সূত্র : বিডি২৪লাইভ
এন এইচ, ২০ ফেব্রুয়ারি

Source link