নোট-গাইডের বিকল্প খুঁজছে সরকার কৌশল নির্ধারণে চলছে চিন্তা-ভাবনা

0
378

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষার্থীদের প্রতি নোট ও গাইড বই ব্যবহার না করার নির্দেশ থাকলেও এটি বন্ধ হচ্ছে না। বরং শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক চাহিদা থাকায় নোট ও গাইড-নির্ভরতা কমানো যায়নি বিগত কয়েক বছরে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘অ্যাকটিভ লার্নিং’ না থাকায় নোট ও গাইডের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে নোট ও গাইডের কবল থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করা যায়, তার বিকল্প খুঁজছে সরকার।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, আমরা নোট ও গাইডের বিকল্প খুঁজছি। নোটবই ও গাইড ছাড়া শিক্ষার্থীরা যেন ভালোভাবে লেখাপড়া করতে পারে, সেই কৌশলটি কেমন হতে পারে, তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি।

বাজার থেকে নোট ও গাইড বই পুরোপুরি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াও বিষয়ে মাহবুব হোসেন বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে সে রকম সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। আমরা বোঝার চেষ্টা করছি, কেন নোট ও গাইড বই চলছে, কেন তা বাজারে আছে।

অন্যদিকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ক্লাসে নোট ও গাইড বই না পড়াতে প্রতি বছর নির্দেশনা জারি করে আসছে। প্রতি বছরেই অভিযোগ ওঠে যে, এসব নোট ও গাইড ক্লাসে পড়ানো না হলেও শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করা হয়। এই কারণেই এনসিটিবি পাঠ্যবই বিতরণের আগেই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে এই নির্দেশনা দেয়।

চলতি বছর নোট ও গাইড বই কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠার পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর গত ২০ জানুয়ারি নির্দেশনা জারি করে। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, কারিকুলামের বাইরে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত বই কেনা বা নোট বই পড়তে ও কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে যা বিধি পরিপন্থি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে নোট ও গাইড বই বাজারজাত না করার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি আদেশে। শিক্ষার্থীদের কেনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বিক্রির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা নেই।

নোট-গাইডের ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. উম্মে সালমা বলেন, বই কঠিন, শিক্ষকের সহায়তা ছাড়া শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারবে না। স্কুলেও পুরোপুরি সহায়তা পাচ্ছে না। তাই শিক্ষার্থীরা নোট ও গাইড বইয়ের সহায়তা নিচ্ছে। এক বছরে ১৪০ দিন ক্লাস নিতে পারি। অথচ পুরো বছরের জন্য কারিকুলাম। কারিকুলাম ঠিকমতো বাস্তবায়ন হয় না। ফলে শিক্ষার্থীরা নোট ও গাইডের সহায়তা নেয়। আর যেখানে সহজেই নোট-গাইড পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে শিক্ষকরাও সহজেই তা গ্রহণ করছে। এছাড়া দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষক ক্যাপাবল না।

এ বিষয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফওজিয়া রেজওয়ান বলেন, নোট ও গাইড না থাকলেই ভালো। তবে রাতরাতি উঠিয়ে দিলে সমস্যা হবে। বেসরকারি অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মান যাচাই না করেই টাকার বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নোট ও গাইড বইয়ের ওপর নির্ভরশীল। নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করার কারণে ঠিকমতো ক্লাস হয় না। তখন শিক্ষার্থীদের নির্ভর করতে হয় নোট ও গাইডের ওপর। এটা দীর্ঘদিনের কালচার। এর সঙ্গে অনেক কিছু জড়িত, শিক্ষার মানও জড়িত। অনেকগুলো মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত। এটা হঠাৎ করে তুলে ফেললে, বিরূপ প্রভাব পড়বে। ধীরে ধীরে তুলে দিতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে