তার আকাশ কি আমার চেয়ে বড়ঃ রাজিব শর্মা

আমি কখনো তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড হতে চাইনি,
তার আগেই তুমি বলেছিলে আমি তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড। আমি তোমাকে বলিনি কখনো আমাকে ছেড়ে যেওনা, তার আগেই তুমি বলেছিলে কখনো তোমাকে ছেড়ে যাবোনা। একটা মেসেজ টিউন আগে হাজারেরো বেশি বার বেজে উঠতো…প্রথম কয়দিন টিউন শুনে তাড়াহুড়ো করে মোবাইলটা দেখেছি। দেখেছি কি!!
অপারেটর মেসেজ পরে মস্তিস্ক বুঝে নিলো আর মেসেজ আসবে না, তখন আর মস্তিস্ক আর আমাকে মেসেজটা দেখানোর জন্য তাড়াহুড়া করায় নি।
কিন্তু আজ আমি সেই টিউন শোনার অপেক্ষায় বড্ড ক্লান্ত পরিশ্রান্ত। কিন্তু কিছুই করার নেই। সময় এবং কথাকে পেরানো সম্ভব না। জীবনে তোমার টাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছিল, আমার নই। আমি তো মিথ্যেবাদী। যাই হোক অন্তত একজন সত্যবাদী পেয়েছো জেনে খুশি হলাম।

আমি তোর প্রতিটি পরিক্ষার তারিখ মনে রেখে মেসেজ করে জানতে চেয়েছি যে তোর পরীক্ষা কেমন হয়েছে?

!-- Composite Start -->
Loading...

তুই আমার কোন মেসেজের রিপ্লাই দিস নি।
আর তুই কখনো তোর নিজের থেকে জানতে চাসনি আমি কেমন আছি এবং এখন কিভাবে চলছে আমার। সাধারণত একজন লেখকের সবচেয়ে দূর্বলতাতে কিছুই বলিস নি।
আসলে আমি মনে হয় নিরলজ্জ হয়ে গিয়েছি।
মানুষ এক দিন দুই দিন করে ধিরে ধিরে পরিবর্তন হয় কিন্তু হঠাত এরকম পরিবর্তন আমি কখনো দেখিনি।

আজ আমি পরীক্ষা দিয়ে হিসেব করি পাস নাম্বার পাবো কি’না?
তুই যদি চলে যাবার একটা কারন দেখাতে পারিস আমি ফিরে আসার দশটা কারন দেখাবো। কিন্তু আমি জানি তুই ফিরে আসার একটি কারন ও দেখাতে পারবি না। হয়তো মেহেদি পাতা কবিতার সেই মেয়েটির মতো নিজের সব ভূল বুজতে পেরে ভোরের ট্রেনে আমার কাছে ছুটে আসতে চাইবি, তখন অনেক দেরী হয়ে যাবে। ট্রেন থেকে নেমে ফিরতি ট্রেনে উটা ছাড়া তোর কোন উপায় থাকবে না।

আমি চাইনা তুই ফিরে আস, তুই ফিরে আসলেও সেটা হবে শুধু অভিনয়। আমিতো জানি আমি তোর কাছে অভিনয়ের পাত্র হয়ে গেছি।

না থাক মিথ্যা বলা ঠিক হবেনা, আমি মনে মনে সব সময় তোর ফিরে আসায় চায়।
পারবি কি অভিনয় ছাড়া ফিরে আসতে?
হয়তো পারবি ,হয়তো পারবিনা,হয়তো ফিরে আসার চেষ্টাও করবি না। কারণ তোর যে একজন গোপন সাথী হলো, একজন প্রেরণাদায়ক ব্যক্তি, তোর চোখে যে পৃথিবীর সবচেয়ে যে সৎ লোক, যাকে সবকিছু গোপনে শেয়ার করলি, তাকে কি জবাব দিবি? আমি সত্যিকারের মানুষ না, তুই যে সত্যিকারের মানুষ পেয়েছিস, তার সাথে নিজেকে প্রতারিত করিস না। তুই কি মনে করিস আমি রাগ করছি, মোটেই নারে, মোটেই না। লেখকদের যন্ত্রণা সহ্য করার জন্য তারা লেখক হয়, কাউকে যন্ত্রণা দেয়ার জন্য না। কি লাভ শুধু শুধু স্বার্থপর হয়ে নিজের কথা ভেবে? হ্যাঁ সবাই নিজের কথায় ভাবে। তোর ফুলদানীটা যত্নে রেখেছি, তোর বিয়েতে দেয়ার জন্য।
কিন্তু তোকে তো আমি সবার থেকে আলাদা ভাবতাম। সরি তুই করে বললাম। আমার এখন তুমি থেকে আপনিতে আসা প্রয়োজন না হয় মান সম্মান সবার চলে যাবে।

