ডায়াবেটিস রোগীর ডায়েট

135


লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর ৪২২ মিলিয়ন মানুষ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। আর তাদের বেশিরভাগই নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশের মানুষ। প্রতিবছর সারাবিশ্বে ১ দশমিক ৬ মিলিয়ন মানুষ ডায়াবেটিসে মারা যান। আর তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই জরুরি। বলা হয়ে থাকে, সঠিক খাদ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। কেমন হতে পারে ডায়াবেটিক রোগীদের খাদ্যাভ্যাস, তা নিয়েই আজকের আলোচনা।

তথাকথিত ডায়াবেটিস ফুড এড়িয়ে চলুন
ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে বাজারে বাড়ছে তথাকথিত ডায়াবেটিস ফুড। এসব খাবারের প্যাকেটের গায়ে ডায়াবেটিক ফ্রেন্ডলি লেখা থাকলেও, সঠিক খাদ্যাভ্যাসের চেয়ে এসব খাবার বেশি উপকারি এমন কোন প্রমাণ এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায় নি। প্রকৃতপক্ষে, এসব খাবারে অন্যান্য প্যাকেটজাত খাবারের চেয়ে অনেক বেশি ক্যালরি থাকতে পারে যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে বাড়িয়ে দিতে পারে।

ওষুধের বদলে সঠিক খাবার বেছে নিন
মিনারেল ও ভিটামিন সাপলিমেন্ট বা মাল্টিভিটামিন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে-এমন কোন প্রমাণ এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায় নি। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ না খাওয়াই ভালো। উপরন্তু পর্যাপ্ত পুষ্টি পেতে সঠিক খাবার খান যা আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করবে।

বেশি বেশি শাক-সবজি ও ফল খান
আমরা সবাই জানি, শাক-সবজি ও ফল আমাদের জন্য খুবই উপকারি। ফলে ভিটামিন, মিনারেল ও প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। অনেকেই ভাবেন, ফল শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফলে প্রাকৃতিক চিনি থাকে, যা শরীরের জন্য খুবই উপকারি। তবে ফলের জুসের চেয়ে সরাসরি ফল খাওয়াকেই বেশি উপকারি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। একবেলা বেশি করে ফল খাওয়ার চেয়ে সারাদিন অল্প অল্প করে ফল খাওয়া শরীরের জন্য বেশি উপকারি বলে মনে করেন তারা।

উপকারি ফ্যাট
সুস্থ্য থাকার জন্য অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের মতো ফ্যাট বা চর্বিও খুবই জরুরি। ফ্যাট আমাদের শরীরে শক্তি যোগায়। শরীরে বিভিন্ন ধরনের ফ্যাটের কাজ ভিন্ন। এমন কিছু খাবারের তালিকা করুন যাতে উপকারি ফ্যাট পাওয়া যায়। যেমন, লবণছাড়া বাদাম, বিভিন্ন ধরনের বীজ, অ্যাভোকাডো, তেলযুক্ত মাছ, অলিভ অয়েল, সানফ্লাওয়ার অয়েল ইত্যাদি। অন্যদিকে সম্পূরক ফ্যাট রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। সম্পূরক ফ্যাটযুক্ত খাবারগুলো হলো, রেড মিট, প্রক্রিয়াজাত মাংস, ঘি, বাটার, কেক, বিস্কুট, পেস্ট্রি ইত্যাদি।

লবণ কম খান
বেশি লবণ খেলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। এতে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে ডায়াবেটিস রোগীদের ঝুঁকি অনেক বেশি। লবণযুক্ত প্যাকেটজাত খাবার থেকে বিরত থাকুন। খাবারে স্বাদ আনতে লবণের পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের হার্ব বা মশলা ব্যবহার করতে পারেন।

প্রক্রিয়াজাত ও রেড মিট কম খান
অনেকেই ওজন ঠিক রাখতে খাদ্যাভ্যাসে কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে মাংস খাওয়া বাড়িয়ে দেন। কিন্তু রেড মিট ও প্রক্রিয়াজাত মাংস যেমন বিকন, সসেজ, ভেড়া, খাসি ও গরুর মাংস হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
তাই এসব খাবারের বিকল্প হিসেবে ডাল, ডিম, মাছ, মুরগীর মাংস ও লবণছাড়া বাদাম খাওয়া যেতে পারে। কারণ এসব খাবারে অনেক বেশি ফাইবার থাকে ও শরীরের গ্লুকোজের মাত্রা তেমন একটা বাড়ায় না।

খাবারে ফাইবার যুক্ত করুন
প্রতিবেলা খাবারে অন্তত ৮ গ্রাম ফাইবার রাখার চেষ্টা করুন। যখন বেশি কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খাবেন তখন অবশ্যই এটি রাখবেন। কারণ, ফাইবার আপনার শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখবে, হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখবে এবং দীর্ঘসময় ক্ষুধা মেটাবে। ডায়বেটিক রোগীদের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ, ডায়াবেটিসে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
খাবারে ফাইবার বাড়াতে প্রতিদিন মটরশুঁটি, সিম, ওটস, বার্লি, আপেল, পিয়ারস, মিষ্টি আলু, ব্রকলি, গাজর, বিট ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। আবার সাধারণ চালের পরিবর্তে লাল চাল, লাল আটা খেতে পারেন।

সারাবাংলা/এসএসএস





Source link