“জাতীয় সংগীত” কে অপমান করায় নোবেল কে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবেঃ মিতিলা দাশ

লেখকঃ মিতিলা দাশ- নোবেল ওরফে মাইনুল আহসান নোবেলের একটি লাইভ অনুষ্ঠান ঘিরে আলোচনা সমালোচনা তুঙ্গে! সেই লাইভ অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, “রবীন্দ্রনাথের লেখা জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ যতটা না দেশকে এক্সপ্লেইন করে তারচেয়ে কয়েক হাজার গুণে এক্সপ্লেইন করে প্রিন্স মাহমুদ স্যারের লেখা ‘বাংলাদেশ’ এই গানটা।”
জনাব নোবেল আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, গানটি ২০০০ সালে ‘পিয়ানো’ শিরোনামের একটি মিশ্র অ্যালবামে “বাংলাদেশ” নামে প্রথম প্রকাশ হয়। গানটির লেখক এবং সুরকার প্রিন্স মাহমুদ এবং গেয়েছিলেন নগর বাউল খ্যাত জেমস। এই গানের একটি লাইনে “তুমি ধানের শীষে মিশে থাকা শহীদ জিয়ার স্বপন” কথাটির জন্য সেই সময় বিএনপি সরকার আমলে গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাই। তা স্বত্বেও, বিএনপির কোন নেতাকর্মী, সমর্থক এমনকি খোদ এই গানের স্রষ্টা প্রিন্স মাহমুদ কিংবা গায়ক জেমস কেউই এটিকে জাতীয় সঙ্গীত করার মতো উদ্ভট আবদার কিংবা দাবি করেন নাই। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি ” গানটা কিভাবে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হলো সেই ইতিহাসটা জানেন মিস্টার নোবেল??? ১৯৭০ সালে বাংলাদেশে একটা ছবি নির্মাণ হয়েছিল যার নাম “জীবন থেকে নেওয়া”, পরিচালক ছিলেন জহির রায়হান। এই ছবির একটি দৃশ্যের মধ্যে ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত ” আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি” গানটা প্রথম পশ্চিম পাকিস্তানি শোষকদের থেকে মুক্তিকামী বাঙালির মণিকোঠায় চলে আসে। এরপর থেকে তৎকালীন পূর্ব বাংলায় যতো প্রতিবাদী সমাবেশ হয়েছে এই গান সবখানেই বাজানো হতো।

পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ গঠিত হয় স্বাধীন বাংলার কেন্দ্রীয় সংগ্রাম পরিষদ। এরপর ৩ মার্চ তারিখে ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভা শেষে ঘোষিত ইশতেহারে এই গানকে জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে স্বাধীন বাংলাদেশের সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে এই গান প্রথম জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গাওয়া হয়। সেই থেকে এটি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত।

!-- Composite Start -->
Loading...

এমনকি, স্রোতাদের পছন্দানুসারে বিবিসি বাংলার তৈরী সেরা বিশটি বাংলা গানের তালিকায় এই গানটি প্রথম স্থান দখল করে। শুধু তাই নয়, ২০১৪ সালের ২৬ মার্চ ঢাকার জাতীয় প্যারেড ময়দানে বাংলাদেশের একসঙ্গে ২৫৪,৫৩৭ জন ব্যক্তি এই জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ায় মাধ্যমে গিনেস বিশ্ব রেকর্ড করে। কাজেই নোবেল সাহেব, ইতিহাস জেনে তারপর মন্তব্য করবেন। আপনার এই মন্তব্য শুধু একটা দেশের জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি অশ্রদ্ধা নয় বরং বাংলাদেশের স্বাধীনতা তথা বাঙালি জাতিস্বত্বার উপর চরম অসম্মান। এর জন্য অবশ্যই আপনাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে দেশবাসীর কাছে। সোজা কথা, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় সঙ্গীত এবং জাতীয় পতাকা এই চার বিষয়ে কোন আপোষ নাই।

নোবেলের এই ইস্যুতে গুটিকয়েক আওয়ামী লীগ সমর্থক ছাড়া বেশিরভাগের নিরবতা আমাকে অবাক করেছে। এই নিরবতার অর্থ কি??? বঙ্গবন্ধুর সাথে জিয়ার তুলনা করা এই গানকে জাতীয় সঙ্গীতের দাবি করা নোবেলের এই বক্তব্যর সাথে আপনারা কি তাহলে মনে মনে “সহমত”???
ব্যারিস্টার সুমন সাহেব, এখনো আপনি নিরব থাকবেন??? লাইভে এসে আপনার অবস্থান ক্লিয়ার করুন???

আওয়ামী লীগের বাইরে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেন বলে দিনরাত গলা ফাটান তারা এখন কোথায়??? বিশেষ করে গণজাগরণ মঞ্চের ইমরান এইচ সরকার ভাইয়ের কাছ থেকে একটা প্রতিবাদী লেখা তো আশা করতে পারি???

বি.দ্রঃ লেখাটি বিষের বাঁশী পত্রিকার ডেস্ক রিপোর্টার মিতিলা দাশের ভক্ত/পাঠক-পাঠিকাদের সুবিধার্থে হুবহু তুলে ধরা হল।

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.