ঝরাপাতার কান্না থামানোর আকুতি ক্যানভাসে

76


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: পাষাণ করাতের চোখ পড়েছে। ধ্যানমগ্ন সন্ন্যাসীর মতো স্থির হয়ে আছে বৃক্ষগুলো। তরুলতার ফাঁক গলে আসা রোদ ফিকে হয়ে গেছে। পাতা ঝরার শব্দ আজ ম্রিয়মান। এঁকেবেঁকে যাওয়া সবুজ পাহাড়ের বুকজুড়ে দীর্ঘশ্বাসের শব্দ, বাঁচার তুমুল আকুতি।

চট্টগ্রামের প্রাণ-প্রকৃতির অপরূপ বেষ্টনী সিআরবি’র এমন ক্রন্দন অনুভব করছেন চারুশিল্পী খাজা কাইয়ূম। নীরব ক্রন্দনের সে দৃশ্য তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন ক্যানভাসে, নাম দিয়েছেন ‘ঝরাপাতার কান্না’।

ঝরাপাতার কান্না থামানোর আকুতি ক্যানভাসে

চট্টগ্রাম চারুকলা কলেজের সাবেক শিক্ষক খাজা কাইয়ূম সারাবাংলাকে বলেন, ‘আপনি যদি এখন সিআরবিতে যান, তাহলে আপনার মনে হবে প্রকৃতি যেন কাঁদছে। মৃত্যুমুখে দাঁড়িয়ে মানুষ যেমন বাঁচার আশায় ছটফট করে, সিআরবির গাছ-লাতাপাতা-সবুজ ঘাসও যেন আজ বাঁচার আকুতি জানাচ্ছে। সরকারের সিদ্ধান্ত, এখানে একটি বেসরকারি হাসপাতাল বানাবে। আমি শিল্পী মানুষ। যুদ্ধ করা আমার কাজ নয়। আমি ছবি এঁকে বলছি— আপনাদের এই সিদ্ধান্তের কারণে প্রকৃতি আজ কাঁদছে। আপনাদের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন। প্রকৃতিকে বাঁচতে দিন।’

খাজা কাইয়ূমসহ ১৮ শিল্পী মিলে ‘আর্ট ক্যাম্প: শিল্পীর ভাবনায় সিআরবি’ শীর্ষক এক কর্মসূচি শুরু করেছেন। পাঁচ দিনের এই কর্মসূচি মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে সিআরবির সাত রাস্তার মোড়ে শুরু হয়েছে।

ঝরাপাতার কান্না থামানোর আকুতি ক্যানভাসে

শিল্পীদের মধ্যে আরও আছেন— নাজলী লায়লা মনসুর, নিলুফার চামান, সঞ্জীব দত্ত, জাহেদ আলী চৌধুরী, জয়দেব রোয়াজা, সঞ্জীব বড়ুয়া, সঞ্জয় দাশ, শতাব্দী সোম, সুব্রত দাশ, জয়নাল আবেদীন আজাদ, শারদ দাশ, রাজীব দত্ত, জিহান করিম, মামুর আহসান, রাসেল কান্তি দাশ, জয়তু চাকমা এবং মং মং শো।

প্রথম দিনে শিল্পীরা ক্যানভাসে নানাভাবে সিআরবির প্রাণ-প্রকৃতিকে ফুটিয়ে তুলেছেন। কেউ ব্রিটিশ স্থাপত্য রেড বিল্ডিং এঁকেছেন, কেউ বা আবার রঙ-তুলিতে ফুটিয়ে তুলেছেন নানা দৃশ্যশিল্প। চট্টগ্রামসহ সারাদেশের দৃশ্যশিল্পীদের শিল্পচর্চার অন্যতম প্রিয় স্থান সিআরবি যেন রক্ষা পায়, ক্যানভাসে ফুটে উঠেছে এমন আকুতি।

ঝরাপাতার কান্না থামানোর আকুতি ক্যানভাসে

বিকেলে একুশে পদকপ্রাপ্ত দুই গুণীজন সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন এবং কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন এই আর্ট ক্যাম্প পরিদর্শনে যান। এসময় আর্ট ক্যাম্পের আহবায়ক ভাস্কর অলক রায় ও সদস্য সচিব চারুশিল্পী জসিম উদ্দিন ছিলেন।

অনুপম সেন বলেন, ‘সিআরবির প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় যে আন্দোলন চলছে, এটি চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের আন্দোলন। অতীতে এমন আন্দোলনের অগ্রভাগে যেমন শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মীরা থেকেছেন, এবারও তারা এগিয়ে এসেছেন। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় সিআরবি রক্ষা পাবেই।’

ঝরাপাতার কান্না থামানোর আকুতি ক্যানভাসে

শিল্পী জসিম উদ্দিন সারাবাংলাকে জানিয়েছেন, ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই আর্ট ক্যাম্প চলবে। শেষ দিনে শিল্পীদের আঁকা সব ছবি প্রদর্শন করা হবে সিআরবিতে। এরপর চট্টগ্রামের চারুকলা ইনস্টিটিউট এবং ঢাকার একটি ভেন্যুতেও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।

ছবি: শ্যামল নন্দী

সারাবাংলা/আরডি/টিআর





Source link