নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দাম কমাতে ভোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবেঃ এস এম নাজের হোসাইন(ক্যাব)

লেখকের কলম থেকেঃ পবিত্র রমজান, ঈদ, পূজা-পার্বণ আসার বহু আগেই আমাদের দেশে ব্যবসায়ীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়ে জনজীবনে অসহনীয় পরিবেশ তৈরি করে থাকেন। পবিত্র রমজান সামনে রেখে প্রতি বছর অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী ও মজুদদারের আবির্ভাব ঘটে। এসব ব্যবসায়ী রমজান উপলক্ষে চিনি, ছোলা, ডাল, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, চাল, সয়াবিন, খেজুর, পাঞ্জাবি, শাড়ি ইত্যাদি পণ্যের পসরা সাজিয়ে থাকেন। অনেকে আবার ডিও ব্যবসার মতো পণ্যদ্রব্যের আমদানি ও বাজারজাত করে থাকেন। কথিত আছে, এসব ব্যবসায়ী নাকি বলেই থাকেন- ‘রমজানে একমাস ব্যবসা করব, আর সারা বছর আরামে কাটাব।’ পবিত্র রমজান মাস মুসলিম বিশ্বের জন্য আল্লাহর নিয়ামত বা দান এবং এটি সংযম ও নাজাতের মাস, পাপমুক্তির মাস হলেও এসব মৌসুমি ব্যবসায়ী নামদারি মূল্য-সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যের কারণে জনজীবন হয়ে উঠে অসহনীয় ও যন্ত্রণাদায়ক। পবিত্র রমজান উপলক্ষে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রমজানের ব্যবহার্য সব পণ্য এবং পবিত্র বড়দিন উপলক্ষে ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোতে পণ্যসামগ্রীর বাজারে বিশাল মূল্যহ্রাস প্রথা চালু আছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও পুজোর সময় মূল্যহ্রাসসহ নানা প্রথা চলমান আছে। কিন্তু তার বিপরীতে আমাদের দেশে পরিস্থিতি পুরোপুরি উল্টো। রমজান, ঈদ বা পুজো এলেই আমাদের দেশের খুচরা থেকে মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ীরা সাধারণ ভোক্তাদের পকেট কাটার উৎসবে মাতোয়ারা হন, ‘শুভ মূল্যবৃদ্ধি’ এ স্লোগান দিয়ে। ফলে জনগণের নাভিশ্বাস ওঠে। রমজান নাজাতের মাস হলেও অনেকের কাছে এটি আতঙ্কের মাসে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের কর্তাব্যক্তিরা ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ীদের প্রতি দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন; কিন্তু কতটা কার্যকর হয় এটি দেখার বিষয়। পবিত্র ইসলামেও অতিরিক্ত মূল্য আদায়কে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, ‘ব্যবসায়ী যদি সীমাতিরিক্ত মূল্য গ্রহণ করে এ সুযোগে যে, ক্রেতা পণ্যের প্রকৃত মূল্য জানে না; তাহলে এ অতিরিক্ত পরিমাণের মূল্য সুদ পর্যায়ে গণ্য হবে।’ আবার মজুদদারি সম্পর্কে হজরত মুহাম্মদ (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘মজুদদার খুবই নিকৃষ্টতম ব্যক্তি। যদি জিনিসপত্রের দাম হ্রাস পায়, তবে তারা চিন্তিত হয়ে পড়ে। আর যদি দাম বেড়ে যায়, তবে আনন্দিত হয়।’ (মেশকাত) নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে আমরা প্রায়ই সরকারকে দোষারোপ করে থাকি। এটি ঠিক যে, সরকারের যথাযথ মনিটরিংয়ের দুর্বলতার সুযোগে আর দ্রব্যমূল্য মনিটরিংয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারের কর্তাব্যক্তিদের খামখেয়ালিপনার কারণে কিছু মুনাফাখোর, মজুদদারি, সিন্ডিকেট ও অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে নিত্যপ্রয়োজণীয় দ্রব্যমূল্যের বাজার অস্থিতিশীল হয়। একশ্রেণীর নীতি আদর্শহীন, অতি মুনাফালোভী, অসাধু ব্যবসায়ী দ্রুত কোটিপতি হওয়ার বাসনায় তাদের ইচ্ছামতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্যের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এবং দাম বাড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অচল করে দেয়। