ডেল্টা লাইফের শেয়ার কারসাজিতে হিরো ও তার পরিবার! – Corporate Sangbad

33


নিজস্ব প্রতিবেদক : ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার কারসাজিতে জড়িত বহুল আলোচিত বিনিয়োগকারী আবুল খায়ের হিরোর। তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে কারসাজি করেছেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক তদন্ত প্রতিবেদনে এমনটি উল্লেখ করা হয়েছে।

পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি সাফকো স্পিনিং মিলসের শেয়ার কারসাজিতেও হিরোর সংশ্লিষ্ট পেয়েছে ডিএসই। ডেল্টা লাইফের শেয়ার কারসাজি করেছেন নিজের পরিবার ও শশুরবাড়ির সদস্যদের নিয়ে। ডিএসইর তদন্ত প্রতিবেদন অন্তত তেমনটি-ই বলছে।

গত বছর মাত্র ৫ মাস সময়ের মধ্যে ডেল্টা লাইফের শেয়ারের দাম বাড়ে ১৯০ শতাংশ। শেয়ারটির দাম ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩২ টাকায় উন্নীত হয়। আর ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ অক্টোবর সময়ের মধ্যে শেয়ারটির দাম ১৩৪ টাকা থেকে ২৩২ টাকায় তোলা হয়। এটি করা হয় অ্যাক্টিভ লেনদেনের মাধ্যমে। আর এই অ্যাক্টিভ ট্রেডে যুক্ত ছিলেন আবুল খায়ের হিরো ও তার পরিবারের ৫ সদস্য।

ডিএসই তার তদন্তে ডেল্টা লাইফের শেয়ার কারসাজিতে অন্য যাদের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে, তারা হচ্ছেন- আবুল খায়ের হিরোর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, তার বাবা আবুল কালাম মাতব্বর, বোন কনিকা আফরোজ, ভাই সাজেদ মাতব্বর ও মোহাম্মদ বাশার এবং শ্যালক কাজী ফুয়াদ হাসান।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ অক্টোবর সময়ের মধ্যে আবুল কালাম মাতব্বর শেয়ারটির মোট লেনদেনের ১৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ, আবুল খায়ের (হিরো) ১২.২৬ শতাংশ এবং কনিকা আফরোজ ৩.১২ শতাংশ লেনদেন করেছেন।

ডিএসইর তদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে, ৪ দিনে মাত্র ৪৮টি হাওলার মাধ্যমে ডেল্টা লাইফের ১০ লাখ ৬৬ হাজার শেয়ার কেনাবেচা হয়। আর এই পুরো কেনাবেচাটি হয় হিরো ও তার সহযোগীদের মধ্যে। এই লেনদেনগুলো ছিল প্রকৃতপক্ষে সাজানো ও মিথ্যা লেনদেন। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত ও প্রলুব্ধ করার লক্ষ্যে এসব লেনদেন করা হয়।

একাধিক দিন সিরিজ লেনদেনের মাধ্যমে শেয়ারটির দাম বাড়ানো হয় তদন্তে দেখতে পেয়েছে ডিএসই। একদিনের ঘটনা উল্লেখ করে বলা হয়, সেদিন সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে সিরিজ ট্রেডিং শুরু করা হয়। তখন ডিএসইতে ডেল্টা লাইফের শেয়ারের দাম ছিল ১৫৯ টাকা ৮৯ পয়সা। বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে শেয়ারটির দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১৭৪ টাকা ৪০ পয়সা। মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে শেয়ারটির দাম বাড়ানো হয় ১২ টাকা ৪০ পয়সা বা ৭.৮২ শতাংশ।





Source link