আমি যে ভাবিনা তা কিন্তু নয়, আমিও ভাবি কিন্তু ভাবতে গেলে স্মৃতিগুলো এসে জটলা পাকায়, কি সে কঠিন জটলা পৃথিবী কারো হয়তো সে জটলা ছাড়ানোর ক্ষমতা নেই।
সময় থেমে নেই সিগারেটের ধোয়ার মত উড়ে যাচ্ছে নিমেষেই, শুধু আমি থেমে গেছি।

কি ভাবছো?? কম দামী সিগারেট খাই। বিয়ার, হইস্কি, ব্রান্ডি? হাহাহা।
না বেনসন অথবা মালবোরো সিগারেট খায় যার প্রতিটার বর্তমান মুল্য ১১ টাকা। তোমার তো সন্দেহই ছিল আমি ব্রান্ডি, হইস্কি এসব খায়, তাই না! বীচে কয়েকবার প্রশ্ন ও করছিলে…তাই না! হাহাহা… মিথ্যে বলছি আমি। সব মিথ্যে। আমি তো এই পৃথিবীতে কারো জন্য কিছু করিনি। কারো জন্য করার যোগ্যতাও বোদহয় নাই। পথের দুই টাকা ভিক্ষুককে দিলে যে বড় দয়াবান, দয়াশীল মহাপুরুষদের একজন হয়, তা তোমার কাছ থেকে জেনে ভালো লাগছে। এর আগে আমার অজানা ছিল।তোমার চোখে আজ অনেকেই দয়ালু, দয়ার পাত্র। হয়তো এমনও হতে পারে তোমার দয়ার পাত্রের দয়া মাদার তেরেসাকে হার মানিয়েছে। আমি তো দয়ালু না, তাই না! একসময় আমি মনে করতাম ভন্ডরাই লোক দেখানো ধর্ম করে বেড়ায়। আজকাল নেতা ও ভালো অভিনেতারায় যে ধর্ম করে ধার্মিক হয়ে যায়, ২ টাকার কারণে, তা তুমি প্রমাণিত করলে।

এখন আমার প্রতিদিন অনেক গুলি সিগারেট লাগে। হা হা হা সিগারেটের কথা গুলি শুধু শুধুই বললাম। মাথাটা ঠিক নাই আজ একসাথে অনেকগুলি খেয়ে ফেলেছি। বলে যখন ফেলেছি তখন থাক। এখন গ্লাসে বিয়ারের ফেনাটায় দেখতে বড্ডই ভালো লাগছে। আমি হাসছি হাসি আর চোখের জল মিলেমিশে একাকার।

পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিলো আমাকে নিয়ে। স্বপ্ন পুরনের চেষ্টা করছিনা তা কিন্তু নয়।অনেক দেশে যাচ্ছি,পাসপোর্ট, জার্মানির স্কলারশীপ, অষ্ট্রোলিয়া, কোরিয়া…তাই না! সব মিথ্যে কথা। মিথ্যে বলছি আমি! আমি একজন মিথ্যেবাদী।

আজ স্মৃতিগুলো বড্ড অসহায়। পৃথিবীর অযোগ্য কারণ দুই টাকা দিয়ে তোমার চোখে ধার্মিক হতে পারিনি। আজকাল মানুষ নিজের বর্তমানকে দেখতে পায় না, দূরের সম্ভাবনায় বিভোর। তোমার অবস্থা ও তেমন। হয়তো রক্তাক্ত চেষ্টাকে ঢেকে দিচ্ছে যার ফলে চেষ্টাগুলি ফল পাচ্ছেনা। হয়তো জলপাই রঙের শাড়ি পড়ে ভোরের ট্রেনে আমার কাছে অন্তত স্থানটুকু চাইতে আসবে, কিন্তু এর আগে আমার ঠিকানা যে ঠিকানায় থাকবে না। সবশূন্য করে চলে যাবো। কি যেতে পারবে! জানি পারবে না সেই ঠিকানায়। কারণ যে কারো জালে নিজের দূর্বলতা বলে আটকে পড়েছো। হাহাহা। কি লাভ মিথ্যের আশ্রয় নেয়ার? মিথ্যে ও চালাকি তো ভূল পথে পরিচালিত করে, তা তো তুমিই বলতে। আজ তুমি নিজেই! বড়ই অদ্ভুদ।

