দক্ষিণ চট্টগ্রামের পেশাধারী মোটর সাইকেল চোরের মূল হোতা ওসির জালে

রাজিব শর্মা, চট্টগ্রামঃ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাসিন্দা মো. ইলিয়াছ। চন্দনাইশ উপজেলার বরমা ইউনিয়নের কেসুয়া গ্রামের মৃত মো. আযম খানের ছেলে তিনি।

পেশায় মোটরসাইকেল ম্যাকানিক। চন্দনাইশের মহাজন ঘাটায় রয়েছে তার মোটরসাইকেল গ্যারেজ। বাঁশখালী, আনোয়ারা, সাতকানিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগড়াসহ বিভিন্নস্থানে চুরি হওয়া মোটরসাইকেলের অধিকাংশই চোরের দল তার মাধ্যমে বিক্রি করে। তাই তাদের রয়েছে বিশাল মোটরসাইকেল চোরের নেটওয়ার্ক।

!-- Composite Start -->
Loading...

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল বাঁশখালীর পূর্ব চাম্বলের শাহ আলমের ছেলে মোবারক আলীর একটি ডিসকভার ১০০ মোটরসাইকেল চুরি হয়। ওই তারিখে মোবারক আলী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের চোর দেখিয়ে বাঁশখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই সূত্র ধরে মাঠে নামেন বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) মো. কামাল উদ্দিন।

তিনি বিভিন্নস্থানে খোঁজখবর নিয়ে চন্দনাইশের মোটর ম্যাকানিক মো. ইলিয়াছের মাধ্যমে কয়েকটি মোটরসাইকেল বিক্রির খবর পান। ওই সূত্র ধরে মো. ইলিয়াছের সাথে মোবাইলে বন্ধুত্ব তৈরি করেন ওসি। পরে দুটি মোটরসাইকেল কেনার প্রস্তাব দেন। ওই বন্ধুত্বের ফাঁদে পড়ে মো. ইলিয়াছ বাঁশখালী থানার ওসি তদন্ত মো. কামাল উদ্দিনের প্রস্তাবে ২টি মোটরসাইকেল পিকআপে করে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বাঁশখালীতে নিয়ে আসেন। গতকাল শনিবার রাতে হাতে নাতে চোরাই ২টি মোটর সাইকেলসহ ধরা পড়ে। ওই মোটরসাইকেল ২টির মধ্যে পূর্ব চাম্বলের মোবারক আলীর চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটিও রয়েছে। অন্য মোটরসাইকেলটি কার এখনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। দুটি মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন নম্বর ও চেসিস নম্বর ঘষা-মাজা করে পরিবর্তন করা হয়েছে।
মোটরসাইকেল চোর মো. ইলিয়াছ বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে চোরের দল মোটরসাইকেল চুরি করে আমার কাছে বিক্রি করে। আমি ইঞ্জিন নম্বর ও চেসিস নম্বর পরিবর্তন করে তা বিভিন্ন জায়গায় বিক্রয় করি। এভাবে অন্তত ৩০টি মোটরসাইকেল বিক্রি করেছি।

বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) মো. কামাল উদ্দিন বলেন, মোটরসাইকেল চোর মো. ইলিয়াছ বড় ধরণের চোর। ক্রেতা সেজে বন্ধুত্বের ফাঁদ পেতে তাকে মোটরসাইকেলসহ ধরা হয়েছে। প্রথমত ইলিয়াছ নানা কৌশলে চুরির ঘটনা অস্বীকার করেছিল। পরে বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চুরির ঘটনা স্বীকার করে। মোবারক আলীর চুরি হওয়া জিডিটি এখন নিয়মিত মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে। ওই মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে।

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.