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবন নির্বাহ করা কঠিন ও অনেকাংশে অসম্ভব হয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে দাম বাড়ালেও ওই পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্য কমলেও তারা আর কমায় না। আবার যখনই কোনো পণ্যের দাম বাড়ে, তখনই সাধারণ জনগণও সেখানে হুমড়ি খেয়ে পড়েন; দাম বাড়ার গুজবে নিজেরাই ওই পণ্যের মজুদে তৎপর হয়ে উঠে। ফলে সংকট আরও ঘনীভূত হয়। আমাদের সবার জানা, বছরপাঁচেক আগে ভারতে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেলে, পুরো ভারতবর্ষে ভোক্তারা পেঁয়াজ কেনায় সাশ্রয়ী হয়ে ওঠেন এবং বিকল্প ব্যবহার শুরু করেন। ফলে একপর্যায়ে ভারতে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি স্তিমিত হয়ে পেঁয়াজের মূল্য এত কমে যায় যে, অনেক ব্যবসায়ী পেঁয়াজ বিক্রি করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ লোকসান গুনতে বাধ্য হয়েছিল। একজন সাধারণ ক্রেতা-ভোক্তা হিসেবে আমরা সবসময় আমাদের অধিকারের কথা বলি। অধিকার ভোগ করতে গিয়ে আমাদের ওপর যে দায়িত্বগুলো বর্তায়, তা কিন্তু একেবারেই ভুলে যাই। একজন ক্রেতা-ভোক্তা হিসেবে জাতিসংঘ স্বীকৃত ভোক্তা অধিকারগুলো হল- অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের মৌলিক চাহিদা পূরণের অধিকার, নিরাপদ পণ্য ও সেবা পাওয়ার অধিকার, পণ্যের উপাদান, ব্যবহারবিধি, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ইত্যাদি তথ্য জানার অধিকার, ন্যায্যমূল্যে সঠিক পণ্য ও সেবা পাওয়ার অধিকার, অভিযোগ করার ও প্রতিনিধিত্বের অধিকার, কোনো পণ্য বা সেবা ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার, ক্রেতা-ভোক্তার অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা লাভের অধিকার, স্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ ও বসবাস করার অধিকার। ঠিক একইসঙ্গে আমাদের রয়েছে ৫টি দায়িত্ব। এগুলো হল- পণ্য বা সেবার মান ও গুণাগুণ সম্পর্কে সচেতন এবং জিজ্ঞাসু হওয়া, দরদাম করে সঠিক পণ্যটি বাছাই করা, আপনার আচরণে অন্য ক্রেতা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন সে ব্যাপারে সচেতন থাকা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সচেতন ও সক্রিয় হওয়া, ক্রেতা-ভোক্তা হিসেবে অধিকার সংরক্ষণে সোচ্চার ও সংগঠিত হওয়া। উপরোক্ত বিষয়গুলো জাতিসংঘ স্বীকৃত ক্রেতা-ভোক্তা অধিকার ও দায়িত্ব হলেও বাংলাদেশর সাধারণ জনগণ প্রতিনিয়তই এবং প্রতি পদে পদে এসব অধিকার থেকে যেমন বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি দায়িত্ব সম্পর্কে একেবারেই নির্লিপ্ত ও অনাগ্রহী। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, জাতীয়, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বহুজাতিক দাতাগোষ্ঠী দুর্নীতি হ্রাস, সুশাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষায় সরব থাকলেও জনগণের নিত্যনৈমিত্তিক এ অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে তাদের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। অথচ ক্রেতা-ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করা না গেলে তৃণমূল পর্যায় থেকেই মানবাধিকার সুরক্ষা বা সুশাসনের স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থেকে যাবে। কারণ তৃণমূলে ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত না হলে মানুষের জীবন-জীবিকা স্বাভাবিক রাখা কঠিন হবে। এখন প্রশ্ন হল, আমরা কি আমাদের