আমি একাই ছিলাম হঠাৎ তোমার ছায়ার সাথে হাটলাম, ভুলে গেলাম আমার সব পিছুটান।
ছায়াটা এদিক সেদিক করতে করতে রাতের আধারে হারিয়ে গেলো।তুমি হলে হারাতে না, বেস্টফ্রেন্ড হলে ছেড়ে যেতে না সেটাতো তুমি ছিলে না সেটা ছিলো তোমার ছায়া।তায় আর আলোর মাঝে খুজে পাইনা তোমাকে। কতটুকু লাভবান হলে আমি দেখবো। তুমি লাভ ক্ষতি, জাবেদা, রেওয়ামিল, নগদান এত সহজে জীবনে মিশাতে পেরেছো জেনেই ভালো লাগছে বিয়ারের গ্লাসে উপছে পড়া ফেনার মত। ভালবাসার নগদান হিসাব তুমি শুরু করেছো, লাভ-লোকসান তুমিই শুরু করেছ, উত্তর টা ও দেখতে চাই তোমার কাছ থেকে। হয়তো আজ সবাইকে ফাঁকি দিচ্ছ, সবাই মনে প্রাণে তোমাকেই বিশ্বাস করছে। কিন্তু এমন একটা দিন আসবে, তোমার এসব কথা শোনার কেউ থাকবে না। তোমার জন্য কোন ট্রেনও থামবে না যেমন ডাঃ মিতুর জন্য এখন কোন ট্রেন নেই। একজনকে টকিয়ে, ফাঁকি দিয়ে, একজন বেশি দূরে এগুতে পারে না। যেমন পারেনি ডাঃ আকাশের ভালবাসা সেই মিতু। হাহাহা কি ভাবছো? জীবনের লেনদেন সব তথ্য প্রকাশ হবার ভয়, সত্যকে ভয় পাও! ভয় পাওয়ার কি আছে পরিস্থিতি যা হয় মিতুর মত স্বীকার করবে। নাকি পারবে না! তখন পারবে চিন্তা করো না।

না দেখতে চাইলেও হয়তো কোন কারনে দেখতে হবে। জানিনা কি ভুল করেছি নিজেরি কাছে আজ হেরেছি। ঝড় উঠে মনে ক্ষনে ক্ষনে হারিয়ে ফেলেছি ঠিকানা, দুজন দুপথে হেটেছি কি কারনে চেনা। পথ তবু অচেনা একলা মনে সংগপনে স্মৃতি শুধু আসে যায় আজ যত সুখ ভিড় করে সব কান্নাতে ধুয়ে যাক ভুলেও যায়না ভোলা।
লেখাগুলি লেখার সময় আমি হাসছি, অঝোরে হাসছি! আমার এই হাসি তো তুমি চেয়েছিলে তাইনা? হয়তো তোমার আজ হাসির দিন, বড্ডই হাসি, উপছে পড়া হাসি। তোমার এভাবে হাসি ও আনন্দে থাকলে আমার চেয়ে কেউ বেশি খুশি হবে না। আমার সব কথা মিথ্যে ও অচেনা, তাইনা! খুব সুন্দর ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পেরেছ। ভালো লেগেছে শুনে। আজকাল জনপ্রিয় ও জনপ্রিয়তা লাভ করতে হলে অজস্র মিথ্যা-সত্য অভিনয় করতে হয়। যা আমি পারিনি। কাজেই ধার্মিক ও হইনি। হাহাহা। খুব সুন্দর, সাজানো সব উপস্থাপনা, টেবিলের সাজানো বইয়ের মত রং বেরং।

