দেশের ভিভিআইপি মাত্র দুজন

একজন যুগ্ম সচিবের অপেক্ষায় তিন ঘণ্টা দেরিতে ফেরি ছাড়ায় অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। জনপ্রশাসন সচিবকে অতিরিক্ত সচিবের নিচে নন এমন পদমর্যাদার কর্মকর্তা দিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করে তিন সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেন।

!-- Composite Start -->
Loading...

advertisement
শুনানিকালে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘সরকারি কর্মকর্তারা ভিআইপি না। সংবিধান অনুযায়ী তারা সার্ভেন্ট অফ দ্যা স্টেট (প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী)। রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয় থাকে, সে কারণে তাদের জন্য যেকোনো (ফেরি আটকানোসহ) সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু এটা আরও কারও ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। ইমার্জেন্সি সার্ভিস যেমন অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, দায়িত্বরত পুলিশের গাড়ি তাদেরকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কিন্তু তারপরও অ্যাম্বুলেন্সকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া হলো না?’

গত ২৫ জুলাই রাতে সরকারের এটুআই প্রকল্পের যুগ্ম সচিব আব্দুস সবুর মন্ডলের গাড়ির অপেক্ষায় প্রায় তিন ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ে ফেরি। এতে ঘাটে আটকে পড়া অ্যাম্বুলেন্সে স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় উঠে। মানবাধিকার সংগঠন লিগ্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড পিপলস রাইটসের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন লিমন বাদী হয়ে জনস্বার্থে গত মঙ্গলবার হাইকোর্টে রিট করেন। এ রিটের ওপর গতকাল শুনানি হয়।

advertisement
শুনানিকালে রিটকারী আইনজীবী লিমন পত্রিকার সংবাদ উপস্থাপন করতে থাকলে আদালত বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি জানি। এরা (যুগ্ম সচিব) কেউ ভিআইপি নন, এরা সার্ভেন্ট অব দ্যা স্টেট। রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী হলে তাদের বিষয়টি আলাদাভাবে দেখতে হবে। ভিআইপি কারা সেটা আইনেই বলে দেওয়া আছে।’

এ সময় রিটকারী আইনজীবী জহির উদ্দিন মিলন আদালতকে আইন তুলে ধরে বলেন, ‘দেশে ভিভিআইপি মাত্র দু’জন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। সরকারের কোনো কর্মকর্তা কর্মচারীই ভিভিআইপির সুবিধা পাবে না। শুধু রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া তাদের জন্য জাহাজ বা ফেরিও আটকে রাখা যাবে না।’

তখন আদালত বলেন, ‘ইয়েস। এখানে মানুষের জীবনের প্রশ্ন জড়িত। সারা বিশ্বে অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নিনির্বাপনে ফায়ার সার্ভিস ও নিরাপত্তার জন্য পুলিশের গাড়ি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেতে দেওয়া হয়। আর এখানে ঘটেছে তার উল্টোটা।’

শুনানিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, ‘যার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে তিনি একজন যুগ্ম সচিব। ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্টের ২২ নম্বর ক্যাটাগরিতে রয়েছেন। এ ঘটনায় একাধিক তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্ত সম্পন্ন হলে কার দায় সেটা বেরিয়ে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় যদি কারো দায় থাকে সেটা ব্যক্তিগত। রাষ্ট্র এ দায় নেবে না এবং ক্ষতিপূরণও দেবে না। আদালত বলেন, ব্যক্তিগত দায় অন্য কাউকে হস্তান্তর করা যায় না। শুনানি শেষে রুলসহ উপরোক্ত আদেশ দেন।’

রুলে তিতাসের পরিবারকে তিন কোটি টাকা কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না এবং তদন্তপূর্বক দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নয় তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। নৌ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান, যুগ্ম সচিব আবদুস সবুর মন্ডল, মাদারীপুরের ডিসি, পুলিশ সুপার, কাঠালবাড়ী ফেরি ঘাটের ব্যবস্থাপক সালাম হোসাইন মিয়া ও কাঠালবাড়ী থানার ওসিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালত আগামী ২৮ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন রেখেছেন।

মতামত দিন

Post Author: bdnewstimes