‘তপতী সেনকে এমপি করতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী’

120


সারাবাংলা ডেস্ক

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক তপতী সেন গুপ্তাকে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্য করতে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে প্রয়াত তপতী সেন গুপ্তার নাগরিক শোকসভায় উপমন্ত্রী একথা জানিয়েছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘তপতী সেন গুপ্তা দীর্ঘসময় ধরে নারীদের মধ্যে আওয়ামী আদর্শের প্রচার করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রচার করেছিলেন। এই কাজের জন্য তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে মূল্যায়িত হয়েছিলেন। দল কিন্তু তাকে সবসময় সম্মানের আসনে রেখেছিল। তিনি যেদিন আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন, আমি নিজেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এই সংবাদ দিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী নিজেই আমাকে তার পরিবারের প্রতি শোক ও সহানুভূতি পৌঁছাতে বলেছিলেন।’

‘প্রধানমন্ত্রী তপতী সেন গুপ্তাকে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে জানতেন, তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতেন। তিনি দলের জন্য কতটা নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন, সে সম্পর্কে অবগত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিগত সংসদ নির্বাচনের পর তপতী সেন গুপ্তাকে নারী সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যখন সেই সংবাদ তার কাছে পৌঁছানো হয়, দেখা যায় তিনি মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেননি। তিনি অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী কিন্তু তাকে সংসদ সদস্য করতে না পারার জন্য আক্ষেপ করেছিলেন। এজন্য তার পুত্রবধূ রুমকি সেন গুপ্তা যখন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান, প্রধানমন্ত্রী নিজে কিন্তু তপতী সেন গুপ্তার অবদানের কথা বিবেচনা করে উনাকে মনোনয়ন দেন।’

প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলের কর্মীদের সবসময় মূল্যায়ন করেন মন্তব্য করে নওফেল বলেন, ‘নীলুফার কায়সার, তপতী সেনগুপ্তা, সাবিহা মুসাসহ যারা যারা চট্টগ্রামে রক্ষণশীল সমাজে থেকেও জাতির জনকে আদর্শের জন্য কাজ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের সবার কথা জানতেন। তাদের মূল্যায়নের একটা চিন্তা সবসময় উনার মধ্যে আছে। এর আগে সাবিহা মুসাকে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেছিলেন সংসদ সদস্য করে। যারা যারা চট্টগ্রামসহ সারাদেশে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের সবসময় মানে রাখেন।’

নাগরিক শোকসভা কমিটির আহ্বায়ক সাবেক কাউন্সিলর পেয়ার মোহাম্মদের সভাপতিত্বে এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব চসিকের কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী। পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন চসিকের কাউন্সিলর রুমকি সেন গুপ্তা।

আবৃত্তিশিল্পী মিলি চৌধুরীর সঞ্চালনায় শোকসভায় আরও বক্তব্য রাখেন- চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন, সাবেক সাবেক সাংসদ সাবিহা মুসা, উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাসন্তী প্রভা পালিত, নগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, কাউন্সিলর পুলক খাস্তগীর, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ এবং সাবেক কাউন্সিলর রেহেনা বেগম রানু।

নাগরিক শোকসভায় অতিথি হিসেবে ঘোষণা করা হলেও নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ছিলেন না।

সারাবাংলা/আরডি/এমও





Source link