জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

64


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম। বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে বিকাল ৩টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনার্স ১ম বর্ষে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

একইদিন বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়। এ উপলক্ষে ক্যাম্পাসকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। শুক্রবার (২২ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় কেক কেটে, শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হয়।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল, আগত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিকল্প নেই। আমরা আশা করবো এই বিশ্ববিদ্যালয় সারা দেশের কলেজগুলোর শুধু অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ দায়িত্ব পালন করবে না, পাশাপাশি অ্যাকাডেমিক রিফর্মের দায়িত্বও পালন করার সুযোগ থাকা দরকার। অ্যাকাডেমিক বিষয়ও যদি এই বিশ্ববিদ্যালয় দায়িত্ব গ্রহণ করে তাহলে সমন্বিতভাবে শিক্ষার মানোন্নয়নে বড় ভূমিকা পালন করতে পারবে এই বিশ্ববিদ্যালয়।’

সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এটির আজ ২৯তম জন্মবার্ষিকী। এটি সত্যিই আনন্দের। শিক্ষার মানোন্নয়নে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যে বৃহৎ সংখ্যক গ্রাজুয়েট রয়েছেন তাদের বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা নতুন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করছি, যাতে শিক্ষার্থীরা উদ্যোক্তা এবং কর্মমুখি শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সারাদেশের কলেজগুলোতে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও অনেক স্বল্প আয়ের মানুষের সন্তানরাও এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা পালন করছেন। এই সুযোগ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উন্মুক্ত না করলে আমাদের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হতো।’

স্বাগত বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘আমরা শিক্ষা ও জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে উচ্চশিক্ষার এই পাদপীঠকে আলোকবর্তিকা হিসেবে পৌঁছে দিতে চাই। এটিই হবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, রক্তের ঋণ। এই ঋণ শোধ করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।’

আলোচনা সভা শেষে বরেণ্য রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী প্রফেসর ড. রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, ফাতেমা তুজ জোহরা, কিরণ চন্দ্র রায়সহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সঙ্গীত কলেজ, সুরের ধারা কলেজের শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, আমন্ত্রিত অতিথি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর আবদুস সালাম হাওলাদার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ বিভিন্ন দফতরের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/টিএস/এমও





Source link