অধিকার এবং দায়িত্বগুলো সম্পর্কে সচেতন ও জ্ঞাত? যদি তাই হয়, তাহলে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে যদি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, পণ্যের বাজার অস্থিতিশীল করে থাকে, তাহলে ভোক্তা হিসেবে আমরা কেন তাদের সেই পাল্লায় পা দেব? পৃথিবীর সব উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে ভোক্তারাই পণ্যের প্রধান নিয়ামক। কারণ ভোক্তারা পণ্যটি ব্যবহার করলেই উৎপাদক, শ্রমিক, আমদানিকারক ও খুচরা-পাইকারি বিক্রেতারা লাভবান হবেন। সে কারণে উন্নত দেশগুলোতে ভোক্তাদের বলা হয় ‘ক্রেতা সম্রাট’। আর উৎপাদক ও আমদানিকারকরা সবসময় ভোক্তাদের পছন্দ-অপছন্দের কথা মাথায় রেখে পণ্য উৎপাদন ও বিক্রি করে থাকেন। আমরা সবাই জানি, বাংলাদেশ থেকে রফতানি করা গার্মেন্ট পণ্য ক্রয়ের সময় ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতারা গার্মেন্ট পণ্যটি পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে প্রস্তুত কিনা, তা সরেজমিন দেখার জন্য প্রায়ই বাংলাদেশের বিভিন্ন গার্মেন্ট পরিদর্শন করতে আসেন। ক্রেতাদের সরেজমিন পরিদর্শনের পর আস্থা অর্জন হলেই বিক্রেতারা পণ্যগুলো বাজারজাত করতে পারেন। কিন্তু আমাদের দেশে পরিস্থিতি তার উল্টো। ক্যাবের অনুসন্ধানে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর ও বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা ফল, মাংস ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য আমদানিতে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই বাজারে আসছে। কারণ কাস্টমস, বিএসটিআই, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও খাদ্য বিভাগের পরীক্ষার জন্য কোনো আধুনিক ব্যবস্থা ও লোকবল পর্যন্ত নেই। ব্যবসায়ীরা একদিকে যেমন পণ্যদ্রব্যের মূল্য বেশি নিয়ে জনগণের পকেট কাটছে, অন্যদিকে দুধ-মাছে ফরমালিন, ইউরিয়া, ফলমূলে কার্বাইডসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশিয়ে কৃত্রিমভাবে পাকিয়ে এবং এগুলো তাজা রাখার জন্য ব্যবহার করছে সালফার, ইথেনসহ নানা কেমিক্যাল, যা মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। শাকসবজি তাজা রাখার জন্য ব্যবহার করছে হরেক রকমের কেমিক্যাল। নষ্ট ছোলা, ভালো ছোলার সঙ্গে এবং পচা চাল ভালো চালের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি করছে। বিভিন্ন গুঁড়া মসলায় ইটের গুঁড়া, কাপড়ের রংসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর দ্রব্য মিশ্রণ করে বিক্রি করছে। সরিষার তেলে মেশাচ্ছে সাইট্রিক এসিড। একইসঙ্গে সিঙ্গারা-সমুচা তৈরিতে সয়াবিনের সঙ্গে পোড়া মবিল মেশানো হচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত রমজানে আমদানি করা খেজুর ও ফলমূলে ফরমালিন পাওয়া গেছে। অথচ এ খেজুর ও ফল দিয়ে রোজাদাররা ইফতারি করে থাকেন। অসাধু ব্যবসায়ীরা এ খেজুর ও ফলমূলে ক্ষতিকর ফরমালিন মিশ্রণ করে মানুষের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। ভোক্তা হিসেবে এগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। রমজান উপলক্ষে ক্যাব থেকে সম্মানিত ক্রেতা-ভোক্তাদের কাছে আমাদের আবেদন- দয়া করে একজন ক্রেতা-ভোক্তা হিসেবে সবাই দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো সম্পর্কে সচেতন হন। একইসঙ্গে একসঙ্গে মাসের বাজার না কিনে সপ্তাহের জন্য সপ্তাহে কিনি। পণ্য ক্রয় করার সময় দাম ও পণ্যের মান যাচাই-বাছাই করে কিনি। কোনো পণ্যের দাম বাড়লে তা কেনা ও মজুদের জন্য হন্যে হয়ে না পড়ে আগে খোঁজখবর নিই; প্রয়োজনে বিকল্প হিসেবে অন্য পণ্য কিনি এবং ওই