কি করবো বলো? আমি আজ ক্লান্ত পরিশ্রান্ত। নিজেকে অন্য গ্রহে নিয়ে যেতে চায় সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়। কিন্তু আমি ছাড়তে চাইলেও একমাত্র তুমি ছাড়া কেউই আমাকে ছাড়তে চায়নি। এখন আর বাধাগ্রস্থে নেই কারণ আমাকে ছাড়ার আগেই একজনের উপস্থিতি রেখেছো, ভালোই করেছো। আসলে পৃথিবীতে একজনকে খুব কাছ থেকে চেনা কষ্টকর। অনেক দূরে চলে যেতে হয়, তাহলে বুঝতে পারা যায় অনুপস্থিতি বিষয়টা কেমন!

তাই সবাইকে ছেড়ে নিজেকে আর অন্য গ্রহে যাওয়া হয় না। একজনের জন্য সবাইকে ছাড়া কি ঠিক হবে? আমিতো সবি বুঝতেছি কিন্তু কিছুই করতে পারছিনা। ঐ যে বল্লাম না আমি আর পারছিনা। আমি জানি এই লেখাটি তোমার পড়ার কোন মাধ্যম নাই। মাধ্যম থাকলেও হয়তো পড়তে না।সে ইচ্ছে বোধশক্ততুও নেই। কারণ একজনের সুখের সমুদ্রে ডুব মেরে অন্যজনের দুঃখকে উপলব্ধি করা যায় না। তবুও ইচ্ছা হলো তাই লিখলাম।

এই লেখাটি লিখেছি
০৭-০৫-২০১৯ রাত ৩ টা ১৮ এর সময়।
যে সময় চারিদিক নিস্তব্দ চারিপাশে শুধু
ঝি ঝি পোকার ডাক।এই রাতে আমার
সঙ্গী হিসেবে রয়েছে খাতা, কলম, আধা প্যাকেট বম্বে সুইটস এর ডালমুঠ, একটা বোতল, একটি হ্যানিক্যান আর গ্লাস, আমার নতুন কেনা লাইটার, ১৪ টা মারলবোরো সিগারেট, একটা হেডফোন, দুইটা মোবাইল, এবং আমার ট্যাব টা।এই মুহুর্তে আমার
ঠোটে একটা জলন্ত সিগারেট।

তুমি সব সময় ভালো থাকো এই কামনায় করি। তোমার কাছে অনেক ক্ষতিকারক মানুষ”

★লেখকের এই লেখাটি সম্পূর্ণরুপে কাল্পনিক, কেউ বাস্তবিক ভাবে নিবেন না। এই গল্পের যাকে উৎসর্গ করার, তার নাম গোপন রাখা হয়েছে। “স্বপ্নচারিনী হয়ে এসোনা তুমি” ছোটগল্পে তার নাম প্রকাশ করা হবে। তবে পাঠকদের পড়ার সুবিধার জন্য খন্ড খন্ড শ্রীঘ্রই লেখকের গল্পকারে সত্যটি নামসহ উপস্থাপন করা হবে। এখন উৎসর্গকারিনীর নাম, ঠিকানা, পদবী সব গোপন রাখা হচ্ছে এই লেখায়।

★★★ লেখকের জন হপকিন্স প্রকাশনা থেকে ইংরেজী ভাষার উপর “”My Journey of Mission Life” ও “Unstoppable…” দুইটি বই বের হয়েছে। শ্রীঘ্রই অর্ডার করে নিন।

★★★ লেখকঃ মি. রাজিব শর্মা(এম. ডিভ), জন হপকিন্সের থিওলজী বিভাগের ছাত্র ছিলেন। বর্তমান নর্থ ক্যারোলিনার একটি ইউনিভার্সিটিতে অধ্যায়নের পাশাপাশি গোয়েন্দাভিত্তিক একটি প্রকাশনার পত্রিকার ক্রাইম প্রতিবেদক ও আরেকটি ইংলিশ পত্রিকার সহঃ সম্পাদক হিসেবে কর্মরত।

★বিডিনিউজটাইমসের কোন লেখা লেখক, সম্পাদক ও প্রকাশক এর অনুমতিবিহীন কোথাও প্রকাশ না করার বিশেষভাবে অনুরোধ করা গেল। অন্যথায় আইনত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.