দুর্নীতিতে বেহাল স্বাস্থ্য খাত-মীর আমির হোসেন আমু

0
215

দুর্নীতি-লুটপাট আর অনিয়ম-বিশৃঙ্খলায় আকণ্ঠ ডুবে আছে দেশের স্বাস্থ্য খাত। তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদফতর পর্যন্ত সর্বত্রই অভিন্ন চিত্র বিদ্যমান স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বিপুল বিনিয়োগ আর সদিচ্ছার পরও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না, বরং দিন দিন স্বাস্থ্য সেক্টর হয়ে উঠছে দুর্নীতি-বিশৃঙ্খলার বিশাল পাহাড়।

সরকারি খাতের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন এবং সহজলভ্য করতে বর্তমান সরকার নানাবিধ উদ্যোগ নিলেও স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম-দুর্নীতির পুরনো চিত্র মোটেও বদলাচ্ছে না।

স্বাস্থ্য খাতে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হলেও এসব বরাদ্দের কতটা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে, এর থেকে জনগণ কতটা সুবিধা পাচ্ছে, এ বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে তত্ত্ব-তালাশ নেওয়া হয় না বললেই চলে। মাঝে মাঝে গণমাধ্যমের রিপোর্টে বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনিয়ম-দুর্নীতির কদাকার চিত্র বেরিয়ে এলে নামমাত্র তদন্ত কমিটি হয়। বেশির ভাগ তদন্ত কমিটির রিপোর্ট বা সুপারিশ বাস্তবায়িত হয় না। অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহিতা বা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় অবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনও হয় না। স্বাস্থ্য সেক্টরে বদলি, পদোন্নতি, পোস্টিং থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতি, লুটপাট রীতিমতো ওপেন সিক্রেট ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইদানীং সবচেয়ে বেশি হরিলুট চলছে কেনাকাটা আর নিয়োগের ক্ষেত্রে। হাসপাতালের সরঞ্জামসহ নানা কিছু কেনাকাটার ক্ষেত্রে রীতিমতো সাগর চুরির ঘটনাও ঘটছে অহরহ।

বাংলাদেশে করোনা শনাক্তের তিনমাস অতিক্রম হয়ে গেলো অথচ জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা তো দুরের কথা এখনো আমরা টেস্ট সক্ষমতাই অর্জন করতে পারলাম না। করোনা শনাক্তের সময়সীমা,জনসংখ্যার আনুপাতিক হার এবং সারাদেশে করোনার বিস্তার অনুযায়ী দেশে প্রতিদিন অন্তত পঞ্চাশ থেকে ষাট হাজার টেস্ট সম্পন্ন করা উচিৎ,অথচ টেস্ট হচ্ছে মাত্র দশ থেকে বার হাজার। সুতরাং বিশেষজ্ঞদের কাছে প্রশ্ন রইলো- টেস্ট বৃদ্ধি করতে না পারলে শুধু লকডাউন দিয়ে কি করোনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে???

বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের কোন মাথা ব্যাথা নাই! বাংলাদেশের সব ঠিকঠাক আছে, এবং উন্নতির দিকে! কঠোর হস্তে করোনাকে দমন করা হচ্ছে।

যখন কয়েকজন এমপি করোনা আক্রান্ত হয়েছে তখন দেখছি বিশেষজ্ঞরা পত্রিকাগুলো লেখা শুরু করছে স্বাস্থ্য খাতের বেহাল অবস্থা। আর আমাদের মত আম পাবলিক আর ধুম পাবলিক যদি ১৮ কোটিও মরে যাই তবুও দেশপ্রেমিক’ পত্রিকাগুলোতে লেখা হবে না স্বাস্থ্যখাতের অবস্থা বেহাল!

স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজানো দরকার।চিকিৎসা সেবার উন্নতম অংশ রোগ নির্নয়।নিভুর্ল রোগ নির্ণয়ে প্রয়োজন দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। যতদিন দক্ষ টেকনোলজিস্ট এর নিয়োগ না হচ্ছে বাংলাদেশে ততদিন স্বাস্থ্যখাতের সমস্যা সমাধান সম্ভব না।কিন্তু কিছু দূর্নীতিবাজদের কারণে রোগ নির্নয়ের এ খাত পুরো অকেজো হয়ে আছে এক যুগ থেকে।তাদেরই স্বার্থে তারা গ্রাজুয়েট টেকনোলজিস্টদের বসিয়ে রেখে এইচএসসি পাশ টেকনিশিয়ান নিয়োগের চেষ্টা করছে।এসব অব্যবস্থা যতদিন কর্তৃপক্ষের নজরে না আসবে ততদিন চিকিৎসাসেবা বিদেশমুখী থেকে যাবে।

ইন্ডিয়ানরা লাইভে এসে খোঁচা দেয় আমরা নাকি ওদের চিকিৎসা ছাড়া চলতে পারব না তখন মনে খুব দুঃখ হয় আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা কবে ওদের থেকে আরও উন্নত হবে।
প্রতি গ্রামে যে স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা নিয়োগ দিয়েছে। তারা কোন খোজ নেয়না,ফোন করলে আসেনা। তাদের খুজে বের করার লাগে,তাদের বাড়িতে গিয়ে সেবা নিতে হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রমন্ত্রনালয়ের স্বাস্থ্য অধিদপতর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের চিন্তিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করা না হলে এই অদল বদল বা বদলির খেলা বন্ধ না করতে পারলে কোন লাভ হবেনা।

Leave a Reply