নিজেকে ভালো রাখতে চাইলে

206

যার-তার কাছে নিজের অবস্থানটা ব্যাখ্যা করবেন না। যার কাছে কৈফিয়ত দেওয়ার দরকার নেই, তার কাছে কখনওই কৈফিয়ত দেবেন না। বান্দরকে লাই দিলে মাথায় ওঠে, আর মানুষকে লাই দিলে মাথায় উঠে হিসু করে দেয়! মানুষ বান্দরেরও অধম!

কেউ আপনাকে ভুল বুঝছে? বুঝতে দিন।
কেউ আপনার সম্পর্কে ভুল ব্যাখ্যা করছে? করতে দিন।
কেউ শোনাকথার উপর ভিত্তি করে আপনাকে জাজ করছে? করতে দিন।
কেউ আপনাকে অপমান করার জন্য বানোয়াট কথা ছড়াচ্ছে? ছড়াতে দিন।
কেউ আপনাকে না চিনেই আপনার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মন্তব্য করছে? করতে দিন।

কেউ গায়ে পড়ে পরামর্শ দিতে বা ঝগড়া বাধাতে চাইছে? কেউ আপনাকে ছোটো করার চেষ্টা করছে? কেউ আপনাকে খোঁচা মেরে কথা বলছে? কেউ আপনাকে বিরক্ত করার জন্য মুখিয়ে আছে? কেউ আপনাকে বুলিইং করতে চাইছে?

এসব তো আমাদের সাথে হয়েই থাকে, তাই না? ফেইসবুকে এলেই এসব সহ্য করতে হয়।

মাত্র এক সপ্তাহ একটা কাজ করে দেখতে পারেন। যে আপনাকে বোঝে না কিংবা ভুল বোঝে, তার কাছে নিজেকে বোঝানোর একটুও চেষ্টা করবেন না। সে যা ইচ্ছা ভাবুক! আপনাকে ভুল বুঝতে দিন, আপনাকে না বুঝতে দিন। যদি দেখেন, সে থামছে না, তবে একসেকেন্ডও না ভেবে তাকে ব্লক করে দিন, একদম সাথে সাথেই। ভয় পাবেন না, এসব বেকার আজাইরা কুত্তারা কেবল ফেইসবুকেই চিল্লায়, সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলারও সাহস ওদের নেই। যদি মাথায় আসে, ‘সে কী ভাববে!’, তবে আমি বলব, ‘তার ভাবনাকে কেয়ার করার আদৌ কি কিছু আছে?’

যার আচরণে মনের শান্তি নষ্ট হয়, যার কারণে মনের মধ্যে বিরক্তির উদ্রেক হয়, দ্বিতীয় বার চিন্তা না করেই তাকে ব্লক করে দিন। যার কাছে নিজেকে ব্যাখ্যা করার দরকার নেই, সে ব্যাখ্যা চাইলে তাকে ব্লক করে দিন। এত ফালতু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় নেই, দরকারও নেই। নিতান্ত বাধ্য না হলে এই দুনিয়ার কারও কাছেই নিজেকে ব্যাখ্যা করবেন না। মনে রাখবেন, সবকিছুর উপরে নিজের আত্মসম্মানবোধ ও শান্তি।

আপনার ফেইসবুক আইডি’র ব্লকলিস্ট পাগল, ছাগল, মূর্খ, বেআক্কেল, বেয়াদব, বেহায়া, ক্ষতিকর ও বিরক্তিকর লোকজন দিয়ে ভর্তি করে ফেলুন। সময় বাঁচান, শান্তি বাড়ান। এই দুনিয়ায় মনের শান্তির উপর আর কিছু নেই। যদি দু-একজন সেই লিস্টে ভুলে ঢুকে যায়, তাতেও কোনও সমস্যা নেই। আগাছা পরিষ্কার করার সময় দু-একটা ভালো গাছ কাটা পড়তেই পারে। ব্যাপার নাহ্‌! অভিজ্ঞতা থেকে একটা কথা বলি। মাত্র এক-শো ফালতু লোক যে পরিমাণ ক্ষতি করতে পারে, এক লক্ষ ভালো লোক মিলেও তার দশ ভাগের এক ভাগও উপকার করতে পারে না বা করে না। তারা তো আপনার জন্য মিলিতই হবে না, করবে আর কী করে! তাদের সেই ইচ্ছে কিংবা ক্ষমতা নেই। বিপদে পড়লে দেখবেন, যাদের আপনি ভালো মানুষ বলে জানেন, তাদের কেউই কোনও কথা বলছে না, সব দেখেও চুপচাপ আছে। ভালো মানুষের মধ্যে আত্মকেন্দ্রিকতা খুব বেশি। মার খাওয়ার কিংবা ঝামেলায় পড়ার ভয়ে ভালো মানুষ বরাবরই চুপ করে থাকে। আপনি বিপদে পড়বেন গুটিকয়েক খারাপ লোকের সরবতার কারণে নয়, অগণিত ভালো লোকের নীরবতার কারণে। ভালো লোক সংখ্যায় বেশি, কিন্তু ওরা কোনও কাজের না। পুরো ক্লাসকে মাথায় তোলার জন্য এক-শো ছাত্রের মধ্যে মাত্র দু-চারটা দুষ্ট ছেলেই যথেষ্ট!

আবারও বলছি। অপ্রয়োজনীয় লোকজনের জন্য নিজের শান্তি, সুখ, স্বস্তি, সময় নষ্ট করবেন না। যার সামনে নিজেকে ব্যাখ্যা করার দরকার নেই, তার সামনে কণামাত্রও কৈফিয়ত দেবেন না। যত কম মানুষকে জীবনে জায়গা দেবেন, তত ভালো থাকবেন। ফেইসবুকের তেমন কাউকেই আপনার দরকার নেই, আপনাকেও তেমন কারও দরকার নেই। জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় মানুষ পাওয়ার ক্ষেত্রে ফেইসবুক ‘মোটামুটি’ ভুয়া একটা জায়গা! এক শান্তি বাদে আর তেমন কিছুই আসলে আমাদের দরকার নেই। যাকে ব্লক করতে পারেন না কোনও-না-কোনও কারণে, তার মেসেজ স্প্যামে ফেলে রাখুন। শরীরে তেল বেশি হলে সে মেসেজ পাঠাক আর পাঠাতেই থাকুক। ঘরের দরজার সামনে এসে কুত্তারা চিল্লায় তো চিল্লাক না! আপনি দরজা না খুললেই তো হলো!

আসল কথা হচ্ছে, এই ব্যাপারটাকে অহংকার বলে না, আত্মসচেতনতা বলে। পতনের মূল যদি হয়ও, তবে পতিত হলে তো আমি পতিত হব! আপনার কী সমস্যা? কথা সেটাও না! সত্য কথা হচ্ছে, আশেপাশে যাদের দেখেন, তাদের প্রায় সবাই-ই আপনার ভালো থাকার জন্য পুরোপুরিই অপ্রয়োজনীয়। যে লোককে আপনার ভালো থাকতে লাগে না, আপনাকে খারাপ রাখার সুযোগটা তাকে দিয়ে আপনার কী লাভ? টাকাপয়সা, পেশা, সম্পর্ক, আনন্দ, দায়িত্ব—আপনার জীবনে এই পাঁচটি বিষয়ের বাইরে যারা, তাদের তেমন কেউই আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নন।