`নীতিহীন ও বহুরূপী ব্যক্তিরাই বিএনপি চালাচ্ছে‘

95


সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: কিছু নীতিহীন, সুবিধাবাদী ও বহুরূপী ব্যক্তি বিএনপি চালাচ্ছে বলেন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড۔ সেলিম মাহমুদ।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ডাটাবেস টিমের এক ভার্চুয়াল সভায় গতকাল শুক্রবার (২০ আগস্ট)  আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড۔ সেলিম মাহমুদ এসব কথা বলেনl

এ বিষয়ে সেলিম মাহমুদ বলেন, কিছু নীতিহীন, সুবিধাবাদী ও বহুরূপী ব্যক্তি বিএনপি চালাচ্ছেl বিএনপি নেতা মেজর হাফিজ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যে মন্তব্য করেছেন, সেটি একদিকে যেমন হাস্যকর, অন্যদিকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ l

মেজর হাফিজের মন্তব্যকে পাগলের প্রলাপ অভিহিত করে তিনি বলেন, গত সাত দশকের বেশি সময় আওয়ামী লীগ এদেশের কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসায় বেঁচে আছেl আওয়ামী লীগের শেকড় সমগ্র বাংলাদেশে বিস্তৃত এবং এই শেকড় অত্যন্ত মজবুত l আওয়ামী লীগ এদেশের প্রতিটি ধূলিকণায়, প্রতিটি ঘাসের সঙ্গে মিশে আছেl জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এই দেশ প্রতিষ্ঠা করেছেনl তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেl

সেলিম মাহমুদ আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মেজর হাফিজের মন্তব্যে তাদের ইতিহাস বিকৃতি ও মিথ্যাচারের রাজনীতির পুরনো মানসিকতাই ফুটে উঠেছেl

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জিয়ার সরাসরি যুক্ত থাকার বিষয়টি দালিলিকভাবে প্রমাণিতl অথচ মেজর হাফিজরা বলছেন— এটি আওয়ামী লীগের মিথ্যা প্রচারণা l

‘জিয়াউর রহমান একজন সৈনিক ছিলেন, যিনি সংবিধান সম্মুন্নত রাখার চেষ্টা করেছিলেনl জিয়ার মতো একজন সাদা মনের মানুষকে আজকে তারা খুনি হিসেবে দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করতে চায়’— মেজর হাফিজের এমন মন্তব্যে ড. সেলিম বলেন, জিয়া শুধু সপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যার মূল নির্দেশদাতাই ছিলেন না, ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত অসংখ্য সেনা কর্মকর্তা- সৈনিককে হত্যা করেছিলেন জিয়াl

তিনি আরও বলেন, `মেজর হাফিজ কি ভুলে গেছেন, আজ থেকে ৪৬ বছর আগে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার কারণে এবং বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সার্বক্ষণিক প্রশ্রয় ও সমর্থন দেওয়ার কারণে আরও কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে মিলে মোশতাক-জিয়ার বিরুদ্ধে ক্যু করেছিলেন মেজর হাফিজl জেনারেল জিয়াকে যে কয়েকজন অফিসার সেদিন বন্দী করেছিলেন, মেজর হাফিজ তাদের অন্যতমl সেই ক্যু ব্যর্থ হওয়ায় জিয়ার নির্দেশে হাফিজরা গ্রেফতার হয়েছিলেনl জিয়ার নির্দেশে কোর্ট মার্শালে মেজর হাফিজদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আয়োজন যখন চলছিল, তখন জেনারেল মঞ্জুরের মধ্যস্থতায় মেজর হাফিজসহ কয়েকজন সেনাবাহিনী থেকে বিদায়ের শর্তে প্রাণে রক্ষা পানl‘

`পরবর্তীতে মেজর হাফিজের বহুরূপী চরিত্র অনেকেই দেখেছেনl বিএনপি সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ৮০ দশকে এরশাদের দলে যোগদান, এরশাদ সরকারের প্রতিমন্ত্রীর পদ পাওয়া, এরশাদের পতনের পর সুযোগ-সুবিধার হিসাব নিকাশ করে খালেদা জিয়ার বিএনপিতে যোগদান, বিএনপির মন্ত্রিত্ব পাওয়া, পরবর্তীতে বিএনপির বিপর্যয়ের পর এক-এগারোতে অরাজনৈতিক শক্তির উচ্ছিষ্টভোগী হিসেবে নিজের নাম লেখাতে সক্রিয় ছিলেন এই মেজর হাফিজl ওয়ান-ইলেভেনের পর আবার বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া এই মেজর হাফিজরা নীতিহীন ও সুবিধাবাদী রাজনীতির প্রতিভূl তাদের মুখে বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী দল, বাংলার গণমানুষের দল আওয়ামী লীগকে ভয় দেখানো মানায় নাl এটি চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও হাস্যকর — বলেন ড. সেলিম মাহমুদ।

তিনি আরও বলেন, যারা বাংলার মানুষকে আফগানিস্তানের ভয় দেখাতে চায়, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেl এই রাষ্ট্র বঙ্গবন্ধুর, এই রাষ্ট্র শেখ হাসিনারl ষড়যন্ত্রকারীরা শুধু একবারই সফল হয়েছিল— সেটি ১৯৭৫ সালে জাতির পিতার অন্ধ বিশ্বাসের কারণেl এখন সেই সুযোগ কোনো ষড়যন্ত্রকারীর নেইl সকল ষড়যন্ত্রকারীকে নির্মূল করার সক্ষমতা এখন আমাদের রয়েছেl

এই ভার্চুয়াল সভায় আরও সংযুক্ত ছিলেন আওয়ামী লীগের ডাটাবেস টিমের সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা সাজ্জাদ সাকিব বাদশা, নাসিম রূপক, আশরাফ সিদ্দিকী বিটু, নুরুল আলম পাঠান মিলন, জাফরুল জুয়েল, আমজাদ হোসাইন বাচ্চু, রায়হান কবির, আদিত্য নন্দী ও আহমেদ কৌশিক প্রমুখ।

সারাবাংলা/এনআর/এনএস





Source link