নানা অনিয়মের মধ্যদিয়ে রামগতি পৌরসভায় ভোট অনুষ্ঠিত

0
96

জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :: চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠিত পৌরসভার নির্বাচনে লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভায় মেয়র প্রার্থীদের ভোট বর্জন ও নানা অনিয়মের মধ্যদিয়ে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রামগতি পৌরসভায় রবিবার সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। এই প্রথম লক্ষ্মীপুরে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহন করা হয়। সকাল থেকে কেন্দ্র গুলোতে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোরের উপস্থিতি বেশ লক্ষ্যনীয় ছিল। এদিকে নৌকায় ভোট দেয়া বাধ্যতামূলক, এজেন্টদের মারধর ও কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়ার অভিযোগে তিনজন মেয়র প্রার্থী ভোট বর্জন করেন। এ ছাড়া ইভিএম বাইরে রেখে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। অন্যদিকে নির্বাচনি এলাকায় জেলা থেকে আগত বহিরাগত আওয়ামী লীগের নেতা—কমীদের অবস্থান ছিল ব্যাপক। তবে এতে আইন—শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থান ছিল নিরব।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকালে ইভিএম বাইরে রেখে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া যায়। ৬নং ওয়ার্ডের আলেকজান্ডার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই কেন্দ্রের নারী ও পুরুষ বুথে ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেনসহ প্রত্যেকটি বুথে একই রকমভাবে নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করতে দেখা গেছে। ইভিএম নিয়ে বসে থাকা আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেদের নৌকা প্রতীকের এজেন্ট দাবি করেছেন। তবে প্রতিটি বুথেই নৌকার তিন—চারজন করে এজেন্ট দেখা গেছে। এদিকে একটি বুথেও ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্ট দেখা যায়নি। তারা আসছে কি না তাও বলতে পারছে না সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার মো. ইউসুফ ও আবদুর রাজ্জাক।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা প্রভাব খাটিয়ে ইভিএম বাইরে রেখে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করছে। এ নিয়ে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। ঘন্টা দেড়েক ভোটের পরিবেশ কিছুটা ভালো ছিল। সকাল সাড়ে ৯ টার পর আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর কর্মী—সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেন। এরপর কেন্দ্র থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা অন্য প্রার্থীদের এজেন্টদের বের করে দেয়।

অপর দিকে রামগতি পৌরসভায় নৌকায় ভোট দেয়া বাধ্যতামূলক, এজেন্টদের মারধর ও কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়ার অভিযোগে ধানের শীষের প্রার্থী সাহেদ আলী পটু, লাঙলের প্রার্থী আলমগীর হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবী আবদুল্যা ভোট বর্জন করেন। বেলা ১১টার দিকে তারা সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিএনপির প্রার্থী সাহেদ আলী বলেন, ইভিএম আওয়ামী লীগ নেতাদের দখলে। তারা ভোটারদের নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করছেন। প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারগণ না দেখার ভান করছেন। আমি এ জন্য ভোট বর্জন করেছি।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী আলমগীর হোসেন বলেন, আমার এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি। মারধর করা হয়েছে। নৌকায় ভোট দিতে আওয়ামী লীগের নেতারা ভোটারদের বাধ্য করছে। এ নির্বাচনে থাকার প্রয়োজন নেই। আমি ভোট বর্জন করেছি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আবী আবদুল্যা বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ও আইন—শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে এখানে সন্ত্রাসী কায়দায় ভোট ডাকাতি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে ভোট কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নেন বহিরাগতরা। এতে ইভিএম ছিল আওয়ামী লীগ নেতাদের দখলে। তারা ভোটারদের নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করছেন। এ জন্য আমি ভোট বর্জন করেছি।

রামগতি পৌরসভা নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী হেকমত আলী বলেন, ভোট বর্জনের বিষয়টি আমি জানি না। কালো পর্দার বাইরে ইভিএম থাকার কথা নয়। কোথাও বাহিরে ছিলো কিনা তা কেউ আমাকে জানায়নি। যিনি নিয়ম ভঙ্গ করবেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

রামগতি পৌরসভা নির্বাচনে সব গুলো কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ শনাক্ত করা হয়। এ বিবেচনায় পুরো পৌরসভায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে আইন—শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন ছিল।

এর আগে নির্বাচনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়। এ প্রথম লক্ষ্মীপুরে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নির্বাচনী এলাকায় একপ্লাটুন বিজিবি, ৭০ জন পুলিশ সদস্য, ৯০ জন আনসারসহ গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাব ও কোস্টগার্ডের বিশেষ টিম নিরাপত্তায় ছিল। একই সঙ্গে পাঁচটি স্ট্রাইকিং ফোর্স সার্বক্ষণিক টহলে ছিল।

লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে। কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আমরা সকল প্রস্তুতি নিয়ে ছিলাম। নির্বাচনে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে আইন—শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন ছিল।

লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান বলেন, সকল কেন্দ্রকে গুরুত্ব দিয়ে জেলা পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবিসহ নির্বাচনে আইন—শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোটাররা স্বর্তঃস্পূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।

নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, রামগতি পৌরসভায় মেয়র পদে নৌকা প্রতিকে মেজবাহ উদ্দিন মেজু, ধানের শীষে সাহেদ আলী পটুসহ ৬জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে সংরক্ষিত ও সাধারণ আসনে ৪৯ জন প্রার্থী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। পৌরসভার ১০ কেন্দ্রে ২০ হাজার ৯০৫জন ভোটার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

 

Print Friendly, PDF & Email

Source link