নোবেল আমার দেশের চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নয়ঃ রাজিব শর্মা

আমার দেশের কৃষক, চাষা, নদীর মাঝি, রিকশাচালক, দিনমজুর, কুলি, শিক্ষক, গার্মেন্টসের কর্মী আমার জন্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ নোবেলের মত “জাতীয় সংগীত” এর নৈতিবাচক সমালোচক আমার জন্য ততটা গুরুত্বপূর্ণ না। তাকে নিয়ে কোন মন্তব্য করার মত জরুরী বলে আমি মনে করি না। আমার জন্য আমার এই দেশ-মাতৃভূমি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের খেয়ে-পরে সেই দেশের সংস্কৃতি, জাতীয় সংগীতের বিরোধীতাকারী কখনো দেশের বন্ধু হতে পারে না। নোবেল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের “সারেগামাপা” তে কয়েকটি গান গেয়েছেন তাও আবার আমার দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা জেমস এর গান, আইয়ুব বাচ্ছুর গান, প্রিন্স মাহমুদের গান নকল করে নটের মত চলেন। তাকে নিয়ে এত ভাবার সময় আমার নেই। সে যার গান গেয়ে ভারতের কলকাতাতে “সারেগামাপা” তে তৃতীয় হয়েছেন তাদের একটু স্মরণ করতে দেখিনি। একজন সংস্কৃতিমনা ব্যক্তি আগে নিজের দেশকে ভালভাসেন পরে অন্যদেশ। যে সামান্য গানের জন্য “জাতীয় সংগীত” এর সমালোচনা সে কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নয়। আমি মনে করি ওনার “জাতীয় সংগীত” নিয়ে কথা বলার আগে জাতীয় সংগীত তিনবার অনুধাবন করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় তরুণ লেখক ও সাংবাদিক রাজিব শর্মা।

নোবলেকে নিয়ে আমার কখনোই কোনো আগ্রহ ছিলো না। এখনো নেই। ফলে জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে ছেলেটা কি বলেছে, তা নিয়েও আলোচনায় আমার উৎসাহ নেই।সত্যি বলতে কি, নোবেলকে নিয়ে বিতর্ক করাটা আমার কাছে একেবারেই গুরুত্বহীন মনে হচ্ছে। তার চেয়ে বরং ডেঙ্গু নিয়ে, ডেঙ্গুতে মানুষের দুর্ভোগের দিকে নজর রাখাটা বেশি গুরুত্বপুর্ণ। নোবেল বিতর্ক কিছুক্ষণের জন্য হলেও আমাদের মনোযোগকে অন্যদিকে টেনে নেবে, অপ্রয়োজনীয় কাজে আমাদের শক্তিক্ষয় ঘটাবে।

!-- Composite Start -->
Loading...

গুজব, গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনি থেকে এক প্রিয়া সাহাই কিন্তু আমাদের মনোযোগটা একটানে সরিয়ে দিয়েছিলো। এখন কিন্তু প্রিয়া সাহা নিয়ে কারো আর আগ্রহ নেই। কিন্তু গনপিটুনি আর গুজব নিয়ে মানুষের মনের মধ্যে যে প্রতিক্রিয়াটা তৈরি হচ্ছিলো, প্রিয়া সেটি তার নিজের দিকে টেনে নিয়েছিলো। ডেঙ্গুর অব্যবস্থাপনা নিয়ে মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, হচ্ছে, নোবেল অত্যন্ত সফলতার সাথে সেই ক্ষোভটা তার নিজের দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারবেন। ফলে আপাতত ডেঙ্গুর বিষয়টা থেকে আমরাও অন্যদিকে সরে যেতে থাকবে।

নোবেল জাতীয় সঙ্গীতকে অবমাননা করলে আমরা কি চুপ করে থাকবো?- গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বটে এটা। নোবেল নামের একজন শিল্পী গান গাইতে গিয়ে জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে তরল মন্তব্য করলেই জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা হয়ে যাবে? জাতীয় সঙ্গীতের অবস্থান নিশ্চয় এতোটা ঠুনকো নয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়েও তো কতো মানুষ কতো কথা বলে, বলেছে। তাতে কি তাদের সম্মান, ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে গেছে? বিষয়গুলো এতো সহজ সরল নয়।সহজ সরল নয় বলেই নোবেলের কথাকে আমি পাত্তা দিতে রাজি না।
আমি বরং ডেঙ্গুর দিকেই মনোযোগ রাখতে চাই। শুরু থেকেই তো ডেঙ্গুর অস্তিত্বকে অস্বীকার করার চেষ্টা চলেছে। দুই মেয়র, স্বাস্থ্যমন্ত্রী -প্রত্যেকেই তো ডেঙ্গু ইস্যূতে অবমাননাকর কথাবার্তা বলেছে। মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে, মৃত্যু নিয়ে এরা তামাশা করেছে। অথচ এদের ব্যর্থতার কারনেই, অব্যবস্থাপনার কারনে, সিটি হলে দুর্নীতির কারনে ডেঙ্গু মহামারীর আকার ধারন করেছে।অথচ তারা অবলীলায় সব অস্বীকার করে গেছে। আপনারা সবাই মিলে প্রবলভাবে নয়েজ তৈরি না করলে- দেশে যে ডেঙ্গু আছে, এটা সরকার, রাষ্ট্র, রাজনীতিকরা স্বীকারই করতো না।

তাই বলি, নোবেল এত গুরুত্ব দেয়ার মতো কেউ না এবং দরকার ও নাই। আমার স্বজন হাসপাতালে ডেঙ্গুতে ছটফট করছে, আমার স্বজন মরে যাচ্ছে, আমার স্বজন হাসপাতালে জায়গা পাচ্ছে না। এগুলো নিয়ে বরং আমরা আলাপে উচ্চকণ্ঠ হই। সরকারি অবহেলায় মানুষের মৃত্যুর বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ হই। রক্তে কেনা জাতীয় সঙ্গীত কোনো অর্বাচীনের তরল মন্তব্যে খানখান হয়ে ভেঙ্গে পরবে- এমন ঠুনকো আমাদের জাতীয় পতাকা বা জাতীয় সঙ্গীত নয়।

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.