তারল্য সংকট রোধে বৈশ্বিক পদক্ষেপ চাই: প্রধানমন্ত্রী

0
88

 


ডেস্ক নিউজ:: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কভিড পরিস্থিতিতে তারল্য সংকট মোকাবিলা ও ঋণের বোঝা লাঘবে উচ্চাভিলাষী ও সমন্বিত বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা জরুরি। সোমবার ‘কভিড-১৯ সময়কাল এবং পরবর্তীতে উন্নয়নে অর্থায়নের উদ্যোগ’ শীর্ষক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

কভিডের মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পুরো বিশ্বকে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে দ্রুত উত্তরণ নিশ্চিতে জরুরি ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হোলনেস ও জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্বনেতাদের এই বৈঠকের আহ্বান করেন। তারল্য সরবরাহে ও ঋণ সমস্যা সমাধানে অধিকতর সাহসী ও সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার গুরুত্ব তুলে ধরাই এই উচ্চ পর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকের লক্ষ্য। খবর বাসসের

শেখ হাসিনা ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘জি৭, জি২০ এবং ওইসিডির (অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে আমাদের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য উন্নত দেশ, এমডিবি (মাল্টিলেটারেল ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকস) এবং আইএফআইর (ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন) উচিত বৃহৎ পরিসরে ও নতুন ‘স্পেশাল ড্রইং রাইটস’-এর (আইএমএফের রিজার্ভ সহায়তা) মতো বরাদ্দের মাধ্যমে তারল্য বাড়ানো।

উপযুক্ত সংস্কারের জন্য আন্তর্জাতিক ঋণ কাঠামো সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনীতির জন্য তাদের রাজস্ব প্রণোদনা, অর্থনীতিতে বিশেষ সুবিধা ও ঋণ রেয়াত বাড়াতে হবে। এসডিজির সঙ্গে সংগতি রেখে এলডিসি (লিস্ট ডেভেলপমেন্ট কান্ট্রিস) উত্তরোণের জন্য অন্তত ২০৩০ সাল পর্যন্ত নতুন আন্তর্জাতিক সহায়তা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, কভিড-১৯ মহামারি দেখা দেওয়ার পর এক বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে এবং বিশ্ব এখনও করোনার কারণে সৃষ্ট আর্থসামাজিক চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারেনি। আগামী দুই বছরে বিশ্ব অর্থনীতিতে আনুমানিক প্রায় ৮.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে বলে জাতিসংঘ আশঙ্কা করেছে।

প্রধানমন্ত্রী কভিড-১৯ মোকাবিলায় তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা আমাদের জনগণের জীবন ও জীবিকার ওপর থেকে মহামারির বিরূপ প্রভাবে হ্রাস করার সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। নির্বিঘ্নে ব্যবসা কার্যক্রম নিশ্চিতে বাজারে পর্যাপ্ত তারল্য ও ঋণযোগ্য ফান্ড সরবরাহ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট, ফরেন ট্রেড ও ফাইন্যান্স, রেমিট্যান্স, বৈদেশিক ঋণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সহনীয় করতে সহায়ক নীতি গ্রহণ করেছি।’ সরকারের বিচক্ষণ ঋণনীতির কারণে চলমান মহামারি সত্ত্বেও বাংলাদেশ এখনও ভালোভাবে ‘ঋণখেলাপি না হওয়ার’ সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখেছে।

Print Friendly, PDF & Email

Source link