দেশে সাংবিধানিক স্বৈরশাসন চলছে: জিএম কাদের

61


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, এভাবে চলতে থাকলে গণতন্ত্রের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে। বহুদলীয় গণতন্ত্র রক্ষা করা যাবে না। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এভাবে চলতে পারে না, বাচঁতে হলে লড়তে হবে। সংবিধানকে কাটাকাটি করে স্বৈরতন্ত্রকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। ১৯৯১ সালের পর থেকে সাংবিধানিক স্বৈরশাসন চলছে দেশে।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয় পার্টির ইদপরবর্তী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় গোলাম মোহাম্মদ কাদের এসব কথা বলেন।

এ সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘নিরক্ষরতার জন্য নির্বাচনে যে দেশে নামের পাশে প্রতীক ব্যবহার করতে হয়, সেই দেশে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেওয়া যুক্তি-যুক্ত হবে না। ইভিএম’র নির্বাচনে কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারে না, কারণ ব্যালট পেপার থাকে না। ভোটিং মেশিন যে রেজাল্ট দিবে, তাই ঘোষণা হবে। বিষয়টি হচ্ছে, দেশের মানুষকে চাঁদে পাঠাতে চাচ্ছে সরকার, কিন্তু সেখানে বসবাসের পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি।’

জিএম কাদের বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র নেই, একদলীয় স্বৈরশাসন চালু হয়েছে। সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আসা অনেক নেতা ও তাদের সৃষ্ট রাজনৈতিক দল সু-শাসনের নজির স্থাপন করে জনগণের কাছে নন্দিত হয়েছেন। পল্লীবন্ধু দেশে সুশাসন ও গণতন্ত্র নিশ্চিত করেছিলেন। তাছাড়া এখন আমরা যারা রাজনীতি করছি, তারা কেউই ক্যান্টনমেন্ট থেকে আসিনি। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ধংস করতে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘১৯৯০ সালে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে প্রচারণা আর অপবাদ দিয়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করতে অপচেষ্টা করা হয়েছে। তখন বলা হয়েছিল স্বৈরতন্ত্র নিপাতক যাক, আর গণতন্ত্র মুক্তি পাক। কিন্তু পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা হস্তান্তরের পর হয়েছে পুরোটাই উল্টো। পল্লীবন্ধু ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকে গণতন্ত্র নিপাত গেছে, আর স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশে গণতন্ত্র নেই, তাই জনগণের মালিকানা নেই।’

তিনি বলেন, ‘যে মুক্তির স্বপ্নে স্বাধীনতা সংগ্রাম হয়েছিল, সেই মুক্তি দেশের মানুষ এখনো পায়নি। যে মুক্তির জন্য দেশের মানুষ জীবন দিয়েছেন, স্বাধীনতা অর্জিত হলেও মুক্তি মেলেনি। দেশের কোনো ক্ষেত্রেই জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়নি। দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি নিশ্চিহ্ন করতে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।’

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক মো. শফিকুল ইসলাম সেন্টুর সভাপতিত্বে এবং জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম পাঠানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মজিবুল হক চুন্নু এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ সেলিম, যুগ্ম মহাসচিব সামছুল হক, সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন সরকার, মো. হেলাল উদ্দিন, নাসির, আনোয়ার হোসেন তোতা, আনিস উর রহমান খোকন, সৈয়দ ইফতেকার আহ্সান হাসান, সম্পাদকমণ্ডলী এম এ রাজ্জাক খান, গোলাম মোস্তফা, মিজানুর রহমান মিরু, জামাল উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক জাকির হোসেন মৃধা, মাহমুদ আলম, সমরেশ মন্ডল মানিক, ডা. সেলিমা খান, ফয়সল দিদার দিপু, ছাত্রসমাজের সভাপতি ইব্রাহিম খান জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক আল মামুন প্রমুখ।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/পিটিএম





Source link