ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘মধ্যপ্রাচ্য শান্তি’ পরিকল্পনা প্রকাশ

0
264

বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ‘মধ্যপ্রাচ্য শান্তি’ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের অবিভক্ত রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে রক্ষার অঙ্গীকার করা হয়েছে ওই পরিকল্পনায়।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশে নিয়ে এই পরিকল্পনা তুলে ধরেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এখবর জানিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, এই প্রথমবারের মতো ইসরায়েল একটি ধারণামূলক মানচিত্র প্রকাশ করতে রাজি হয়েছে। শান্তি স্থাপনের জন্য ‘নিজেদের ভূখণ্ড’ ছেড়ে দিতে সম্মতও হয়েছে। তিনি বলেন, ইসরায়েল অনেক করেছে। আমরা তাদের সঙ্গে একটি যৌথ কমিটি গঠন করব ধারণামূলক মানচিত্রের আরও বিস্তারিত ও নির্দিষ্ট করতে। যাতে দ্রুত স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব হয়।

ট্রাম্প বলেন, ওই মানচিত্রে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দ্বিগুণ হবে ও পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনের রাজধানী থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্র গর্বের সঙ্গে সেখানে দূতাবাস চালু করবে।

২০১৪ সালে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন আলোচনা কোনো মীমাংসা ছাড়াই বন্ধ হয়ে যায়। সেই আলোচনা নতুন করে আবার শুরু হবে কিনা, সে বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবে কিছু স্পষ্ট করা হয়নি। এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ফিলিস্তিন প্রস্তাবটি নিয়ে সংশয়ী থাকবে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত। তবে ধীরে ধীরে তারা আলোচনার জন্য রাজি হবে।

একটি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ে ফিলিস্তিনের যে দীর্ঘদিনের লড়াই, সে পথে এই পরিকল্পনা বড়সড় বাধা হয়েই সামনে এসেছে। প্রস্তাবটি নিয়ে ইসরায়েল কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

অপরদিকে, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এসব পরিকল্পনাকে ‘ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখান করেছেন। টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে বলতে চাই, জেরুজালেম বিক্রির জন্য নয়। আমাদের অধিকার বিক্রির জন্য নয়। এ নিয়ে দর কষাকষির কোনো সুযোগ নেই। আপনাদের পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হবে না।

এ পরিকল্পনা ঘোষণার পরপরই গাজায় বিক্ষোভ শুরু করেন ফিলিস্তিনিরা। তবে ট্রাম্পের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের বিবাদ নিরসনে এ শান্তি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর তত্ত্বাবধানে ছিলেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

পরিকল্পনাটি প্রকাশ উপলক্ষে সোমবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও বিরোধী দলীয় নেতা বেনি গান্তজ। নেতানিয়াহু ওই দিন ট্রাম্পকে ইসরায়েলের সবচেয়ে ভালো বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে পরিকল্পনার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শতাব্দীর সেরা চুক্তি হলো শতাব্দীর সেরা সুযোগ। আমরা তা এড়িয়ে যাব না।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলেছেন, বুধবার প্রস্তাবটি নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার জন্য মস্কো যাবেন নেতানিয়াহু।

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিকভাবেই মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ইসরায়েল-ঘেঁষা। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার এক বছরের মধ্যে ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতির ঘোষণা দেন। এর পরে ইসরায়েলের সঙ্গে আর কোনও শান্তি আলোচনায় মার্কিন মধ্যস্ততা মানবে না বলে ঘোষণা দেয় ফিলিস্তিনিরা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের তরফে বারবারই ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি বা শতাব্দীর সেরা চুক্তি নামে পরিচিত একটি শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণার কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জারেড কুশনার এই পরিকল্পনার নেপথ্যে কাজ করেছেন। বিভিন্ন সময়ে এই পরিকল্পনার বিভিন্ন অংশ সংবাদমাধ্যমে উঠে আসলেও যুক্তরাষ্ট্র তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে