ত্বকের যত্নে ফেস অয়েল -Deshebideshe

0
56

নিজের সৌন্দর্য ধরে রাখতে ত্বকের যত্নের বিকল্প নেই।সুন্দর ত্বকের জন্যে কতধরনের চর্চাই না চলে পৃথিবীজুড়ে।এর মধ্যে অন্যমত ফেস অয়েল।যারা একাধারে ত্বকের নানা সমস্যায় জর্জরিত তাদের জন্যে এটি উপকারি।

সময়ের জনপ্রিয় বিউটি ট্রেন্ডের তালিকার শুরুতেই রয়েছে ফেস অয়েল।বিউটি এক্সপার্টদের প্রেসক্রিপশনেও এরই জয়জয়কার।সোস্যাল মিডিয়ায় হ্যাশট্যাগ দিয়ে অনেক বিউটি ব্লগার ফেস অয়েলের গুনাগুন প্রচার করছে।বলা চলে সচেতন সবাই, ত্বকের যত্নে মজেছে ফেস অয়েলে।

কোকোনাট, অলিভ, আরগান, রোজহিপ, জোজোবা, আমন্ড থেকে তৈরি ফেস অয়েলই বেশি জনপ্রিয়। এছাড়াও নানা ধরণের অয়েল পাওয়া যায় বাজারে। একেক ত্বকের জন্য একেক রকম অয়েল। যেগুলোর কাজের ধরণ ও গুনাগুনে রয়েছে ভিন্নতা। তবে এমন এক ধরণের ফেস অয়েল রয়েছে যা সব ধরনের ত্বকের জন্য মানানসই। নাম মারুলা অয়েল। ত্বকের নানা  সমস্যায় এটি বেশ কার্যকর।

মারুলা অয়েল আসলে কি? মারুলা গাছের সুমিষ্ট ফলের শ্বাস ও বাদাম থেকে তৈরি হয় এই তেল। ত্বকের পাশপাশি চুল ও নখের যত্নেও এটি ব্যবহার করা হয়। এর অধিক জনপ্রিয়তার কারন হচ্ছে, এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে, ব্রণের সমস্যা দরি করে, উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে কার্যকর, ত্বককে সজিব ও সতেজ রাখে। অনেকের মতে, ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রোধে এটি খুব ভালো  উপাদান।

আরও পড়ুন: ভ্যাপসা গরমে ত্বকের যত্ন

মারুলা গাছের প্রকৃত আবাস আফ্রিকায়। দক্ষিণ, পশ্চিম আফ্রিকা ও মাদাগাস্কারে এই গাছ বেশি দেখা যায়। মারুলা গাছ জন্মাতে অনেক বেশি সূর্যের আলো এবং কম বৃষ্টির প্রয়োজন। তাই আফ্রিকার অতি শুষ্ক অঞ্চলে এদের দেখা পাওয়া যায়। এমনকি খ্রিস্টপূর্ব দশ হাজার বছর আগেও মারুলা গাছের অস্তিত্ব ছিলো বলে মনে করেন প্রত্নতাত্মিকরা। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত আফ্রিকানদের পুষ্টির উৎস মারুলা ফল।

আফ্রিকানদের কাছে এই ফলের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব রয়েছে। তাদের জন্যে এটি বিয়ে ও উর্বরতার প্রতীক। এটি একটি বাদাম জাতীয় ফল। এর মিষ্টি স্বাদের জন্য মানুষের পাশাপাশি পশুদেরও খুব প্রিয় এই ফল। বিশেষ করে হাতিদের। এই ফলে রয়েছে প্রচুর গ্লুকোজ। তাই পাকা ফল মাটিতে পরলে দ্রুত পচন ধরে।

বলা হয় এই পচা ফল খেয়ে একটি বড়সড় হাতিও মাতাল হয়ে যেতে পারে। এজন্য মারুলা অয়েল প্রস্তুত করে এমন একটি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের নাম রেখেছে ড্রাঙ্কেন এলিফ্যান্ট। আগে দিগন্ত বিস্তৃত তৃণভূমিতে জন্মালেও এখন ব্যাপক চাহিদার জন্য মারুলা গাছ বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়।

এই ফলের বীজের ভিতরের শাঁস এবং বাইরের শক্ত খোসা বা পুরো ফল থেকে তেল বের করা হয়। মারুলা তেলের রয়েছে ঔষুধি গুণাগুণ। প্রাচীনকাল থেকে আফ্রিকান ভেষজ চিকিৎসায় এর ব্যবহার হয়ে আসছে। এমনকি রান্নায়ও এই তেল ব্যবহার করা হয়।

ত্বকের যত্নে: ত্বকের জন্য উপকারী অ্যামাইনো এসিডস, ফ্যাটি এসিডস, প্রোটিন, ভিটামিন সি ও ই এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে মারুলা অয়েলে। এটি উচ্চমানের অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল অয়েল। যা সহজেই ব্রণ প্রতিরোধ করে। ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস ও দুর করে।

একজিমা ও সোরাইয়াসিসের মতো মারাত্মক চর্মরোগের থেকেও ত্বকে রক্ষা করে। ত্বকের বয়সের লাগাম টানতেও এটি দারুন কার্যকর। কেননা এর ভিতরে থাকে এল আরজিনিন আর গ্লুটামিক এসিডের মতো অ্যামাইনো এসিড। যা হাইড্রেটিং এর মাধ্যমে ত্বকের ময়শ্চার ধরে রেখে ত্বক থেকে বয়সের ছাপ দূর করে। অন্যদিকে এর ভিতরে থাকা ফ্যাটি এসিড যেমন ওমেগা ৬, ওমেগা ৯, পালমিটিক, স্টেয়ারিক, ওলিইক ও মিরিস্টিক এসিড ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখে।

এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন ফেনলিক যৌগ আর ভিটামিন সি ও ই ফ্রি রেডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে রিঙ্কেল আর ফাইন লাইন কমায়। কমায় হাইপারপিগমেন্টেশন। এছাড়াও সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি ও নানাধরনের দূষণের ফলে হওয়া ড্যামেজ থেকে ত্বককে রক্ষা করে। ভিটামিন সি ও ই ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।

এন এইচ, ২৬ সেপ্টেম্বর

Source link