পণ্যটি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হই। এটি প্রায় সময় দেখা যায়, রমজানের সময় ছোলা, কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ, বেগুন ও শসার দাম আকাশচুম্বী হয়ে যায়। রমজানে এগুলোর ব্যবহার সীমিত করলে রমজানের পবিত্রতা নষ্ট হবে না বা তৃপ্তিতে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। তাহলে কেন আমরা রমজানের সময় বিনা কারণে এসব উপাদানের পেছনে ছুটছি, তা নতুন করে ভাবতে হবে। সবচেয়ে বেশি যা প্রয়োজন তা হল, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিকল্প উৎস বের করা এবং কোনোভাবেই একক পণ্যের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল না হওয়া। সরকারেরও উচিত, এসব ভোগ্যপণ্য আমদানির ভার এককভাবে মুষ্টিমেয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর হাতে ছেড়ে না দিয়ে মনোপলি ব্যবসা বন্ধ করা। একইসঙ্গে উৎস দেশ হিসেবে সবকিছুর জন্য কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে অন্যান্য দেশের ওপরও গুরুত্বারোপ করা। এছাড়াও যেসব উৎপাদক, আমদানিকারক, ব্যবসায়ী- তিনি পাইকারি ও খুচরা যাই হন না কেন, যারাই ইচ্ছাকৃতভাবে বাজারে কৃত্রিমভাবে পণ্য কেনাবেচায় সংকট তৈরি করছে; তাদের বাজারজাতকৃত পণ্য বয়কট এবং একইসঙ্গে তাদের সামাজিকভাবেও বয়কট করি। অনেক বিত্তবান রমজান মাসে ইফতারি দিয়ে সাহায্য করেন। এটি ভালো উদ্যোগ। তবে তাকে ইফতার সামগ্রী না দিয়ে যদি টাকা দেয়া হয়, তাহলে সে তার পছন্দমতো পণ্য কিনে নিতে পারবে। আমি যাকে ইফতারি সামগ্রী দিচ্ছি, তার হয়তো চাল দরকার- বিষয়টি এভাবে ভাবলে পণ্য সামগ্রীর সরবরাহে বিঘ্ন ঘটবে না। মনে রাখতে হবে, ভোক্তা হিসেবে আমরাই সব পণ্যের নিয়ামক। কোনোভাবেই উৎপাদক, বাজারজাতকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা যেন পণ্যের মূল নিয়ামক না হন; সেজন্য আমাদেরই এগিয়ে আসতে হবে ও সচেতন হতে হবে। প্রতিটি রমজান ও পূজা-পার্বণ উপলক্ষে দেশে কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ীর আর্বিভাব ঘটে। কিন্তু যারা প্রকৃত ব্যবসায়ী, তারা সারা বছর বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করে আমাদের চাহিদা মিটিয়ে থাকেন। এসব মৌসুমি ব্যবসায়ীর উৎপাতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাদের করণীয় তেমন থাকে না। তাই মৌসুমি ব্যবসায়ীদের বিষয়ে সতর্ক হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। তেমনিভাবে ফুটপাতে ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যের কারণে মার্কেটের ভেতরে আসল ব্যবসায়ীর ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমরা সাশ্রয়ের জন্য ফুটপাত থেকে কেনাকাটা করি; কিন্তু তাদের কারণে বড় বড় শহরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নিরাপদে চলাফেরা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে ভাববার সময় এসেছে। বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্য ব্যবহার বাদ দিয়ে দেশীয় পণ্য কিনি। আমদানি করা পণ্যের বাহারি বিজ্ঞাপনে সাড়া না দিয়ে স্থানীয় পণ্য ব্যবহার করি। দেশকে অন্য দেশের পণ্যের বাজারে পরিণত ও তাদের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করলে দেশের অর্থ দেশে থাকবে, দেশীয় কর্মসংস্থান বাড়বে এবং জাতীয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।

লেখকঃ এসএম নাজের হোসাইন : ভাইস প্রেসিডেন্ট, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)

!-- Composite Start -->
Loading...
মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.