দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে সারাদেশে গডফাদারদের ইয়াবা পাচারের নতুন কৌশল বিদেশী “NGO” সংস্থা

রাজিব শর্মা, চট্টগ্রাম অফিসঃ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের ক্যাম্পে ইয়াবা এনে তা রোহিঙ্গা ও এনজিওর গাড়িতে করে পাচার করে আসছে দেশের সবচেয়ে ইয়াবা সিন্ডিকেট। এজন্য তারা কৌশলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দেশি-বিদেশি এনজিওর চাকরি নিয়েছে।

চাকরির আড়ালে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এনজিওর গাড়ি চালকদের ফুসলিয়ে দেশব্যাপী ইয়াবা পাচার করছে সিন্ডিকেটটি।

!-- Composite Start -->
Loading...

মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা দিয়ে ক্যাম্পে এনে তা এনজিওর গাড়িতে করে সারা দেশে পাচারে জড়িত বাংলাদেশের ইয়াবা কিং সাইফুল করিম ও তার পরিবারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত সিন্ডিকেটটি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক ইয়াবা পাচারের জন্য হাজী সাইফুল করিমের ছোটভাই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি বেসরকারি এনজিওর জোনাল অফিসার হিসেবে বর্তমানে বালুখালী ১৬ নম্বর ক্যাম্পে কর্মরত। তিনি মূলত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইয়াবা মজুদ করেন ও এনজিওর গাড়িতে করে সারাদেশে ইয়াবা পাচার করে আসছেন।

কক্সবাজারের মাদক বিরোধী অভিযানের পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে দেশের ইয়াবা কিং হাজী সাইফুল করিম ও তার পরিবারের সদস্যরা।
সাইফুল করিমের দুই শ্যালক জিয়াউর রহমান ও আব্দুর রহমান পুলিশের হাতে আত্মসমর্পণ করলেও দেশব্যাপী ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন হাজী সাইফুল।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সকল বাহিনীর অভিযানের মুখেও ইয়াবা কিং হাজী সাইফুল মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের ইয়াবা জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছেন। হাজী সাইফুল রোহিঙ্গাদের দিয়ে উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইয়াবা মজুদ করছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে তার ভাই রাশেদুল করিম ইয়াবাগুলো বিভিন্ন এনজিও সংস্থার গাড়িতে করে ও রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন অঙ্গে বহনের মাধ্যমে সারা দেশ ইয়াবা পাচার করে আসছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, সাইফুল করিমের সব ভাই তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইয়াবার মজুদ সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে সাইফুল করিমের ছোট ভাই রাশেদুল করিম। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য রাশেদুল করিম রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এনজিওতে চাকরি নিয়েছে। ইয়াবার মজুদের অবস্থানগত কারণে রাশেদ কয়েক মাস পরপর চাকুরি বদল করে বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করে। বর্তমানে সে বেসরকারি এনজিও কেয়ার এর ১৬ নং ক্যাম্পের জোন অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।

সরকারি সংস্থার তথ্য মতে, বর্তমানে বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক ইয়াবা পাচার বেড়ে গেছে। গত মার্চে এই ক্যাম্পের দুই যুবক মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আনার সময় সীমান্তে বিজিবির গুলিতে মারা গেছে।
কেয়ার বাংলাদেশের চাকুরির আড়ালে মূলত রাশেদুল করিম সারা দেশে ইয়াবা পাচারের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে।

তার বড় ভাই দেশের ‘ইয়াবা কিং’ খ্যাত হাজী সাইফুল করিম ও তার পরিবারের ১০ সদস্যের সবাই ভয়াবহ সিন্ডিকেটের সদস্য।
সাম্প্রতিক সময়ে বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও সংস্থার একাধিক গাড়িতে ইয়াবার চালান ধরা পড়েছে। এইসব ঘটনায় রাশেদুল করিম জড়িত থাকতে পারে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে করা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সর্বশেষ তালিকায় ‘এক নাম্বার ইয়াবা ব্যবসায়ী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে টেকনাফের শীলবনিয়া পাড়ার এই হাজী সাইফুল করিমকে।

শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী সাইফুল করিম ছাড়াও তার ভাই রেজাউল করিম, রফিকুর করিম, মাহাবুবুল করিম, আরশাদুল করিম মিকি ও রাশেদুল করিমের নামও তালিকায় আছে।
সাইফুল করিমের দুই শ্যালক-টেকনাফ বিএনপির নেতা জিয়াউর রহমান ও শ্রমিক দলের নেতা আবদুর রহমানও এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে সাইফুল ও তার ভাইয়েরা এখনো রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তারা এখনো সদর্পে ইয়াবা ব্যবসা করে যাচ্ছেন।

কিছুদিন আগে রাশেদুল করিমের বড় ভাই রেজাউল করিম বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় গ্রেপ্তার হয়েছেন।

রাশেদুল করিমের ইয়াবা সিন্ডিকেটের মূলশক্তি হিসেবে রয়েছে তার বড় ভাই সাইফুল করিম ও তার মামা মিয়ানমারে মংডুর আলী থাইং কিউ এলাকার মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তারা দুজনই বর্তমানে মিয়ানমানের মংডুতে অস্থান করে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচার ও ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইন্টার সেক্টর কোঅর্ডিনেশন গ্রুপের সমন্বয়ক সৈকত বিশ্বাস বলেন, হাজী সাইফুল দেশের এক নম্বর ইয়াবা ব্যবসায়ী তা সবাই জানে। তালিকাভূক্ত ইয়াবা সংশ্লিষ্ট কেউ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওতে চাকরি করে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে থাকলে তা খুবই উদ্বেগজনক। রাশেদুল করিমের নিয়োগের আগে তার সব তথ্য যাচাই বাছাই করা হয়েছে কি না তা ‘কেয়ার বাংলাদেশ’ থেকে যাচাই করা হবে।

কক্সবাজার এনজিও ফোরামের সভাপতি আবু মোরশেদ খোকা বলেছেন, ভয়ংকর ইয়াবা সিন্ডিকেটের সদস্যরা তথ্য গোপন করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওতে চাকরি নিতে পারেন। আমাদের কাছে কয়েকটি এনজিও ও তাদের উন্নয়নের আড়ালে যেসব কর্মী কাজ করছেন এবং যারা কর্মীদের ব্যবহার করা হচ্ছে তাদের একটি তালিকা করা হয়েছে, শ্রীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাই সব নিয়োগের আগে সঠিক যাছাই বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

এই ব্যাপারে কেয়ার বাংলাদেশের মানবসম্পদ কর্মকর্তা ফুয়াদ হাসান বলেছেন, রাশেদুল করিম ইয়াবা ব্যবসায় সংশ্লিষ্টতার তথ্য তাদের জানা ছিল না। সে বা তার পরিবারের সদস্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী তথ্যটিও তাদের অজানা ছিলো। এখন সব বিষয় জানার পরে রাশেদুল করিমের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এই বিষয়ে রাশেদুল করিম বলেন, তার ভাই সাইফুল করিম সহ আরো ৬ ভাইয়ের নাম ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায় থাকলেও তার নাম কোনো তালিকায় নেই। তালিকায় না না থাকার কারন হলো সে ইয়াবা ব্যবসা করে না।

র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মেহেদি হাসান বলেছেন, বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বড় ইয়াবা সিন্ডিকেট সক্রিয় আছে। ওই ক্যাম্প থেকে এনজিওর গাড়িতে করে ইয়াবা পাচারের তথ্যও র‍্যাবের কাছে আছে। কয়েকদিন আগে ২০ হাজার ইয়াবা সহ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি গাড়ির চালককে আটক করা হয়। এই সিন্ডিকেটটি ধরতে র‍্যাব কাজ করছে বলে তিনি জানান।
সূত্রঃ The Crime

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.