দূষণ রোধে নতুন নকশার পানির বোতল আনল আইরিশ প্রতিষ্ঠান

68


আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্লাস্টিক দূষণের ফলে মাটি ছাড়াও দূষিত হচ্ছে সাগর-মহাসাগর, যার প্রভাব পড়ছে জীববৈচিত্র্যের ওপর। আর এই দূষণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে ছোট ছোট প্লাস্টিক পণ্য, যার মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিকের বোতলের মুখ। বিভিন্ন গবেষণার তথ্য বলছে, সারাবিশ্বের সমুদ্রতীরে জমা হওয়া প্রধান পাঁচ দূষণ উপাদানের একটি হলো এই প্লাস্টিক বোতলের মুখ। আর এর প্রধান কারণ ক্ষুদ্রাকৃতির এই প্লাস্টিক পণ্য সহজেই বোতল থেকে খুলে আলাদা করা যায়, যা ছড়িয়ে পড়ে এদিকে-সেদিকে।

প্লাস্টিকের বোতলের মুখের মাধ্যমে যে দূষণ, তা রোধ করতে নতুন নকশার বোতল বাজারে আনছে আয়ারল্যান্ডভিত্তিক স্প্রিংওয়াটার বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ইশকা। আয়ারল্যান্ডের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা ৫০০ মিলিলিটার পানির এমন বোতল তৈরি করেছে, যে বোতলের মুখ এর সঙ্গে আটকানো অবস্থায় থাকবে।

ইশকা বলছে, নতুন নকশার এই বোতলের মুখ খোলার পরও তা বোতল থেকে আলাদা করা যাবে না। ফলে বোতলের মুখ ছড়িয়ে পড়ে দূষণের আশঙ্কাও কমবে। চলতি সপ্তাহ থেকেই বাজারে পাওয়া যাবে নতুন এই পানির বোতল।

ইশকার আইরিশ স্প্রিং ওয়াটার বিভাগের পরিচালক ডেনিস সুটন বলেন, সামুদ্রিক জীব রক্ষা করতে ও প্লাস্টিক দূষণের মতো বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবিলা করতে চান তারা। আর এর জন্য ক্রেতার আচরণ বদলাতে করণীয় সবই করবে তাদের প্রতিষ্ঠান। এ কারণেই নতুন এই বোতলের সঙ্গে সংযুক্ত মুখগুলো যথেষ্ট শক্ত করে বানানো হয়েছে, যেন সহজে আলাদা না করা যায়। ডিজাইনের সামান্য এই পরিবর্তনের ফলে এখন মুখসহ বোতল একসঙ্গে রিসাইকেল করা যাবে। আলাদা করে বোতলের মুখ ছড়িয়ে পড়ে দূষণ বাড়াবে না।

প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের গ্রীষ্মে নতুন ধরনের এই বোতল তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। ইশকার হেড অব অপারেশনস মার্ক টেইলর জানান, বর্তমানে তারা ৫০০ মিলিলিটারের মুখসহ বোতল রিসাইকেলের জন্য তারা প্রস্তুত। আর আগামী বছর থেকে তাদের বাকি বোতলগুলোর নকশাতেও পরিবর্তন আনা হবে।

ইশকার গবেষণা বলছে, এরই মধ্যে ভোক্তারা নতুন নকশার বোতল নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। এমনকি এখন থেকে দূষণ কমাতে সহায়ক ও রিসাইকেল উপযোগী এই পানির বোতল কিনতে ভোক্তাদের আগ্রহ দেখতে পেয়েছে বলেও জানিয়েছে কোম্পানিটি।

গবেষণার তথ্য বলছে, ইউরোপের সমুদ্র তীরে যেসব প্লাস্টিক বর্জ্য জড়ো হয়, তার ১০ শতাংশই প্লাস্টিক বোতলের মুখ। বোতলগুলো রিসাইকেল করা গেলেও ছোট আকারের বোতলের মুখ অনেক ক্ষেত্রেই বাদ পড়ে যায়। তাই ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোতে বোতলের সঙ্গেই মুখও রিসাইকেল করার জন্য সংযুক্ত মুখের বোতল বানানো বাধ্যতামূলক করেছে। ইইউ বলছে, ২০২৪ সালের মধ্যেই সংযুক্ত মুখের বোতল বাজারে আনতে হবে পানি বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলোকে।

এদিকে, লন্ডনভিত্তিক জরিপকারী প্রতিষ্ঠান প্রাইস ওয়াটার হাউজকুপারের এক জরিপে দেখা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধীনে অন্তত ১ হাজার ৩৫০টি বোতল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আছে, যাদের বোতলের সঙ্গে সংযুক্ত মুখের ব্যবস্থা করতে হবে। ইশকা এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত একটি কোম্পানি, যারা সময়সীমার তিন বছর আগেই সংযুক্ত মুখের বোতল বাজারে আনল।

সারাবাংলা/আরএফ/টিআর





Source link