ডিজিটাল বাংলাদেশ বাঙালির অসাধারণ অর্জন: টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

0
103

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাঙালির জন্য অসাধারণ অর্জন।পৃথিবীতে কোন দেশের নামের আগে ডিজিটাল শব্দটির প্রথম প্রবক্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে ইংল্যান্ড, ভারত, মালদ্বীপ, পাকিস্তান ও সর্বশেষ ২০২০ সালে ভিয়েতনাম তাদের দেশের নামের সাথে ডিজিটাল শব্দটি সংযুক্ত করেছে।২০১১ সালে হ্যানোভারে ও ২০১৬ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বা ডিজিটাল শিল্প বিপ্লব ধারণা প্রকাশের মধ্য দিয়ে ডিজিটাল পৃথিবীর বৈশ্বিক রূপদান করেছে।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী আজ শনিবার ঢাকায় বিটিআরসি মিলনায়তনে ডিজিটাল প্লাটফর্মে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উপলক্ষে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও বিটিআরটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো: আফজাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, বিটিআরসি‘র মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফা কামাল, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: সিরাজ উদ্দিন, বিটিসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রফিকুল মতিন, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহাবউদ্দিনসহ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও এর অধীন বিভিন্ন সংস্থার উধ্বতন কর্মকর্তাগণ বক্তৃতা করেন।

টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহসীনুল আলম অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও অধীন সংস্থাসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারিগণ অনুষ্ঠানে সংযুক্ত ছিলেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির হাত ধরে গত প্রায় ১২ বছরে বাংলাদেশের বিস্ময়কর অর্জন পৃথিবীতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জন্মভূমি কেনিয়াবাসিকে উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশকে অনুকরণের আহ্বান ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির অভাবনীয় অর্জনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কালজয়ী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ও আইপিইউ এর সদস্য পদ অর্জন টিএন্ডটি বোর্ড প্রতিষ্ঠা এবং বেতবুনিয়ায় উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা ছিলো সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার লালিত স্বপ্ল বাস্তবায়নের বীজ বপন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১ বছরের পশ্চাদপদতার জঞ্জাল অপসারণ করে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি বিকাশে ভিসেটের মাধ্যমে ইন্টারনেট প্রসার, মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার সাধারণের নাগালে পৌঁছে দিতে যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে ডিজিটালাইজেশনে বঙ্গবন্ধুর রোপন করা বীজটি চারা গাছে পরিণত করেন। পরবর্তীতে নির্বাচনী ইশতেহার দিনবদলের সনদে দেশে ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি প্রণয়ণও তা ঘোষণার বিস্তারিত তুলে ধরে দেশে কম্পিউটার বিপ্লবের অগ্রদূত জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রথম রাজনীতিবীদ যিনি নিজে কম্পিউটারে লিখে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। টিএন্ডটি লাইনকে দেশে প্রথম ইন্টারনেটের বাহন উল্লেখ করে আনন্দপত্র বাংলা সংবাদ সংস্থার সাবেক চেয়ারম্যান সাংবাদিক মোস্তাফা জব্বার বলেন, একটি মডেম ব্যবহার করে ৯৬ সালে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ ও ছবি পাঠানোর মাধ্যমে ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যমের সূচনা শেখ হাসিনার হাত ধরেই আমরা শুরু করেছিলাম। বিশিষ্ট কম্পিউটার বিজ্ঞানী সজীব ওয়াজেদ জয় ছিলেন ডিজিটাল কর্মসূচির নেপথ্য নায়ক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় পৃথিবীর সমপর্যায়ের দেশসমূহের তুলনায় করোনাকালেও বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কর্মকান্ডকে ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশের সুপার হাইওয়ে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন রয়েছে। মানুষের দোরগোড়ায় ইন্টারনেট দ্রুততার সাথে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্টদের আরও বেশী তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও ডাক অধিদপ্তর ও টেরিযোগাযোগ অধিদপ্তরসহ অধীনস্থ সকল সংস্থাসমূহকে দ্রুততার সাথে ডিজিটালাইজেশন কর্মসূচি বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার সোপান উল্লেখ করেন্। তিনি বলেন, জ্ঞান ভিত্তিক ডিজিটাল সাম্য সমাজ প্রতিষ্ঠায় ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার কোন বিকল্প নেই।

Source link