ডিএনসিসি হাসপাতালে ২৫ টাকায় আইসিইউসহ চিকিৎসাসেবা!

0
98

ঢাকা, ২০ এপ্রিল – ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে ২৫ টাকা মূল্যে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রসহ (আইসিইউ) জেনারেল বেডে চিকিৎসা নিতে পারবেন কোভিড-১৯ সংক্রমিত ব্যক্তিরা। ১০ টাকা খরচ করে হাসপাতালটির বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন অপেক্ষাকৃত কম সংক্রমিত ব্যক্তিরা, যাদের জরুরি ভিত্তিতে সেখানে ভর্তির প্রয়োজন নেই।

সোমবার (১৯ এপ্রিল) এ তথ্য নিশ্চিত করেন ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এখানে যারা চিকিৎসা নিতে আসছেন তাদের সবার কিন্তু ভর্তি নাও লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে যারা বহির্বিভাগে আসবেন তারা সরকার নির্ধারিত মূল্যে অর্থাৎ ১০ টাকায় টিকিট কেটে চিকিৎসা নিতে পারবেন। আর যদি কাউকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তবে সেক্ষেত্রে বহির্বিভাগের পরামর্শের পরে আরও ১৫ টাকা দিয়ে টিকিট কাটতে হবে। অর্থাৎ মোট ২৫ টাকার টিকিট কেটে চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন রোগী।’

তিনি বলেন, ‘আইসিইউসহ এখানে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত সব চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাবে খুবই অল্প মূল্যে। এক্ষেত্রে চিকিৎসা ব্যয় বহন করবে সরকার। যদি কোনো রোগীর চিকিৎসার জন্য আলাদা কোনো পরীক্ষা লাগে তবে সেগুলোর জন্য কিছু টাকা নেওয়া হতে পারে। সেটাও খুব একটা বেশি হবে না।’

কীভাবে ও কোন রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হতে পারবেন?- এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এখানে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে বা উপসর্গ আছে এমন যে কেউ আসতে পারবেন চিকিৎসা নিতে। নির্ধারিত কাউন্টার থেকে ১০ টাকা দিয়ে বহির্বিভাগের টিকিট কেটে যে কেউ এখানে চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন। তাদের প্রথমেই নেওয়া হবে আমাদের ট্রায়াজে। সেখানে আবার দুইটা জোন আছে। যাদের মৃদু উপসর্গ আছে বা হেঁটেই আসতে পারছেন চিকিৎসা নেওয়ার জন্য তাদের যদি ভর্তি প্রয়োজন না হয় তবে ভর্তি করা হবে না। সেক্ষেত্রে অবশ্যই তাকে বহির্বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হবে। পরে এসে তিনি আবার রিপোর্ট করতে পারবেন।’

আরও পড়ুন : হেফাজতের লাগামে টান দিল সরকার

ঝুঁকিপূর্ণ ও মুমূর্ষু রোগীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা কোভিড-১৯ সংক্রমিত হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আসবে তারা ট্রায়াজ-২ এ চলে যাবে। সেখানে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা আছে। ছয় বেডের একটা ইমার্জেন্সি আইসিইউ সেটাপ থাকবে নিচ তলাতেই। সেখানে ভেন্টিলেটর পর্যন্ত দেওয়ার সুযোগ থাকছে। তাই ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডেই ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের স্ট্যাবল হওয়ার সুযোগ আছে। সেখানে তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পাঠিয়ে দেওয়া হবে দুই তলায় মেডিসিন ওয়ার্ডে। এই মেডিসিন ওয়ার্ডে আছে ৫০টি বেড রয়েছে। যেখানে ৩০জন পুরুষ ও ২০জন নারীকে চিকিৎসা দেওয়া যাবে।’

তিনি বলেন, ‘এই ট্রায়াজে যদি কারও পরিস্থিতি খারাপ দেখা যায় তবে তাকে আমরা পাঠিয়ে দেবো আইসিইউ বা এইচডিইউতে। আর যদি একটু স্ট্যাবল হয় বা ঝুঁকির মাত্রা কমে আসে তবে আমরা তাদের কেবিনে দিয়ে দেবো। এই কেবিনগুলোতে সেন্ট্রাল অক্সিজেনসহ হাই-ফ্লো নজল ক্যানোলা সুবিধা থাকবে। এক্ষেত্রে মনিটরের ব্যবস্থাও করা হবে খুব দ্রুতই। ওখানে তারা কিছুটা স্ট্যাবল হলে তাদের ধীরে ধীরে ডিসচার্জের ব্যবস্থা করা হবে। এটাই আমাদের আপাতত স্টেপ-১ ও স্টেপ-২ পরিকল্পনা। এক্ষেত্রে যারা হাসপাতালের অন্তঃবিভাগে চিকিৎসা নেবেন তারা সরকার নির্ধারিত মূল্যেই চিকিৎসাসেবা পাবেন।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) সাবেক এই পরিচালক বলেন, ‘এখানে কিন্তু আমরা রোগীদের ভর্তির ক্ষেত্রে কিছু ক্রাইটেরিয়া ঠিক করেছি। যারা সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে ও হাসপাতালে বেড না পেয়ে বাইরে ঘুরতে হচ্ছে তারা আমাদের এখানে আসলে অবশ্যই চিকিৎসাসেবা পাবে। যারা বিভিন্ন হাসপাতালে আছেন তাদের বিষয়ে আরও দুই/তিন দিন পরে যোগাযোগ করতে হবে। এক্ষেত্রে যারা হাসপাতাল পায়নি এমন রোগীদের এখানে ভর্তি করানোর পর যদি বেড খালি থাকে তখন তাদেরও ভর্তি করব।’

উল্লেখ্য, সোমবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে রোগী ভর্তি শুরু হয়েছে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) চিকিৎসা দেওয়ার জন্য নির্মিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে। এদিন সকাল আটটা থেকে রোগী ভর্তি শুরু হয়। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রথম দিনেই টিকেট কেটে চিকিৎসা নিয়েছেন ১১৯ জন। এদের মধ্যে প্রথম দিন রাত ৯টা পর্যন্ত ৬৩ জন রোগীকে এখানে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জনকে নেওয়া হয়েছে হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। আর জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে ৩৯ জনকে।

সূত্র : সারাবাংলা
এন এ/ ২০ এপ্রিল

Source link