নতুন পদ্ধতিতে সমাপনী পরীক্ষা চায় মন্ত্রণালয়

0
1296
edu_ministry

প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ইবতেদায়ি মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির শিশুদের সমাপনী পরীক্ষার নতুন পদ্ধতির খোঁজে শিগগির কাজ শুরু করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ স্তরের পরীক্ষা বাতিল না করে শিক্ষার্থীদের চাপমুক্ত রেখে কার্যকর শিখন পদ্ধতিতে পরীক্ষা রাখার চিন্তা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের। পরীক্ষার ফলে জিপিএ গ্রেড ৫ না রেখে সর্বোচ্চ গ্রেড ৪ করার উদ্যোগও নেওয়া হবে।

সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার চাপ থেকে মুক্ত রেখে আনন্দের সঙ্গে লেখাপড়ার বিষয়ে অভিমত ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর এ বিষয়ে কাজ শুরুর পরিকল্পনা করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ প্রসঙ্গে গতকাল সোমবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, এখন এ বছর সমাপনীর পরীক্ষা ফল নিয়ে ব্যস্ততা যাচ্ছে।

এর পর আছে ২০২০ সালের নতুন পাঠ্যপুস্তক বিতরণের কাজ। এগুলো শেষ করেই প্রাইমারির সমাপনী পরীক্ষার নতুন পদ্ধতি নিয়ে কাজ শুরু করব। মাধ্যমিক স্তরে জিপিএ গ্রেড সংস্কার করা হচ্ছে। এর সঙ্গে সমন্বয় করতে প্রাথমিক স্তরেও জিপিএর সর্বোচ্চ গ্রেড ৪ নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সমাপনী পরীক্ষা বাতিলের কথা বলেননি। পরীক্ষার নামে মানসিক চাপে না ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন। বইয়ের বোঝা হালকা করারও মত দিয়েছেন। আমরা এগুলো নিয়ে কাজ শুরু করছি। প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ধারাবাহিক মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটি ২০২১ সাল থেকে কার্যকর হবে। আমরা চেয়েছিলাম, আগামী বছর থেকে বাস্তবায়নে যেতে, কিন্তু ২০২১ সালে নতুন কারিকুলাম হবে। সে জন্য নতুন কারিকুলামের সঙ্গে সঙ্গে এ পদ্ধতিতে যাব আমরা। তবে পাইলটিং হিসেবে ১০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হবে ২০২০ সালে। এর ত্রুটিবিচ্যুতির অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০২১ সালে পুরোপুরি বাস্তবায়নে যাব।

প্রধানমন্ত্রীর অভিমত প্রসঙ্গে আকরাম-আল হোসেন বলেন, সমাপনী পরীক্ষা শুরু আগে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষাচক্র সমাপনীর হার ছিল ৪৯ শতাংশ। এখন তা বেড়ে হয়েছে ৮২ শতাংশ। আগে পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তির জন্য একটি পরীক্ষা নেওয়া হতো। এখানে সবার অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল না। প্রতি স্কুলে চার/পাঁচ জন শিক্ষার্থীকে বাছাই করে তাদের প্রতি বাড়তি মনোযোগ দেওয়া হতো। এখন সবাই বৃত্তির জন্য ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আত্মবিশ্বাস তৈরি হচ্ছে।

২০০৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) এবং ২০১০ সাল থেকে ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু করে সরকার। শুরু থেকেই ১০-১১ বছর বয়সী শিশুদের পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে সমালোচনা চলছে। এ বয়সে পৃথিবীর কোথাও পাবলিক পরীক্ষা নেই। এমনকি দেশের নতুন শিক্ষানীতিতেও বিষয়টি নেই। জাতীয় শিক্ষানীতিতে ক্রমান্বয়ে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণিতে উত্তরণ ঘটিয়ে অষ্টম শ্রেণি শেষে একটি পাবলিক পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

শিক্ষানীতির মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বলা হয়েছে, ‘পঞ্চম শ্রেণি শেষে উপজেলা/পৌরসভা/থানা (বড় বড় শহর) পর্যায়ে সবার জন্য অভিন্ন প্রশ্নপত্রে সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। অষ্টম শ্রেণি শেষে আপাতত জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা নামে একটি পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং এ পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড দ্বারা পরিচালিত হবে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে